আমি শিশির স্নাত প্রস্ফুটিত ফুলগুলোকে বলি,
তোমরা ধীরে আরও ধীরে ঝরে পড়ো,
উপভোগ করো এই সুন্দর ভুবনকে,
ফুটে থাকো মানুষের সাজানো বাগানে,
হিমেল সমীরণে ভেসে ভেসে সবার দ্বারে দ্বারে,
বিলিয়ে দাও তোমাদের মন মাতানো স্নিগ্ধ সুবাস।


আমি এই উজ্জ্বল সুন্দর স্বপ্নিল ভুবনকে বলি,
তুমি কম আরও কম দুঃখ দাও,
যে দুঃখ হৃদয়ের মাঝে সুপ্ত থাকে,
সেই দুঃখ মুছে দাও সবার হৃদয় থেকে,
মায়ের আঁচল যেমন মুছে দেয় ঘর্মাক্ত কিশোরের মুখ,
তুমি তেমনি সুখের ডানা মেলে দুঃখগুলো মুছে দাও।


আমি নীল আকাশের উড়ন্ত পাখিগুলোকে বলি,
তোমরা থাকো আরও থাকো বৃক্ষের ডালে,
কখনো হারিয়ে যেওনা দূর নীলিমার ঐ প্রান্তে,
অচেনা অতিথির মতো চলে যেওনা অজানা গন্তব্যে,
কোলাহলমুখর এই ব্যস্ত শহরের ব্যস্ত মানুষগুলোকে,
একটু সুখের সুর শুনিয়ে যাও তোমাদের সুরেলা কণ্ঠে।


আমি এই চির সবুজ বাংলার অবুঝ রাষ্ট্রকে বলি,
তুমি দেখো আরও দেখো দুঃস্থ জনতারে,
যারা প্রতিনিয়ত হচ্ছে মৌলিক অধিকার বঞ্চিত,
তোমার একটু সহায়তা, এনে দিবে ক্ষুধার্ত শিশুর মুখে হাসি;
মায়ের বুকে বহিয়ে দিবে আনন্দের বন্যা,
অসহায় পিতার অনেক দিনের স্বপ্ন হবে পূরণ।


আমি সভ্য সমাজের জ্ঞানী-গুণী মানুষগুলোকে বলি,
তোমরা সংযত আরও সংযত করো নিজেদের,
তোমাদের সততা মানে আর দশ জনের ভাগ্য নির্ধারণ,
সহায়তা না করো তাদের অধিকার হরণ করো না,
চেয়ে দেখো হতভাগ্য মানুষগুলোর দিকে, ওরা কতো অসহায়;
একটু সততা দেখাও, একদিন তো খালি হাতেই চলে যাবে।


আমি ঐ অপরূপা হৃদয়হীনা অস্থির নারীকে বলি,
তুমি কোমল আরও কোমল হৃদয়ের হও,
আজন্ম কাঙাল এই হৃদয়টাতে একটু হাত বুলিয়ে দাও,
তোমার একটু ছোঁয়ায় হৃদয়ের রংধনু রঙ ছড়াবে,
একটু ভালোবাসায় রাতের আকাশের আলোকিত জ্যোৎস্না
আমার শূন্য ঘরে প্রণয়ের দীপশিখা জ্বেলে দিবে।
               ---- ০ ----


কাব্যগ্রন্থ: প্রহর কাটে নীলকণ্ঠের ভালোবাসায়
প্রকাশকাল: একুশে গ্রন্থমেলা, ফেব্রুয়ারি ২০১৩
প্রকাশক: মাজেদুল হাসান, জয়তী পাবলিকেশন