bangla-kobita.com

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

বাংলা কবিতা

বাংলা-কবিতা ওয়েবসাইটটি প্রখ্যাত বাঙ্গালী কবিদের বাংলা কবিতার এক অনলাইন সংগ্রহশালা। পাশাপাশি নতুন কবিদের জন্য রয়েছে কবিতার আসর বিভাগ। এখানে যে কেউ তার স্বরচিত কবিতা প্রকাশ করতে পারেন। আমাদের বিশ্বাস আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা বাংলা সাহিত্য, কবিতা ও আমাদের দেশীয় কৃষ্টি-কালচারকে বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা নতুন প্রজন্মের বাঙ্গালীদের কাছে আরও পরিচিত করে তুলবে।

Bangla Kobita is a collection of Bengali poems from renowned Bengali poets. It also features a section Kobitar Ashor where new poets can publish their poems. We hope this site will bring Bangla literature, poetry and traditions of our culture closer to Bengali people worldwide.

সাম্প্রতিক কবিতাসমূহ

বিখ্যাত কবির কবিতা আসরের কবিতা

বাছাইকৃত কবিতা

শিশুর দেহ

চশমা-আঁটা পণ্ডিতে কয় শিশুর দেহ দেখে-
"হাড়ের পরে মাংস দিয়ে, চামড়া দিয়ে ঢেকে,
শিরার মাঝে রক্ত দিয়ে, ফুসফুসেতে বায়ু,
বাঁধল দেহ সুঠাম করে পেশী এবং স্নায়ু।"
কবি বলেন, "শিশুর মুখে হেরি তরুণ রবি,
উৎসারিত আনন্দে তার জাগে জগৎ ছবি।
হাসিতে তার চাঁদের আলো, পাখির কলকল,
অশ্রুকণা ফুলের দলে শিশির ঢলঢল।"
মা বলেন, "এই দুরুদুরু মোর বুকেরই বাণী,
তারি গভীর ছন্দে গড়া শিশুর দেহখানি।
শিশুর প্রাণে চঞ্চলতা আমার অশ্রুহাসি,
আমার মাঝে লুকিয়েছিল এই আনন্দরাশি।
গোপনে কোন্‌ স্বপ্নে ছিল অজানা কোন আশা,
শিশুর দেহে মূর্তি নিল আমার ভালবাসা।"

স্পর্শমণি

নদীতীরে বৃন্দাবনে সনাতন একমনে
              জপিছেন নাম,
হেনকালে দীনবেশে ব্রাহ্মণ চরণে এসে
              করিল প্রণাম।
শুধালেন সনাতন, "কোথা হতে আগমন,
              কী নাম ঠাকুর?'
বিপ্র কহে, "কিবা কব, পেয়েছি দর্শন তব
              ভ্রমি বহুদূর।
জীবন আমার নাম, মানকরে মোর ধাম,
              জিলা বর্ধমানে--
এতবড়ো ভাগ্যহত দীনহীন মোর মতো
              নাই কোনোখানে।
জমিজমা আছে কিছু, করে আছি মাথা নিচু,
              অল্পস্বল্প পাই।
ক্রিয়াকর্ম-যজ্ঞযাগে বহু খ্যাতি ছিল আগে,
              আজ কিছু নাই।
আপন উন্নতি লাগি শিব-কাছে বর মাগি
              করি আরাধনা।
একদিন নিশিভোরে স্বপ্নে দেব কন মোরে--
              পুরিবে প্রার্থনা!
যাও যমুনার তীর, সনাতন গোস্বামীর
              ধরো দুটি পায়!
তাঁরে পিতা বলি মেনো, তাঁরি হাতে আছে জেনো
              ধনের উপায়।'

শুনি কথা সনাতন ভাবিয়া আকুল হন--
              "কী আছে আমার!
যাহা ছিল সে সকলি ফেলিয়া এসেছি চলি--
              ভিক্ষামাত্র সার।'
সহসা বিস্মৃতি ছুটে, সাধু ফুকারিয়া উঠে,
              "ঠিক বটে ঠিক।
একদিন নদীতটে কুড়ায়ে পেয়েছি বটে
              পরশমানিক।
যদি কভু লাগে দানে সেই ভেবে ওইখানে
              পুঁতেছি বালুতে--
নিয়ে যাও হে ঠাকুর, দুঃখ তব হবে দূর
              ছুঁতে নাহি ছুঁতে।'

বিপ্র তাড়াতাড়ি আসি খুঁড়িয়া বালুকারাশি
              পাইল সে মণি,
লোহার মাদুলি দুটি সোনা হয়ে উঠে ফুটি,
              ছুঁইল যেমনি।
ব্রাহ্মণ বালুর 'পরে বিস্ময়ে বসিয়া পড়ে--
              ভাবে নিজে নিজে।
যমুনা কল্লোলগানে চিন্তিতের কানে কানে
              কহে কত কী যে!
নদীপারে রক্তছবি দিনান্তের ক্লান্ত রবি
              গেল অস্তাচলে--
তখন ব্রাহ্মণ উঠে সাধুর চরণে লুটে
              কহে অশ্রুজলে,
"যে ধনে হইয়া ধনী মণিরে মান না মণি
              তাহারি খানিক
মাগি আমি নতশিরে।' এত বলি নদীনীরে
              ফেলিল মানিক।


২৯ আশ্বিন, ১৩০৬

ছায়াবাজী

আজগুবি নয়, আজগুবি নয়, সত্যিকারের কথা—
ছয়ার সাথে কুস্তি করে গাত্রে হল ব্যথা ।
ছায়া ধরার ব্যাবসা করি তাও জানোনা বুঝি ?
রোদের ছায়া, চাঁদের ছায়া, হরেক রকম পুঁজি !
শিশির ভেজা সদ্য ছায়া, সকাল বেলায় তাজা,
গ্রীষ্মকালে শুকনো ছায়া ভীষণ রোদে ভাজা ।
চিলগুলো যায় দুপুরবেলায় আকাশ পথে ঘুরে,
ফাঁদ ফেলে তার ছায়ার উপর খাঁচায় রাখি পুরে ।
কাগের ছায়া বগের ছায়া কত ঘেঁটে
হাল্কা মেঘের পানসে ছায়া তাও দেখেছি চেটে।
কেউ জানে না এ–সব কথা কেউ বোঝে না কিছু,
কেউ ঘোরে না আমার মত ছায়ার পিছুপিছু।
তোমরা ভাব গাছের ছায়া অমনি লুটায় ভূঁয়ে,
অমনি শুধু ঘুমায় বুঝি শান্ত মত শুয়ে;
আসল ব্যাপার জানবে যদি আমার কথা শোনো,
বলছি যা তা সত্যি কথা, সন্দেহ নাই কোনো।
কেউ যবে তার রয়না কাছে, দেখতে নাহি পায়,
গাছের ছায়া ফটফটিয়ে এদিক ওদিক চায়।
সেই সময়ে গুড়গুড়িয়ে পিছন হতে এসে
ধামায় চেপে ধপাস করে ধরবে তারে ঠেসে।
পাতলা ছায়া, ফোকলা ছায়া, ছায়া গভীর কালো—
গাছের চেয়ে গাছের ছায়া সব রকমেই ভাল।

গাছ গাছালি শেকড় বাকল মিথ্যে সবাই গেলে,
বাপ্‌রে বলে পালায় ব্যামো ছায়ার ওষুধ খেলে।
নিমের ছায়া ঝিঙের ছায়া তিক্ত ছায়ার পাক,
যেই খাবে ভাই অঘোর ঘুমে ডাকবে তাহার নাক।
চাঁদের আলোয় পেঁপের ছায়া ধরতে যদি পারো,
শুঁকলে পরে সর্দিকাশি থাকবে না আর কারো।
আমড়া গাছের নোংরা ছায়া কামড়ে যদি খায়,
লাংড়া লোকের ঠ্যাং গজাবে সন্দেহ নেই তায়।
আষাঢ় মাসের বাদলা দিনে বাঁচতে যদি চাও,
তেঁতুল তলার তপ্ত ছায়া হপ্তা তিনেক খাও।
মৌয়া গাছের মিষ্টি ছায়া 'ব্লটিং' দিয়ে শুষে,
ধুয়ে মুছে সাবধানেতে রাখছি ঘরে পুষে!
পাক্কা নতুন টাট্‌কা ওষুধ এক্কেবারে দিশি—
দাম করেছি সস্তা বড় চোদ্দ আনা শিশি।