আলোচনার বিষয়

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

কবিতায় ভাব এবং অন্ত্যমিলের মধ্যে সম্পর্ক

আমি বড় কবি হয়ে গেছি বা বড় কবিতা বিশ্লষক হয়ে গেছি তা মনে করিনা।কবিতা লেখায় এবং বিশ্লেষণে আমার অনেক দুর্বলতা আছে।তবে কবিতা লিখলে পর পর যে কয় লাইনের মধ্যে অন্ত্যমিল থাকবে
সেগুলোর মধ্যে ভাবের সম্পর্ক থাকতে হবে বলে আমি মনে করি।যেমন এক লাইনে যদি বলি " আমি ঢাকা যাই" এবং পরের লাইনে যদি বলি  "আমি ভাত খাই"। তাহলে "যাই" এবং "খাই" এর মধ্যে অন্ত্যমিল হল কিন্তু প্রথম লাইনের সাথে দ্বিতীয় লাইনের ভাবের সম্পর্ক রক্ষা হলনা।কারন ঢাকা যাওয়ার সাথে ভাত খাওয়ার তেমন কোন সম্পর্ক নাই।যদি দ্বিতীয় লাইনে বলতাম" ঢাকা যাইতে যাইতে গান গাই"। তাহলে ভাবের সম্পর্ক রক্ষা হত।রবীন্দ্রনাথ "আমাদের ছোট নদী " কবিতায়  প্রথম লাইনে লিখেছেন " আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে" দ্বিতীয় লাইনে লিখেছেন " বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে"। অর্থাৎ তিনি "বাঁকে" এবং " থাকে" এর মধ্যে অন্ত্যমিল দিয়েছেন।সেই সাথে তিনি উভয় লাইনে নদীর কথা বর্ণনা করে ভাবের সম্পর্ক রক্ষা করেছেন।তিনি যদি প্রথম লাইনে বলতেন" আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে"। আর দ্বিতীয় লাইনে তিনি যদি বলতেন " আমার ছোট মেয়ে দিল্লীতে থাকে"। তাহলে বাঁকে এবং থাকের মধ্যে অন্ত্যমিল রক্ষা হলেও প্রথম লাইনের ভাবের সাথে দ্বিতীয় লাইনের ভাবের সম্পর্ক রক্ষা হতনা।কারন "নদীর সাথে " "মেয়ের দিল্লী থাকার " কোন সম্পর্ক নেই।
আমার এই লেখাটি লেখার কারন হল আসরে দু চার জন কবি অন্ত্যমিল  রক্ষা করে কবিতা লিখলেও ভাবের সম্পর্ক রক্ষা করেননা।তাদের হিতার্থেই আমার লেখা।কেউ যদি মনে করেন ভাবের সম্পর্ক রক্ষা করার কোন দরকার নেই তাহলে তারা আমার লেখাটি এড়িয়ে যেতে পারেন।

অভিযোগ করুন
লেখাটি ১০৬ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ০৬/০১/২০১৭, ০৪:৩৫ মি:

মন্তব্য যোগ করুন

লেখাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত ৮টি মন্তব্য এসেছে।

  • শাহিন আলম সরকার ০৮/০১/২০১৭
    বেশ ভাল।।।
  • এলাহি আল্ আমিন ০৬/০১/২০১৭
    এত! এত!! এত !!! খুশি হয়েছি যে..........। বাক্য হতে হলে যেমন বাক্যে যোগ্যতা বলে কথা থাকে, তেমনি কবিতাতে অন্ত্যমিলের সাথে ভাবের সম্পর্ক রক্ষা হওয় দরকার।আপনার সাথে আমি সহমত পোষন করছি। শুভ কামনা রইল।
  • প্রাসঙ্গিক লেখা। শুভেচ্ছা।
    • সহমত কবিদ্বয়ের সাথে।

      নিচে একটি কবিতা দিলাম ...শুধু পড়ে দেখার অনুরোধ।

      কবির মুক্তি

      কাজী নজরুল ইসলাম

      মিলের খিল খুলে গেছে!
      কিলবিল করছিল, কাঁচুমাচু হয়েছিল-কেঁচোর মতন-পেটের পাঁকে কথার কাতুকুতু!
      কথা কি ‘কত্থক’ এ নাচ নাচবে চৌতালে ধামারে ?
      তালতলা দিয়ে যেতে হলে
      কথাকে যেতে হয় কুঁতিয়ে কুঁতিয়ে
      তালের বাধাকে গুঁতিয়ে গুঁতিয়ে
      এই যা:! মিল হয়ে গেল!
      ও তালতলার কেরদানি!-দুত্তোর!
      মুরগিছানায় চিলের মতন
      টেকো মাথায় ঢিলের মতন
      পড়বে এবার কথার বাণ্ডিল।
      ছন্দ এবার কন্ধ-কাটা পাঁঠার মতন ছটফটাবে।
      লটপটাবে লুচির লেচির আটার মতন!
      অক্ষর আর যক্ষর টাকা গোণার মতো গুনতে হবে না।-
      অঙ্ক-লক্ষ্মীর ভয়ে কাব্য-লক্ষ্মী থাকতেন
      কুঁকড়োর মতন কুঁকড়ে।

      ভাববেন, মিলের চিল কখন দেবে ঠুকরে!
      আবার মিল!-
      গঙ্গার দুধারে অনেক মিল,
      কটন মিল, জুট মিল, পেপার মিল-
      মিলের অভাব কি?
      কাব্য-লোকে মিল থাকবে কেন?
      ওকে ধুলোর সঙ্গে মিলিয়ে দাও!
      ওখানেও যে মিল আছে!
      ধুলো যদি কুলোয় যায় চুলোয় যায়,
      হুলো ভুলোয় যদি ল্যাজে মাখে!
      ল্যাজ কেটে বেঁড় করে দেবো!
      এঁড়ে দামড়া আছে যে!
      আবার মিল আসছে!-মুশকিল আসান!
      অঙ্ক-লক্ষ্মীকে মানা করেছিলাম মিলের শাড়ি কিনতে।
      অঙ্ক-লক্ষ্মীর জ্বালায় পঙ্ক-লক্ষ্মী পদ্ম আর ফোটে না!
      তা বলতে গেলে লঙ্কা-কাণ্ড বেঁধে যাবে!-
      আজ বিনা প্রয়াসেই অনুপ্রাসের পাশ পেয়েছি দেখছি!
      মিল আসছে- যেন মিলানের মেলায় মেমের ভিড়!
      নাঃ !-কবিতা লিখি।
      তাকে দেখেছিলাম-আমার মানসীকে
      ভেটকি মাছের মত চেহারা!
      আমাকে উড়ে বেহারা মনে করেছিল!
      শাড়ির সঙ্গে যেন তার আড়ি।
      কাঁখে হাঁড়ি-মাথায় ধামা!
      জামা ব্লাউজ সেমিজ পরে না।
      দরকারই বা কি?
      তরকারি বেচে।
      সরকারি ষাঁড়ের মতন নাদুসনুদুস!
      চিচিঙ্গের মতন বেণী দুলছিল।
      সে যে-দেশের, সে-দেশে আঁচলের চল নাই!
      চলেন গজ-গমনে!
      পায়ে আলতা নাই, চালতার রং!
      নাম বললে-‘আজুলি।’
      আমি বললাম-‘ধ্যেৎ, তুমি কাজুলি!’
      হাতে চুড়ি নাই, তুড়ি দেয় আর মুড়ি খায়।
      গলায় হার নাই, ঘ্যাগ আছে।
      পায়ে গোদ।
      আমি বলি, ‘প্যাগোডা সুন্দরী!’
      গান গাই, ‘ওগো মরমিয়া!’
      ও ভুল শোনে! ও গায় -‘ওগো বড় মিঞা!’
      থাকত হাতে ‘এয়ার গান!’
      ও গায় গেঁয়ো সুরে, চাঁপাফুল কেয়ার গান।-
      দাঁতে মিশি, মাঝে মাঝে পিসি বলতে ইচ্ছে করে।
      ডাঙর মেয়েরা আমাকে হাঙর ভাবে।
      হৃদয়ে বাঁকুড়ের দুর্ভিক্ষ।
      ভিক্ষা চাই না, শিক্ষা দিয়ে দেবে।
      তাই ধরেছি রক্ষাকালির চেড়িকে।
      নেংটির আবার বকেয়া সেলাই!
      কবিতা লেখার মশলা পেলেই হল
      তা না-ই হল গরম মশলা।-
      নাঃ, ঘুম আসছে, রান্নাঘরের ধূম আসছে।
      বৌ বলে, নাক ডাকছে, না শাঁখ ডাকছে।
      আবার মিল আসছে-ঘুম আসছে-
      দুম্বা ভেড়ার দুম আসছে!
    • ধন্যবাদ