প্রিন্ট প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুনদের সুযোগ এমনিতেই খুব সীমিত কারন প্রকাশকের ভাবনায় স্বভাবতই থাকে তার বাণিজ্যিক লাভ ক্ষতির দিকটি । লেখার মান যদি ভালোও হয় তবুও সাধারণত কোন প্রকাশক নতুন কোন লেখকের লেখা ছাপানোর ব্যবসায়িক ঝুকি নিতে চান না । সীমিত কিছু কিছু ক্ষেত্রে নতুনদের যে সুযোগ রয়েছে সেখানেও রয়েছে কিছু অলিখিত সীমারেখা । দুঃখজনক সত্যটি হল কিছু কিছু জায়গায় অলিখিত নিয়ম হল তারা সাধারণত কিছু নির্দিষ্ট নাম, গোত্র ও ব্লকের বাইরের নতুনদের কারো লেখা যত ভালোই হোক ছাপতে চায় না । তাদের সমর্থিত গোত্র বা ব্লকের বাইরের কারো উঠে আসায় তারা কোন ভূমিকা রাখতে চায় না । তারা হয়তো ভাবে এভাবে প্রতিভাকে দমিয়ে রাখা যাবে বা তাদের ট্যাগভুক্ত গোষ্ঠীকে এগিয়ে নেয়া যাবে । এতে নতুন প্রতিভাকে হয়তো সাময়িক ভাবে দমিয়ে দেয়া যায় কিন্তু সত্যিকার প্রতিভাকে চিরদিন বেঁধে রাখা যায় না আর নিজেদের জ্বালানো আগুনের আলোতে ট্যাগযুক্ত কাচকেও হীরা বানানো যায় না । যারা নিজেদের গায়ে ভাষা ও সাহিত্যের ট্যাগ লাগায় তাদের পবিত্র দায়িত্ব সব প্রতিভার সম প্রকাশ অধিকার নিশ্চিত করা । অর্থ, অবস্থান বা অন্য কোন বিশেষ কারনে এই মহান দায়িত্ব পেয়ে কেউ যখন নিজেদের সঙ্কীর্ণতা, অযোগ্যতা, পক্ষপাত, দলবাজি বা ব্যাক্তিগত বিদ্বেষের কারনে এই ন্যায়বিচার নিশ্চিন্ত করতে, যোগ্যতার মূল্যায়ন ও ভালো লেখাকে সমাদর করতে ব্যর্থ হয় তখন সে বা তারা আর ভাষা ও সাহিত্যের প্রতিনিধি থাকে না । এরকম কিছু বিষয়ের জন্য কিছু জায়গায় সংগত কারনেই যাদের নাম বলছি না এবার বইমেলা ২০১৫ সংকলনের জন্য কোন লেখা দেইনি ।  সামনে হয়তো আরও কিছু জায়গায় লেখা দেওয়ার আগে নতুন করে ভাবনা চিন্তা করে দেখতে হবে । একজন লেখক আত্মতৃপ্তি পান তার লেখার পরিপূর্ণতায়, পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা তাকে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয় । কোন সমৃদ্ধ লেখক জনপ্রিয়তা বা বাণিজ্যিক কারনে লেখেন না, তার লেখাই তার অবস্থান তৈরি করে । প্রতিষ্ঠাও একদিনে আসে না, খ্যাতি বা প্রতিষ্ঠার জন্য সত্যিকার লেখক লালায়িত নন, আমার নিজের কথা যদি বলি, আমি বনের পাখির মত মনের সুখে গান গেয়ে যাই, সৃজনেই আমার আনন্দ, সেই গান যদি কারো মনে দোলা দেয় সে আমার বাড়তি পাওয়া, আমি প্রতিনিয়ত নিজেকে সমৃদ্ধ করে যেতে চাই, আমি বারবার বলি বাইরের কারো সাথে আমার কোন প্রতিযোগিতা নেই, আমার প্রতিযোগিতা শুধু আমার নিজের সাথে, আজকের আমি যেন গতকালের আমি থেকে একটু হলেও উন্নত হই এই আমার নিরন্তর চাওয়া । আমি মানুষের কাছাকাছি যেতে চাই, মানুষের ভালোবাসা পেতে চাই । আমার লেখায় যদি মানুষের জন্য মমতা থাকে তবে মানুষ আমাকে ভালবাসবে । লেখায় যদি আগুন থাকে তবে তা আলো ছড়াবে । তা না হলে এ শুধু বাগাড়ম্বর, সময়ের অপচয়, কালের কলেবর । সে বিচারের দায়ভার কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়, সে দায় মহাকাল ও আপামর পাঠকের, সে বিচার নির্ভুল । আমি একসময় লিখতাম শুধু বাংলা কবিতার জন্য, এখানে লেখা দেয়ার পর ভাবতাম আর কোথায় লেখা দেয়া যায় তাই আজও লেখা দেয়া হয়নি এমন কিছু কিছু জায়গায় যারা লেখার মান নয় বাণিজ্যিক স্বার্থে শুধু অপ্রকাশিত লেখা খোঁজেন । সাহিত্যের সমুদ্রে এমন কূপমণ্ডূক ব্যাক্তি বা গোষ্ঠী সব সময়ে, সব কালেই ছিল, আছে থাকবে । মহাকালের বিচার নির্ভুল, সে বিচার বড় নির্মম, এদের জন্য দুঃখের বিষয় এদের নাম কখনো সময়ের পাতায় লেখা থাকে না । এরকম কিছু কারনে অনেক মেধাবী ও যোগ্য কবি ও লেখক তাদের যথাসময়ে, এমনকি কেউ কেউ জীবদ্দশায় নিজেদের স্বীকৃতি, যশ ও প্রতিষ্ঠা দেখে যেতে পারেননি। ধন্যবাদ সবাইকে ।


বিদ্রঃ এই লেখাটি কাউকে হেয় বা আঘাত করার জন্য লেখা নয়, এটিতে উঠে এসেছে সমকালীন বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে কিছু অনাকাঙ্খিত ও তিক্ত সত্যি যা সৃজনশীলতার ধারক বলে পরিচয় দানকারীদের কাছ থেকে মোটেই অভিপ্রেত নয় ।