বিগত ০৭-০৪-২০১৭ তারিখ স্থানীয় RCTV  চ্যানেলে সম্প্রচারিত হয় আমার স্বরচিত কবিতাপাঠ অনুষ্ঠান l আড্ডা, কবিতাকেন্দ্রিক আলোচনা এবং ১৩ টি কবিতা পাঠ হয় সেখানে l ইউ টিউব লিঙ্ক সহ সেই ১৩ টি কবিতা রইল এখানে  l কবিতাগুলি সবই বিভিন্ন সময়ে আসরে প্রকাশিত l


১. রায়গঞ্জে বাঘ মামা


বাঘ মামা বাঘ মামা এলে কোথা থেকে ?
জনা কুড়ি করেছ ঘায়েল দোষ ব্যতিরেকে l
সতের সালের শুরুটা বিরল অভিজ্ঞতা দিল,
ঘুম ভাঙ্গতেই  সাতসকালে এ কি হুলস্থূল !
জলদাপাড়া নাকি বিহার কোথায় তোমার বাস ?
আমাদের এলাকায় ঢুকে কেন করলে সর্বনাশ ?
বলেন শেষে বাঘ মামা "আরে শোন্ ভাগ্নে শোন্
কাল রাতে নববর্ষে পিকনিক হল এমন,
বাজল ডি. জে. কান ফাটানো পালাই কোথায় বল,
যেখানেই যাই হট্টগোল ছেলে ছোকরার দল l
তাই তো আমি ছুটতে ছুটতে এসে পড়েছি হেথায়,
তোরা কেন শোরগোল করে আকাশ করলি মাথায় ?
তোদের আমার দৌড় ঝাঁপেতে আহত কিছু মানুষ
তোরা আমায় ধরতে চাস, আমি কি তেমন ফানুস ?
এই তো দিব্যি ঘরের মধ্যে রয়েছি নিরাপদ  
আমায় বনে পাঠিয়ে দিলে কাটবে তোদের বিপদ l"


"বনে আমি যাবই চলে তোরা থাক ঘরে
বন-টা কিন্তু আমার ঘর রাখিস মনে ধরে l"


২. অন্নপূর্ণা


অন্নপূর্ণা নামটি ছিল আমার দিদিমার
অন্নে পূর্ণ থাকত না তার ঘর সংসার l
বিবাহিত দুই কন্যা আসত পালা করে
সমস্যাটা হত যখন তাদের স্বামীর ঘরে l
প্রতিবারেই বেড়ে যেত নাতি নাতনির দল
দিদিমাকে টানতে হত সেই যাঁতার কল l
আয় বলতে ফসলটুকু অল্প জমিজমা
তিন ভাগেতে বাঁটত সেটা দুই পুত্র ও মা l
মেয়েদের কোনো ভাগ ছিল না, বিবাহিত তাই
ছোট পুত্র দিদিমার সাথে, দুই ভাগ আয় l
বড়ো পুত্রের বড়ো সংসার ছেলে পুলে নিয়ে
লেখাপড়া জীবনযুদ্ধ প্রাণপণ দিয়ে l
বিপরীত চিত্র দিদিমার ঘরে সর্বদা কোলাহল
নাই নাই আর খাই খাই ওঠে শোরগোল l
ছোট মামা নিয়ম করে ফেল বছর বছর
নাতি-নাতনির পড়ল না পা বিদ্যালয়ের ভেতর l
বনে বাদারে ঘুরে ঘুরে দিদিমা রসদ কুড়ায়
ফল-ফলাদি শাক-সবজি নানাবিধ জোটায় l
এদিকে ঘরে ঝগড়াঝাঁটি মারদাঙ্গা চলে
বিরতি একটু মেলে শুধু খাবার সময় হলে l
কোনদিন তাও মেলে না খাবারে পড়লে টান
অনাহারে গৃহযুদ্ধ শান্তি ভেঙ্গে খান l


দুই সংসারে দুই চিত্র এক উঠানের মাঝে
একদিকেতে বিদ্যাচর্চা অন্যত্র বাসন বাজে l
বড়োমামা গুরু গম্ভীর ধ্যৈর্যের বাঁধ টুটে
রাগান্বিত রক্তচক্ষু এলেন সেদিন ছুটে l
ধপাস ধপ্  ছুড়লেন সবে ভাগ্নে ভাগ্নি যত
ঘর হতে দূরে মাঝ রাস্তায়, বকলেন অবিরত,
"তাঁতির বাড়ি ব্যাঙের বাসা কোলা ব্যাঙের ছা
খায় দায় গান গায় তাই রে নাই রে না !"


এত সব মাঝে দিনশেষে সাঁঝে দিদিমার ভালবাসা
কমেনিকো কভু একরতি টুকু সকলেরে দেন আশা l
ভগ্ন শরীর জীর্ণ বসন খাটুনিটা হাড়-ভাঙা
ঘানি টেনে যান স্নেহ অন্ত প্রাণ মুখ তবু হাসি-রাঙা l


দিন চলে যায় বছর মিলায় দিদিমাকে নিল কালে
পৃথিবীতে কোথা থামেনিকো কভূ সংসার-চাকা জালে l
নিজ নিজ দায় বহিছে সবাই কেউ আগে কেউ পিছে
একজনে ছাড়া জগৎ চলে না এ ধারণা বড়ো মিছে l


৩. জন্ম


একজন কবি
তার মনে কত বিচিত্র ভাব আসে !
শুধু ভাব কেন,
কত আজব ঘটনা ঘটে তার চারপাশে,
যা তার কবিমনকে আলোড়িত করে l
তারপর শান্তিতে, এককোনে বসে
একমনে, তিনি কবিতা লেখেন l


যা ঘটে - এমনিতে তা সামান্যই l
কিন্তু ঘটনার আড়ালে পরম সত্য থাকে l
এই সত্য আমাদের চোখ এড়িয়ে যায় l
কিন্ত যিনি কবি, তিনি অন্তর্দ্রষ্টা !
সীমার মধ্যে অসীমকে ধরে ফেলেন l


প্রশ্ন থাকে - কবি কি ভাগ্যবান ?
সেরকম ঘটনা, তার জানার জগতেই ঘটে ?
এবং কবিতার জন্ম হয় ?
নাকি, ঘটনার শক্তি এবং তার প্রভাব
একজন সাধারণ ব্যক্তিকেও, তার মনকেও আলোড়িত করে তোলে ?
এবং কবির জন্ম হয় l


কবি কবিতার জন্ম দেন ?
নাকি ঘটনা কবির জন্ম দেয় ?


৪. আকাশ ছোঁয়া


ছোট্ট খোকা তাকিয়ে থাকে
নীল আকাশে দূরের পানে
ঐ নীলাকাশ যায় না ছোঁয়া
সব লোকে সেটাই মানে l


বসে ছোটো ঘরের কোণে
খোকা ভাবে আপন মনে
সূর্য মামা চাঁদা মামা
যত সব তারার দল
সব থাকে ঐ গগনে
পৃথিবীটা একাই কেবল ?
কেন খলোক যায় না ছোঁয়া
যদি যায় রকেট গতি ?
বড় মাঠটার ওইতো শেষে
নীল নেমেছে মাটির প্রতি l
চার দিকেতে যায়তো দেখা
এক দিকে গেলেই হল
পুলিশ মামা দিলে ধাওয়া  
অম্বর হবে হাতে পাওয়া l


আকাশ ছোঁয়া সম্ভব বলো !


৫. শৈশব


মা, পিসির কাছে পড়ার প্রাথমিক পাঠ শেষ করে
খোকা যেদিন প্রথম স্কুলে এলো
দেয়ালের দিকে তাকিয়ে চোখ কপালে,
কি বিশাল স্লেট দেয়ালের গায়ে !
মায়ের বয়সের এক মহিলা, হাতে চক, ডাস্টার
সকলের নাম ধরে ডাকছেন,
আর থেকে থেকে "ইয়েস প্যাটাম" উত্তর l
এক বন্ধু জুটল "অনেক বাঘ সিংহ" নাম l
বাড়ি এলে মা ঠিক করে দেন -
দেয়ালে ঝুলছে ব্ল্যাক-বোর্ড
নাম ডাকার উত্তর হবে "ইয়েস ম্যাডাম" l
পরদিন স্কুলে গিয়ে জানা গেলো
বন্ধুটির নাম অনির্বাক সিংহ l
নতুন বছরে উঁচু শ্রেণীতে উঠল খোকা l
পড়ল চিন্তায়, ছোট হাত-পায়ে
উঁচু শ্রেণীতে সে পৌঁছুবে কি করে ?
নতুন ক্লাশে, প্রথম দিন-ই দেখল
নামেই উঁচু ক্লাশ, ঘরটা তো পাশেই l


একদিন স্কুলে সাধারণ জ্ঞানের টেস্ট,
এক বন্ধুর খাতায় পাতা শেষ l
নিজের খাতা থেকে পাতা ছিঁড়ে
বন্ধুকে সাহায্য করল সে l
ফেরত দেবার কোন শর্ত ছিলো না l
কিন্তু পরদিন বন্ধুটি সাদা পাতা শোধ দিল l
সেই পাতায় কচি হস্তাক্ষরে
প্রণব বন্ধুকে নিয়ে রচনা লিখল খোকা l
শিরোনাম "প্রণবের দেয়া পাতা" l
উপসংহারে লিখল, "প্রণব ভালো ছেলে l
পাতা ফেরত দিয়েছে l কিন্তু অভিজিৎ যেমন
প্রণবের প্রয়োজনে পাতা দিয়ে সাহায্য করেছে,
প্রণব পাতা শোধ করেও অভিজিৎকে
তেমন সাহায্য করতে পারে নি l"


কোনো অভিজিৎ, কোনো প্রণব
চিরকাল ছোট থাকে না l
নতুন চোখে পৃথিবীকে দেখতে দেখতে
চোখ পুরনো হয়ে গেলে
পৃথিবীর সবকিছু তাদের গা-সওয়া হয়ে যায় l
তখন আর তাদের বিস্ময় জাগে না,
সমস্ত ব্যাখ্যা স্বাভাবিক মনে হয় l
সৃজনশীলতা, কল্পনাশক্তি
কোথায় হারিয়ে যায় !


৬. খুটুর খুট টুকুর টুক


মাথায় যদি পোকা কাটে
ঘুম নেই সারা রাতে
আঙ্গুল হাতে খুটুর খুট
কবিতা ছড়া টুকুর টুক l
লাইক কমেন্ট তেমন পেলে
উৎসাহটা ভালোই মেলে
বেড়েই চলে লেখার পাতা
জীবন নদীর হালখাতা l
নিজেই লিখে নিজেই ছাপে
মহানন্দে মনস্তাপে l
ভাবটা যেমন আসে মনে
সাদা কালোয় পাতায় আনে l
সম্পাদনার নেইকো চাপ
লেখা বাতিলের নেই ঝাঁপ
হলেই পোস্ট ফেসবুকে l
কিন্তু যদি দাও গ্রুপে,
আ্যডমিনরা ছাঁকুনি ধরে
ডাইনে ? বাঁয়ে ? ওজন করে l
রুচিশীলতার থাকে মান
উপযোগিতার মূল্যমান l
এই পরীক্ষা উৎরে গেলে
লেখা তোমার চোখ মেলে l
কিন্তু সাথেই জবাব আসে
প্রশংসা বা উপহাসে l
নতুন যুগের নতুন চাল
জন্মলগ্নেই কাটতি মাল l


৭. খুব ভালো - ২ (কৃষ্ণগোপাল)


বহুদিন পরে আসিছে সে ঘরে মাস ছয় বুঝি হল
চাকরিটা নিয়ে বিদেশেতে গিয়ে এতদিনে ছুটি পেল l
মালদায় নেমে সামনেতে দেখে, এ যে বড়ো মামা !
হাত ধরে তার দোকানেতে গেল ভাগ্নের বায়নামা !
মিষ্টি সে আসে ভাঁড় ভাঁড় করে-মামা খাও, মামা খাও l
মামা খেয়ে যায়,আরো যায় খেয়ে, শেখে নি, 'না' বলাটাও l
নিজ ঘরে এসে মামা বলে হেসে, "ভাগ্নেটা খুব ভালো
এরকম ছেলে, কতিপয় মেলে, এ যে জগতের আলো l
গুরুজনে মানে, দেয় সম্মান, বলে মামা, আরো খাও
কত ভালো ছেলে দোকানীকে বলে - এটা দাও ওটা দাও l
মন ভরে যায় কাজে ও কথায় এমন সোনার ছেলে
ভুবনে কোথাও হেন সন্তান কভু কদাচিৎ মেলে l"


রাত হয়ে এলে সবে শুতে গেলে মামা পায় পেটে ব্যথা
ছট্পট করে শুধু নড়ে চড়ে ডাকে সবে "কে কোথা ?"
মামী উঠে পড়ে ধড়পড় করে খোঁজ নেয় বৃত্তান্ত  
এটা সেটা করে ওষুধে ও জড়ে মামা তবু নয় শান্ত l
হাত-পা টা ছুঁড়ে সপ্তম স্বরে ভাগ্নেরে দেয় গালি,
"চাকরির টাকা, মিষ্টি খাওয়াবি, আমাকেই পেলি খালি ?
যত বলি, আর খাবো নাকো, শোনে নাকো কোনো কথা
মামা খাও মামা খাও বলে নিয়ে আসে এটা সেটা l
এত বাজে ছেলে দেখি নাই কভু দয়া নাই মামা 'পরে
কংসকে মেরে কৃষ্ণগোপাল এসেছে আমার ঘরে l"


৮. কবিতা


একটুকু কথা এত তীব্রতা বিপ্লব নিয়ে আসে
সেই এক কথা মনে দেয় ব্যথা তিমির ঘনিয়ে আসে l
জীবনটা যেন সমুদ্র হেন বহুধার তার গতি
মহাকাল ব্যাপী চলে মাপি মাপি কভু লাভ কভু ক্ষতি l
অস্তিত্ব জুড়ে বিভিন্ন মোড়ে বিরল বোধের উদয়
মস্তিষ্ক মাথে মননটা সাথে ভাষায় প্রকাশ লয় l
কিছু নাই হেন অঙ্কুরিত যেন ছিলো না ভিতর মাঝে
সংঘাতে রণে ধায় মন পানে ভাবনাতে শুধু বাজে l
মন বহুগামী বোধ অন্তর্যামী অনুভব চায় কথা, বাক্য
শব্দটা এসে ছন্দেতে মেশে কবিতায় গড়ে ঐক্য l
সত্য জীবন, ঈশ্বরও তাই - কবিতায় প্রকাশিত সত্য
নবী মহাকবি জগতের রবি আলোকিত করে মর্ত্য l


৯. সূর্যডোবা


ধূপের গন্ধ উঠলো ভেসে ফুলের শোভা দেহের পর
দোহার গানে মাতিয়ে ভুবন, স্বর্গরথে, নিজের ঘর l
গান এসেছে মাটির পাশে দুই বাঙলার প্রাণের ঘ্রাণ
একতারা আর দোতারাতে সুর বেঁধেছে অসমান l
হারানো লেখা খুঁজে এনে নিজেও রচেন অনেক গান
সুর বসিয়ে দেহ নাচিয়ে লোকগানের দল বানান l
দুই বাঙলার জাতিস্মর, মনের মানুষ, ভুবন মাঝি
থাকল অমর সৃষ্টি তোমার, কথা এবং সুরের সাজি l
গান পেয়েছে সঙ্গ তোমার মন নেচেছে মুর্ছনায়
ছন্দ দোলায় শরীর দোলে বাণী দেবীর বন্দনায় l
দোহার যখন মাঝ গগনে দিন দুপুরে সূর্যডোবা
হঠাৎ সব ওলটপালট, ধূপের গন্ধ, ফুলের শোভা l
জন্ম সাথেই যাবার দিনের পরোয়ানাটা সঙ্গে আসে
বাউল গানে, হরিনামে, আলখাল্লায়, ফকিরবেশে l


১০. আমতলা


আম পাতা ঝর ঝর
যায় পড়ে পর পর
আসে শীত কন্ কন্
ছোটে মন হন্ হন্
শালিখের হুটোপুটি
গাছতলে আসে জুটি
দেয়ালের কোণেতে
লেগে যায় রণেতে  
জমা পাতা ছারখার
ইস্ পার উস্ পার
কিচ্ মিচ্ ধুপ্ ধাপ্
থেকে থেকে চুপচাপ
ভয়ভরা চাহনি
চঞ্চল বাহনী
গায়ে গায়ে ধাক্কা
পাতা-ক্রীড়া পাক্কা
গাছতল দৃশ্য
পাখি গুরু-শিষ্য
মজা করে এন্তার
সুখে কাটে দিন তার
প্রকৃতির কোলেতে
পাখি ছেলেপুলেতে
জমে ওঠে সংসার
অবসান হিংসার l


১১. নামাঙ্কন


কবিকে শব্দশ্রমিক বলছেন কবি নিজেই
শব্দের বোঝা ব'ন, ইমারত গড়েন কল্পনার l
এই শব্দ প্রয়োগে অনুগামী ভক্ত পাঠকেরা
বলছেন বাহ্ বাহ্ l


শ্রমিক তো আমরা নিশ্চয় সবাই l
কিন্তু শ্রমেরও তো অনেক রকমফের আছে !
সেই প্রশ্নে, কবিকে শ্রমিক নামাঙ্কিত করায়
আপত্তি যুক্তির l
শ্রমিক থাকলে তার মালিক থাকবে,
কবি শ্রমিক হলে মালিক কে ?
শ্রমের সঙ্গে মজুরির প্রশ্ন জড়িয়ে থাকে
প্রতিটি কবিতা লেখার শেষে কবি কি মজুরি পান ?
পান কিছু নিশ্চয়, যদি বড়ো পত্রিকায় ছাপা হয় l
কিন্তু সে তো হাতে গোনা, কিছু কবির কিছু কবিতা l
আর অপ্রকাশিত কবিতা, লিটল ম্যাগে প্রকাশিত
তার শ্রমের মজুরি কে দেয় ?


কবিকে শিল্পী বলো,
কারণ তার শব্দের ছোঁয়ায় আকাশ হয় রঙ্গীন l
তাকে দ্রষ্টা বলো,
কারণ তার সত্যদর্শনে জীবন পায় পরমার্থ l
তাকে জাদুকর বলো,
শব্দখেলায় কাল মহাকাল তার বশীভূত l
কবিকে বণিক, উদ্যোগপতি বলতেও আপত্তি হবার
কথা নয়,
কারণ তিনি স্ব - উদ্যোগী,
আপন খেয়ালে আপন ভাবে বিভোর, খুশি দুঃখ
রাগ অনুরাগ রামধনুর সাতরঙ্গা মেঘমেখলা
অনন্ত সন্ধান তার অমৃতের অরূপের অসীমের l


খামোখা কবিকে শ্রমিক বলব কেন ?
সেই সব শব্দের, শব্দাবলী
যা তার অঙ্গুলিহেলনে কথা বলে, ঢেউ তোলে l


১২. অপারগতা


একটা কবিতা লিখতে চেয়েছিলাম
প্রেক্ষাপট ছিলো ভাবনা ছিলো
লিখন সামগ্রী ছিল অবসর ছিল
শুধু প্রথম শব্দটা লিখতে পারিনি বলে
কবিতাটা আজও লেখা হয় নি l


একটা ভাল কাজ করতে চেয়েছিলাম
সুযোগ ছিলো সামর্থ্য ছিলো
মানসিকতা ছিলো ঔদার্য ছিলো
শুধু উদ্যোগ ছিলো না বলে
কাজটা আজও করা হয় নি l


বনে ফোটে কত ফুল মনে কত ভাব জমে
ফুলশূন্য পূজার থালি ভাবহীন কবিজনে l


দিনে দিনে বেড়ে গেছে না পারার দুখ
জগৎ সংসার মাঝে লজ্জানত মুখ !


১৩. পাবন


চলার পথ হোক মসৃণ এটাই চাই
আশীর্বাদ বড়োদের এরকম পাই l
বিরক্ত, পড়লে কোনো সমস্যায়
অভিমানে অভিযুক্ত পরিজনরাই l


কুড়িয়ে সাহস জুটিয়ে রসদ এগিয়ে চলা
অমসৃণ পথে সদা থাকে চোখ-কান খোলা l
ক্ষমতা নিজের অতিক্রম কাজের বেলা
আয়েশী মানুষ কর্মচঞ্চল, পড়লে ঠেলা l


চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা যত প্রকৃতির দাস
নিয়মটা মেনে, অবিরাম, রচে যায় ইতিহাস l


মানুষ যা চায়, যদি হাতে পায়, চলে না তার পা
সুখের জীবন, পরনির্ভর, যেন সম্রাট শাহেন শা l


জীবনটা চলে, রয়ে সয়ে, শরীর না পায় কষ্ট
বিপত্তি এলে, প্রাথমিক কালে তাই তিনি রুষ্ট l


কিন্তু জীবন অসীম পাবন, বিপদেই জাগে তিন নেত্র
কুলকুন্ডল, তারামন্ডল, জোটে তার কাজের ক্ষেত্র l


সমস্যায় অদৃষ্টকে দোষারোপ ? সমাধানে চিরকাল
অন্তর থেকে শক্তি আসে, দরিয়ায় মাঝি বায় হাল l