৩২.
কবিতাটির মধ্যে ফুটে উঠেছে আমাদের দেশের অর্থনৈতিক অসমবণ্টনের এক বাস্তব ছবি, যে দেশ প্রধানত গরিবদের, যেখানে অল্প কিছু ধনী ব্যক্তি থাকেন l ধনীদের অর্থ অপচয়ের রূপকধর্মী এই উদাহরণে চতুর্দিকের হত দরিদ্র মানুষগুলির দুঃখ, কষ্টের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে গেছে l
কবি এক সুন্দর, শুভ, সাম্যে ভরা দেশ ও সমাজের কল্পনা করেন, স্বপ্ন দেখেন l তাঁর কলম থেকে নির্গত বাণী মানবজাতিকে মানবতার পাঠ দেয় l এক উন্নত সহমর্মী সমাজ গড়ার লক্ষ্যে কবির লেখনী সচেষ্ট থাকে l সেই কবি যখন প্রত্যক্ষ্ করেন এরকম করুন, দেশ ও জাতির কাছে লজ্জাস্কর এক দৃশ্য, যেখানে একদিকে অর্থের বিশাল অপচয় হচ্ছে, লক্ষ টাকার পোশাক কিনে এক ধনী ব্যক্তি নির্লজ্জভাবে অহংকারের অট্টহাসি দিচ্ছেন, অথচ পাশেই এক দরিদ্র মাতৃসমা বিবস্ত্রাা বৃদ্ধা, তাঁর লজ্জা নিবারণের জন্য এক টুকরো কাপড়ও নেই l
স্বাভাবিক ভাবেই এই দৃশ্য কবিকে ব্যথিত করে l আত্মগ্লানি আসে তাঁর l তিনি অনুভব করেন, তাঁর কবিতার মানবকল্যাণকর বাণী মানবহৃদয়ে প্রবেশ করে নি l অসৎ, অহংকারী ব্যক্তিরা সমাজে গলা চড়িয়ে, মাথা উঁচু করে বেড়ান, সাধারন মানুষের দুর্দশার শেষ নেই এবং তাঁর মতো কবি, গায়কদের দেশে কোনো কদর নেই l এই অমানবিক কাজ হতে দেখে দেশের প্রতিও তাঁর অভিমান হয় l
তাঁর রচিত কবিতা, গান এখনও অভীষ্ট অর্জন করে নি, তাঁর গান তাই এখনও অসমাপ্ত আছে - এই বোধ আসে কবির l অসমাপ্ত গান সমাপ্ত করার সংকল্প দৃঢ় হয় কবির ।