১৯১.
বেঁচে থাকা জীবনের এক চরম বাস্তবতা l যখন বেঁচে থাকার কোনো কারণ থাকে না, কোনো উদ্দেশ্য থাকে না, তখনো বেঁচে থাকতে হয় l দিনানিপাত করে যেতে হয় l বেঁচে থাকা অর্থ জীবনের প্রয়োজন সংগ্রহ করে যাওয়া l সেটা করতেই দিন পার হয় l
তবু স্বপ্ন থাকে l কিছু পাবার স্বপ্ন l প্রিয়জনের সঙ্গে মিলিত হবার স্বপ্ন l
কবি রিজা মিত্র 'স্বপ্ন' কবিতায় এভাবেই তাঁর বেঁচে থাকার যৌক্তিকতা সন্ধান করেছেন l প্রিয়জনের জন্য অপেক্ষা করে থাকাই তাঁর কাছে বেঁচে থাকার রসদ l এই প্রেরণাটুকু না থাকলে তাঁর বেঁচে থাকার কোনো অর্থ থাকতো না l তাঁর প্রিয়জন সর্বদা তাঁকে হাতছানি দিয়ে ডাকে l তিনি সেখানে চলে যাবার কথা চিন্তাও করেন l কিন্তু জীবনের কিছু বাস্তবতা, কিছু বাধ্যবাধকতার কারণে তিনি সেটা করতে পারেন না l তাঁকে তাঁর বর্তমান অবস্থাতে বর্তমানেই বেঁচে থাকতে হয় l কোনো অজ্ঞাত কারণে তাঁকে অপেক্ষা করে থাকতে হয় l
যাঁর অপেক্ষায় তিনি বসে আছেন, তিনি তাঁকে চর্মচক্ষে দেখেন নি কখনো l কিন্তু যেন তাঁর মনে হয় তিনি তাঁকে দেখেছেন l সেই প্রিয়জনের সঙ্গে দূরদেশে পাড়ি দিতেও তিনি মানসিকভাবে প্রস্তুত l
অপেক্ষায় আছেন কবে আসবে সেই সুযোগ, কবে আসবে সেই আহ্বান l
অপেক্ষায় অপেক্ষায় সময় যায় l মনে প্রশ্ন জাগে এই আকর্ষণ শুধুই একতরফা কি না l তিনি যেমন কারো জন্য প্রেম অনুভব করেছেন মনে, তার দিক থেকেও কি সেরকম সঙ্কেত আছে ? তিনি যেমন তাঁর প্রিয়কে নিয়ে স্বপ্ন দেখেন, তাঁকে মনের সকল কথা বলার জন্য ব্যাকুল হন, সেদিক থেকেও কি এমন অনুভব জাগে ? তাঁর দিক থেকেও কি স্বপ্ন দেখার বিষয়টি ঘটে ? প্রিয়ার জন্য আছে তাঁর হাতে এত সময় ?
কবিতায় বর্ণিত প্রেমিকা জানেন না কবে তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে তাঁর দেখা হবে, আদৌ দেখা হবে কি না l কিন্তু তিনি তাঁর মনের বাগানে গোলাপ দিয়ে তাঁর প্রেমিকের ছবি সাজিয়ে রেখেছেন l তাঁর দিক থেকে এই প্রেমের সম্পর্কে কোনো দ্বিধা সংশয় নেই l যদিও তিনি নিশ্চিত নন, তাঁর প্রেমিক তাঁকে ঘিরে একই স্বপ্ন দেখেন কি না l
অনিশ্চয়তায় ভরা এই সম্পর্কও কবির কাছে মূল্যবান l এই ভালবাসার জোরেই তিনি জীবনকে টেনে নিয়ে চলেছেন l
সুন্দর প্রেমের কবিতার জন্য কবিকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা l