ইংরাজি মাস্টার হাতে চক ডাস্টার টিউশানি কর্মেতে ব্যস্ত
ছাত্রীরা আসে যায় নিয়মিত দুবেলায় পড়াশোনা করে তারা চোস্ত l
অগ্রজ শিক্ষক কাশে শুধু খক্ খক্ নস্যটা রোজ দেয় নাকেতে
চেহারাটা চকচকে টাকখানা মস্তকে মুখ উজ্জ্বল সদা হাসিতে l
মিষ্টি যে হাসি তার বিনয়ের অবতার সবা সাথে তার  সম্পর্ক
স্কুলে শোরগোল কভু লাগে কোন্দল তার নাই কারো সাথে তর্ক l
সাথে এক রঞ্জন ফলাফল আয়োজন থেকে থেকে জিলাপির বায়না
কাজ থেকে উঠে যায়, বাতিল তো বসাটাই বিস্কুট চা-টা যদি হয় না l


একাদশে মেয়ে-টি তার শিক্ষক দরকার দত্তের সাজেশান নেয় যে  
স্কুলে দত্তটা পাকা তার বুদ্ধিটা মুশকিল আসানের পায় সে l
যে কোনো সমস্যায় রোদ অমাবস্যায় দত্তকে করে সবে ভরসা
বিয়ে কিবা পরকাল ইংরাজি বঙ্গাল সময় থাকতে কিবা সহসা
বুদ্ধিটা সাঁতলে নিদানটা বাতলে মুক্তির পথ দেয় দত্ত
বড়ো ছোট সকলে যখনই বিপদে শরণেতে দত্তের সত্য l
মুশকিল আসানের ডুবে কিবা ভাসানের বুদ্ধিটা সর্বদা পোক্ত
যার যবে দরকার সাজেসান সবাকার হাসিমুখে সেবা পায় ভক্ত l


পেয়ে যায় বুদ্ধিটা ইংরাজি শুদ্ধিটা টিউশানি লেগে যায কন্যা  
সপ্তাহে দুটি দিন রোদ কিবা দুর্দিন ইংরাজি চর্চার বন্যা l
মাস শেষে দত্তকে পুনরায় ধরে ঠুকে যদি পায় ছাড় কিছু একটা
ইস্কুলে একসাথে কাজ করে দিনে রাতে অন্যায় কিছু নয় দাবীটা l
চল্লিশ টাকা মাঝে দশ টাকা দিবে না যে মেনে নেয় ইংরাজি স্যারটা
মাস যেই শেষ হয় টাকাখানি দেয়া হয় বাবা পান ঝামেলায় ছুটকা l
পর মাসে পুনরায় বাবা পড়ে ঝামেলায় ভাবনাটা আসে তার অন্য
প্রতিমাসে দেয়া টাকা সহোদরে একা একা কেমনটা লাগে যেন বন্য l
যতদিন পড়ে মেয়ে একাদশ দ্বাদশে অগ্রিম দিতে চান গোটাটা  
দত্তকে বলে যান সাথে সাথে দিশা পান টাকা পায় মাস্টারে পুরোটা l
দত্তের কারিকুরি বাবাটাকে খুশি করি পুনরায় ছাড় হয় টাকাটা
একবারে টাকা পেলে কিছু টাকা যাক চলে - মাস্টারে দিল সে কি হাসিটা !


এইটুকু ঠিক ছিল বাকি সব কি যে হল - যুগ এলো নিজ খেলা খেলতে
সুন্দরী কন্যাটি ভালোবাসা গুটি গুটি  এক তার মজে গেল প্রেমেতে l
খবরেতে জানা গেল পালিয়ে সে বিয়ে হল বাবা সেটি মেনে নেন খুশিতে
যাক যেটা হয়ে গেছে দুঃখটা শুধু মিছে লাভ নাই একে ওকে দূষিতে l
চলে যায় দিনকয় কারো মুখে কথা নয় দত্তটা পায় নাকো শান্তি
সবে মিলেমিশে রয় মতি নাই কলহয় বুদ্ধিতে তার পড়ে ক্ষান্তি l
বিপদটা লেগে রবে পরিবেশ কলরবে একজন দিবে গাল অন্যে
দুজনেই দত্তকে খুঁজে যাবে নানা চকে বুদ্ধির প্রয়োজনে হন্যে l
বুদ্ধির ভাণ্ডার কভু নাই শেষ তার অগুনতি দিয়ে যায় রাস্তা
উভয়েই বল পায় মনোবলে লড়ে যায় বেড়ে যায় তাহাদের আস্থা l


বাবাটাকে টেনে ধরে নিয়ে যায় অন্দরে বোঝায় সে খুব দিয়ে মনটা
অগ্রিম জলে গেল পুরোপুরি নিষ্ফল দিয়ে দেয়া ওই সেই টাকাটা l
বাবা তাই বুঝে যায় টাকাটা ফেরত চায় পড়ে নি তো মেয়ে তার পরেতে
যুক্তিটা জোর দিয়ে সহোদরে বলে গিয়ে মেনে নেয় ইংরাজি স্যারেতে  l
কিন্তু সময় চায় সেদিন তো টাকা নাই পরদিন দিয়ে দিবে  বলে সে
তারপর কাজে কাজে দত্তকে পায় মাঝে তার কাছে এই কথা বলে সে l
দত্তটা জেনে খুশি, বুদ্ধিটা বড়ো বেশি, এই তবে মগজেতে দেয় শান
ইংরাজি মাস্টারে বোঝালো সে বিস্তারে সাথে দিল দারুণ সা-জেশান l


মেয়েটা যে পালাল প্রেমিককে পটালো বিয়ে হল নাই কোনো খরচে  
ইংরাজি মাস্টার হাতে নিয়ে ডাস্টার পড়ালো কি আজগুবি ধাঁচেতে l
পাঁচ শত বদলে লাখ লাখ সদলে বাবা হাতে রয়ে গেল গোটাটা
এরপর কি লাজে টাকা চান কি কাজে যুক্তিতে বধ পুরো বাবাটা l
এখানেই শেষ নয় বাবা শেষে রাজি হয় মিষ্টিটা বিলাবেন সবাকে
লাখ টাকা গেল বেঁচে গিলাবেন যেচে যেচে সব থেকে বেশি ওই স্যারকে l


আমরা মানুষটা, করি কি হিসাবটা, চাই - যেন সর্বদা জিতে যাই
প্রতি পলে মাথা ঘামে, খুশি হই কম দামে - শেষ হাসি হাসে, সে তো বিধাতাই l