কবিতা লেখিয়ে ও কবির মধ্যে অনেক অনেক পার্থক্য।কবিকে প্রতিটি মূহুর্তে নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয় এমনকি নিজের আবেককেও ভেংচি কাটতে হয় কখনো কখনো,নিজের চরিত্রকে শুদ্ধ রাখতে হয় সর্বদা।এও ঠিক ছিল,কিন্তু এক একটা সত‍্যের জন্য নিজেকে মনে মনে কেটে টুকরো টুকরো করতে হয়,মনে জমে থাকা সব সংস্কারকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে হয়,লোকে যা বিশ্বাস করে সেটাকেও বিবেক করে দেখতে হয়,এমনকি অনেক অনেক কবিতা লেখা হয়ে গেলেও কখনো কখনো উর্ধ্বতর সত‍্যের খাতিরে সেগুলোকে কেটে ফেলতে হয়।প্রায় সবসময় মাথায় লক্ষ কোটি কোটি চিন্তা ঘুরপাক খায়,একজন কবির পক্ষে সবচেয়ে কঠিন কাজ হল নিজের মাথা আর মনটাকে সুস্থ রাখা।যারা সত‍্যিকারের কবি হয় তারা একজীবনে অনেক অনেক লোকের জীবনে বাঁচতে পারে,এটা হয়।একজন সত‍্যিকারের কবির কোনোপ্রকার রাজনৈতিক দল বা কোনোধরনের কোনোপ্রকার মতবাদেরই দাস হওয়া উচিত নয়,যে মুক্ত নয় সত্য তার কাছে ধরা দেয় না।যারা কোনোপ্রকার রাজনৈতিক দলের দাস তারা বড়ো কবি হতে পারলেও কবি হিসেবে বড় হতে পারেন না।কবির দায়িত্ব অনেক,তাকে সর্বদা সত‍্য,মানবিকতা ও আশার প্রতীক হতে হয়।একজন শিক্ষকের যা দায়িত্ব,একজন কবির দায়িত্ব তার চেয়ে শত শত গুন বেশি।অন‍্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে হয়,যে প্রতিবাদে ভয় পায় সে কবি নয়।যারা সস্তায় প্রশংসা আসা করে তারা কবি হতে পারেন না।লোকে যা শুনতে চায় তা শোনানো কবির কর্ম নয়,বরং লোকের কী শোনা উচিত তাই শোনানো তার কাজ,এইজন্যই কবিরা পথপ্রদর্শক।একজন কবি তার প্রিয়জনকে পর্যন্ত পুরোপুরি সময় দিতে পারেন না,এতটাই কষ্টকর তার জীবন।বুক ফেটে যায় ভাই,বুক ফেটে যায়।


তবুও কিছু কিছু মানুষ না বুঝে কবিকে ব‍্যঙ্গ করতে ছাড়েন না।আবার কিছু লোক তার পাওয়া প্রশংসায় ঈর্শ্বান্বিত হন।