আমি দেখেছিলাম যারে হেমন্তের পাঁকা ধানে
নবান্ন উৎসবে,
গোধূলি বিকেল কাঁশ ফুলে,
এক ঝাঁক বলাকার ভিড়ে,
দেখেছিলাম তারে কুয়াশায় শিক্ত শেফালি ফুলের মাঝে আর কদম তলে,
খুঁজেছি আমি যারে-মাঠের রাখালের বাঁশির সুরে,
খুঁজেছি সুদুর ভারতে মমতাজ মহলে,
আর গিয়েছি তারই খুঁজে নির্দয় সিরিয়ার আই,এস,আই এর দলে,
মানবতার চরম ত্তলটানে,
উঠিছি কেঁদে বুলেটের গুড়গুড় শব্দে,
এদিক-সেদিক দিগন্তে,
আর্তনাদে পৃথিবীতে যবনিকা ক্ষীণালোকে!
আজ মনে হয়;
ভাগে পড়েনি হিরণ মালা
জন্মেছি ললাটে নিয়ে জীবন-ভাটা,
জ্বলেনি ঘড়ের মেঝেতে কোন দিন দ্বীপ শিখা
উনুনে উঠেনি ভাতের ভাপে রাঁধা,
শুধু-অন্তিমে ঘন তমিস্রা !
সোনা-রোপা,তামার বাসনে পরে থাকে
এক চিমটি গুড় আর এক মোট চিঁড়া,
তবে মনে রখে;ভুলি নাই প্রিয়া-
নিরব পৃথিবীর নির্জনতা,
অন্ধ যাত্রী শীতের রাত্রি ঘাস শিশিরে ভেঁজা,
কত কাল এভাবে বসে
তারার সাথে বলেছি কথা,
কি করে ভুলেছ আজ প্রিয়া!
পাতাঝরা ফাগুনে-কষ্টের হাওয়া
আঁকা বাঁকা পথে আজ জারুলের কাঁটায় বিঁধে পা,
এক দিন তবে ছিলো আঁধারেও তারকার মেলা,
দেখ নিয়তির আজব খেলা,
আজ তুমি ভুলে গেছ প্রিয়া!
পেয়েছি আমি বিরহের অবসাদ
কফির কাপে চুমক দিলে পাই সুরার স্বাদ,
মাটির প্রাত্রে বারবার চুমি
কই মেটেনি তৃষা মেটেনি মনের তাপ,
আমি যারে ভালোবেসেছি
পেয়েছি তারে-জীবনের অভিশাপ।।