আষাঢ় গগনে নীরদের গর্জন
একটু পরেই শুরু হবে বাদলের বর্ষন,
ঝোড়ো সমীরণ উঠেছে পুবে
ধানক্ষেত গুলো যাবে ডুবে৷
চেয়ে দেখি নদীর ওপারের দিকে
কালি-মাখা মেঘে আঁধার ঘনাচ্ছে ধীকেধীকে,
ওই ডাকে শোনো জলধর ঘনঘন
পশুর দল কে গোয়ালে আনো৷
ঘরের থেকে বেরিয়ে তোমরা দেখো দেখি
শষ্য ক্ষেতে যারা গেছে তারা ফিরে আসলো কি,
উঠেছে দেখি অনিলের সোঁ-সোঁ শব্দ
সারা গ্রাম যেন হয়েগেল স্তব্ধ,
একটু পরেই নেমে আসবে আঁধার
বন বাঁদাড় হয়ে যাবে নিস্তব্ধ৷
ঘোলা অম্বুদে ছেয়ে আছে আকাশ
পুব দিক থেকে বইছে বাতাস,
কোথায় গেল রাখালের দল
কারো চলবেনা আজ বাহুবল৷
তান্ডব চালাবে পবনের দল
বলাহক করছে কৌশলের ছল,
অন্তরীকৃষ থেকে নামবে বর্ষার ঢল
চল সবাই তাড়াতাড়ি ঘরে ফিরে চল৷
বেলা পোহাতে আর বেশি দেরি নাই
জীবনের ঝুঁকি নিলে হবে বড় দায়,
ঝোড়ো হাওয়ার প্রকপে অরণ্যে লেগেছে আগুন
তাতে গাছপালা সব পুঁড়ে হলো ছায়৷
বনানী পশুর দল ছুটছে দ্রুত পায়
পাখিদের ঝাঁক কিচিমিচি গান গায়,
এখন তো গুম ধরা প্রচন্ড গ্রীষ্ম
তটিনীর ধার থেকে চেয়ে দেখি ওপারের দৃশ্য,
জম কালো বারিদ উঠেছে নীল গগনে
ঝরঝর বৃষ্টির ধারা নেমে আসছে ভুবনে৷
হাওয়ায় তরঙ্গিনীর তিরে আঁছড়ে পড়ছে জলের ঢেউ
খেয়া পারাপার বন্ধ মাঝিরা ঘাটে নাই কেউ,
মুসলধারে বৃষ্টিতে সব হয়েছে অচল
গাঁয়ের পথ গুলি হয়ে গেছে পিছল৷
ওই গাছপালা দুলে ঘনঘন পথের পাশে
যেন তাদের দিকে কেউ ধেয়ে আসে,
সুর্য অস্ত গেছে এখনি আঁধার হবে
লাল রঙ্গা আকাশ সন্ধ্যা হয়ে এলো সবে,
বেলা পোহাতে আর বেশি দেরি নাই
আয় সবাই, আমরা যে যার ঘরে ফিরে যাই৷