সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

বাংলা কবিতা

বাংলা-কবিতা ওয়েবসাইটটি প্রখ্যাত বাঙালি কবিদের বাংলা কবিতার এক অনলাইন সংগ্রহশালা। পাশাপাশি সৌখিন কবিদের জন্য রয়েছে "কবিতার আসর" বিভাগ। এখানে যে কেউ তার স্বরচিত কবিতা প্রকাশ করতে পারেন। এছাড়াও কবি ও কবিতা নিয়ে আলোচনার জন্য রয়েছে "আলোচনা সভা", এবং উপস্থিত কবিদের সাথে সরাসরি কথা বলার জন্য "কবিদের আড্ডা" নামক নতুন বিভাগ। আমাদের বিশ্বাস আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা বাংলা সাহিত্য, কবিতা ও আমাদের দেশীয় কৃষ্টি-কালচারকে বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা নতুন প্রজন্মের বাঙালিদের কাছে আরও পরিচিত করে তুলবে।

Bangla Kobita is a collection of Bengali poems from renowned Bengali poets. It also features a section "Kobitar Ashor" where new poets can publish their poems. We also offer a new section "Alochona Shobha" to discuss on poet and poetry related topics, and "Kobider Adda" to live chat with other poets. We hope this site will bring Bangla literature, poetry and traditions of our culture closer to Bengali people worldwide.

সাম্প্রতিক কবিতাসমূহ

বিখ্যাত কবির কবিতা আসরের কবিতা

বাছাইকৃত কবিতা

১৪০০ সাল

   আজি হতে শতবর্ষ পরে
কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি
      কৌতূহলভরে--
   আজি হতে শতবর্ষ পরে।
আজি নববসন্তের প্রভাতের আনন্দের
      লেশমাত্র ভাগ--
আজিকার কোনো ফুল, বিহঙ্গের কোনো গান,
   আজিকার কোনো রক্তরাগ
অনুরাগে সিক্ত করি পারিব কি পাঠাইতে
      তোমাদের করে
   আজি হতে শতবর্ষ পরে?।


তবু তুমি একবার খুলিয়া দক্ষিণদ্বার
      বসি বাতায়নে
সুদূর দিগন্তে চাহি কল্পনায় অবগাহি
      ভেবে দেখো মনে--
   একদিন শতবর্ষ আগে
চঞ্চল পুলকরাশি কোন্‌ স্বর্গ হতে ভাসি
   নিখিলের মর্মে আসি লাগে--
নবীন ফাল্গুনদিন সকল বন্ধনহীন
      উন্মত্ত অধীর--
উড়ায়ে চঞ্চল পাখা পুষ্পরেণুগন্ধমাখা
      দক্ষিণসমীর--
সহসা আসিয়া ত্বরা রাঙায়ে দিয়েছে ধরা
      যৌবনের রাগে
   তোমাদের শতবর্ষ আগে।
সেদিন উতলা প্রাণে, হৃদয় মগন গানে,
      কবি এক জাগে--
কত কথা পুষ্পপ্রায় বিকশি তুলিতে চায়
      কত অনুরাগে
   একদিন শতবর্ষ আগে।
   আজি হতে শতবর্ষ পরে
এখন করিছে গান সে কোন্‌ নূতন কবি
      তোমাদের ঘরে?
আজিকার বসন্তের আনন্দ-অভিবাদন
   পাঠায়ে দিলাম তাঁর করে।
আমার বসন্তগান তোমার বসন্তদিনে
   ধ্বনিত হউক ক্ষণতরে
হৃদয়স্পন্দনে তব ভ্রমরগুঞ্জনে নব
      পল্লবমর্মরে
   আজি হতে শতবর্ষ পরে।



২ ফাল্গুন, ১৩০২

স্পর্শমণি

নদীতীরে বৃন্দাবনে সনাতন একমনে
              জপিছেন নাম,
হেনকালে দীনবেশে ব্রাহ্মণ চরণে এসে
              করিল প্রণাম।
শুধালেন সনাতন, "কোথা হতে আগমন,
              কী নাম ঠাকুর?'
বিপ্র কহে, "কিবা কব, পেয়েছি দর্শন তব
              ভ্রমি বহুদূর।
জীবন আমার নাম, মানকরে মোর ধাম,
              জিলা বর্ধমানে--
এতবড়ো ভাগ্যহত দীনহীন মোর মতো
              নাই কোনোখানে।
জমিজমা আছে কিছু, করে আছি মাথা নিচু,
              অল্পস্বল্প পাই।
ক্রিয়াকর্ম-যজ্ঞযাগে বহু খ্যাতি ছিল আগে,
              আজ কিছু নাই।
আপন উন্নতি লাগি শিব-কাছে বর মাগি
              করি আরাধনা।
একদিন নিশিভোরে স্বপ্নে দেব কন মোরে--
              পুরিবে প্রার্থনা!
যাও যমুনার তীর, সনাতন গোস্বামীর
              ধরো দুটি পায়!
তাঁরে পিতা বলি মেনো, তাঁরি হাতে আছে জেনো
              ধনের উপায়।'

শুনি কথা সনাতন ভাবিয়া আকুল হন--
              "কী আছে আমার!
যাহা ছিল সে সকলি ফেলিয়া এসেছি চলি--
              ভিক্ষামাত্র সার।'
সহসা বিস্মৃতি ছুটে, সাধু ফুকারিয়া উঠে,
              "ঠিক বটে ঠিক।
একদিন নদীতটে কুড়ায়ে পেয়েছি বটে
              পরশমানিক।
যদি কভু লাগে দানে সেই ভেবে ওইখানে
              পুঁতেছি বালুতে--
নিয়ে যাও হে ঠাকুর, দুঃখ তব হবে দূর
              ছুঁতে নাহি ছুঁতে।'

বিপ্র তাড়াতাড়ি আসি খুঁড়িয়া বালুকারাশি
              পাইল সে মণি,
লোহার মাদুলি দুটি সোনা হয়ে উঠে ফুটি,
              ছুঁইল যেমনি।
ব্রাহ্মণ বালুর 'পরে বিস্ময়ে বসিয়া পড়ে--
              ভাবে নিজে নিজে।
যমুনা কল্লোলগানে চিন্তিতের কানে কানে
              কহে কত কী যে!
নদীপারে রক্তছবি দিনান্তের ক্লান্ত রবি
              গেল অস্তাচলে--
তখন ব্রাহ্মণ উঠে সাধুর চরণে লুটে
              কহে অশ্রুজলে,
"যে ধনে হইয়া ধনী মণিরে মান না মণি
              তাহারি খানিক
মাগি আমি নতশিরে।' এত বলি নদীনীরে
              ফেলিল মানিক।


২৯ আশ্বিন, ১৩০৬

সে

আমাকে সে নিয়েছিলো ডেকে;
বলেছিলোঃ 'এ নদীর জল
তোমার চোখের মত ম্লান বেতফল;
সব ক্লান্তি রক্তের থেকে
স্নিগ্ধ রাখছে পটভূমি;
এই নদী তুমি।'

'এর নাম ধানসিঁড়ি বুঝি?'
মাছরাঙাদের বললাম;
গভীর মেয়েটি এসে দিয়েছিলো নাম।
আজো আমি মেয়েটিকে খুঁজি;
জলের অপার সিঁড়ি বেয়ে
কোথায় যে চলে গেছে মেয়ে।

সময়ের অবিরল শাদা আর কালো
বনানীর বুক থেকে এসে
মাছ আর মন আর মাছরাঙাদের ভালোবেসে
ঢের আগে নারী এক - তবু চোখ ঝলসানো আলো
ভালোবেসে ষোলো আনা নাগরিক যদি
না হয়ে বরং হতো ধানসিঁড়ি নদী।