১২১.
প্রেম ভালবাসার আগমণ মানবজীবনে এক স্বাভাবিক ঘটনা l কিন্তু বিষয়টি অনিশ্চয়তাপূর্ণ l পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা ও বিশ্বাসের যে ভিত্তিভূমি থেকে এই সম্পর্কের সূত্রপাত, যে কোনো এক পক্ষে যদি তা পালনের দায়বদ্ধতা না থাকে, তবে সেই সম্পর্ক স্থায়ী হয় না, চিড় ধরে যায় l আর যদি থাকে বিশ্বাসঘাতকতা, পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, ভালবাসার অভিনয় - জীবন নরকসমান হয়ে যায় l কোনো কুল থাকে না l সব পথ যেন বন্ধ হয়ে যায় l নিজের প্রতিও তখন ভালবাসা থাকে না l জীবনে বিতৃষ্ণা চলে আসে l একটি ভুল শোধরাতে গিয়ে তখন একাদিক্রমে একাধিক ভুল হতে হতে জীবন জটিল থেকে জটিলতর রূপ নেয় l


ন্যান্সি দেওয়ান সামিরা রচিত "পারবো না আমি সেখানে" কবিতাটিতে পাই এক ব্যর্থ প্রেম সম্পর্কের আভাস, ভালবাসার মাধুর্য হারিয়ে গিয়ে যেখানে স্থূল
দেহ সম্পর্ক প্রধান, প্রেম সম্পর্কে বিশ্বাসহীনতায় কষ্টময় যাপন এবং তার পরিণতিতে জীবনে নেমে আসা অন্ধকার l    


প্রণয় স্থায়ী হয় নি। কারণ সে সম্পর্কে হৃদয়ের প্রেম ছিলো না। সেখানে ছিলো যন্ত্রণার বাস। সম্পর্ক শুরু হবার পর তার অপরাধ যৌনতা শরীরে পচন ধরায়। বদলে যেতে যেতে যন্ত্রণার চোখের জলে মেলে শুধু শূন্যতা। পালিয়েও মুক্তি মেলে নি। ঘুরেফিরে সেই নষ্টামির অপরাধজগৎ। তাই কোনো সম্পর্কেই ফিরে যেতে ইচ্ছে করে না। মানুষগুলোর অন্য কিছু  নয়, শুধু সুখের খোঁজ। কাম আগুনের লেলিহান শিখায় স্বপ্নের রাজ্য ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়। ভ্রমবশত, রাধাকৃষ্ণের হৃদয়ঘটিত প্রেমের সমান যে সাময়িক সম্পর্ক ছিলো বলে মনে হয়েছিল, তার স্বরূপ উদঘাটিত হয় l ভ্রমের নিরসনে সম্পর্কের বিচ্ছেদ হয়। গভীর মনোজগতে সব সংকল্প প্রতিশ্রুতি বিস্মৃত হয়। যা কিছু স্বপ্ন ছিলো, সব যেন শুধু হাতছানি, মরীচিকা বলে মনে হয়। জীবনযুদ্ধে নিজেকে মনে হয় যেন এক পরাজিত সৈনিক।


প্রেমে তিক্ত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এক লুণ্ঠিত, হতাশ প্রেমিকের মর্মবেদনার কথা শুনিয়েছেন কবি।
কবিকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা !