৯০.
আরাধ্য লাভের আরাধনা / সআ


ঘুলঘুলি টপকে প্রথাগত স্বপ্নের ক্রমবিকাশ...
আজন্ম লালিত সাধ
মহিমান্বিত রাতের
নেমে আসে জানালার পর্দা
দরজার খিল পড়ে আবদ্ধ মন্ত্রের তসবিহ পাঠ...
বিমোহিত আরাধনায় কাঁপে রাতের ছায়া...
আনত চোখে বিদ্ধ হুরের জন্মান্ধ তৃষ্ণা জমে থাকে ক্রমোজমের কূপে...
নাইয়াতুয়ান ...নিয়তের শেষে পান করি সলজ্জ স্বাদ...
অতৃপ্ত আত্মার প্রশান্তিতে সিজদার পাঠ...
দোজখের নাজাত চেয়ে বেহেস্তি আহ্ লাদে বিগলিত...
শান্তি দাও প্রভু আরও আরও...


আলোচনা :
কবি সআ এর "আরাধ্য লাভের আরাধনা" কবিতাটি আধ্যাত্মিক ভাবনাপূর্ণ l মানুষ তার ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন ইহ জীবনের শেষে ঈশ্বরের করুণা ও আশীর্বাদ যেন তার ওপর বর্ষিত হয় l যেন তার স্বর্গে তথা জান্নাতে স্থান হয় l নরক অর্থাৎ জাহান্নাম দর্শন থেকে তার যেন মুক্তি মেলে l
প্রায় সব ধর্ম বিশ্বাসেই মানবজীবনকে স্বল্পস্থায়ী একটি যাপন বলে মনে করা হয় l এই যাপনের শেষে তার গন্তব্য তাঁর পিতা, জগৎপিতা, জগদীশ্বর, আল্লাহ, ভগবান, গড, যে নামেই ডাকি, বিশ্ব ব্রম্ভ্রাণ্ডের স্রষ্টার কাছে l সেখানে মানুষের সারা জীবনব্যাপী কাজের হিসাব হয় l তার সুকর্ম, অপকর্ম, পাপ পূণ্যের বিচার হয় এবং তার ভিত্তিতে তার স্বর্গবাস বা নরকবাস হয় l তাই মানুষ মাত্রেরই আজন্ম লালিত সাধ থাকে মৃত্যুর পরে তার যেন স্বর্গে স্থান হয় l ইহজগতে তার যেমনই অবস্থা থাক, সেই কুটিরের ঘুলঘুলি গলে তার স্বপ্ন স্বর্গের ভাবনায় ব্যস্ত থাকে l
তাই পৃথিবীতে যাপনকালেই নিজ নিজ ঈশ্বরের কাছে মানুষ প্রার্থনা করে, দোয়া করে l তার কৃতকর্মের পাপ থেকে ঈশ্বর আল্লা যাতে তাকে মুক্ত করেন তার প্রার্থনা করে l দোয়া হলো কোনো কিছুর জন্য প্রার্থণা করা। অর্থাৎ কোনো অভাব, প্রয়োজন বা হাজত পূরণের জন্য আবেদন করা। তাসবিহ্ বলতে আল্লাহ তায়ালার গুণকীর্তন ও মহিমা প্রকাশ করাকে বুঝায়। তাসবিহ পাঠের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ করার পাশাপাশি ইবাদতকারী আল্লাহ তায়ালার শান ও মান বর্ণনা করেন। আর দোয়ার মাধ্যমে বান্দার চূড়ান্ত বিনয়, আকূতি ও অসহায়ত্ব প্রকাশ পায়। নামাজ শেষে তাসবিহ পাঠের জন্য কুরআনে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
ইসলাম ধর্মমত অনুযায়ী মৃত্যুর পর যে সকল পুরুষ জান্নাত অর্থাৎ বেহেস্তে যায় তারা সেখানে হুর এর সঙ্গে মিলিত হয় l হুর হলো জান্নাতবাসী নারী l এরা প্রত্যেকে এমন অবস্থায় থাকে যে কারো প্রতি ঈর্ষা থাকে না।
যারা জান্নাতে যায় আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁদের সম্মানিত করার জন্য এই হুর থাকে। জন্ম থেকেই জান্নাতে এই হুর প্রাপ্তির স্বপ্ন থাকে সব পুরুষের l ফলে বিমোহিতভাবে নিয়মমতো আরাধনা চলে l জীবন যাপনে পাপ অন্যায় কিছু হয়ে থাকলে পরম করুণাময় ঈশ্বরের কাছে তা স্বীকার করে নিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করে নিজেকে জান্নাত যাবার উপযোগী করে তুলবার জন্য প্রয়াসী হয় মানুষ l
প্রার্থনার পুর্বে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে সে l নিষ্ঠা সহকারে কর্তব্য পালনের ইচ্ছাশক্তি প্রকাশ করে l সংকল্পবদ্ধ হয় l ভক্তি সহকারে প্রার্থনা করে l ভুলভ্রান্তি কিছু হলে তার জন্য যা অতিরিক্ত করণীয় সেটাও করে পরম ভক্তিভরে l
ঈশ্বরের কাছে জাহান্নাম গমনের শাস্তি থেকে তাকে মুক্তি দেবার জন্য প্রার্থনা করে l শান্তির কামনা করে l
পরলোকে বেহেস্ত প্রাপ্তির স্বপ্নে পূর্ণ ধর্মপ্রাণ মানুষের
ঐকান্তিক একনিষ্ঠ প্রার্থনা প্রীতির বিষয়ে আধ্যাত্মিক ভাবনাপূর্ণ এই মনোরম কবিতাটির জন্য কবিকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা l