এ কথা হয় না কখনো পুরাতন
ইতিহাস নয় তা, সে যে জীবনের স্রোত
গ্রাম-গঞ্জ-শহর-বন্দর-খাল-নালা-নদী বক্ষে
পাল তুলে রয়েছে চিরপ্রবহমান
এই বাংলার ঘরে ঘরে,
প্রতিদিন সে কথা নতুন,
রয়েছে চির উজ্জ্বল স্মৃতির সে পাতা।  


জীবন দিয়ে ভাষার প্রতি ভালবাসার প্রমাণ,
কেউ কি শুনেছ কখনো
আমার দেশের সোনার সন্তানেরা
দিয়েছে প্রাণ দেশের জন্যে, ভাষার জন্য করেছে আত্মদান
গৌরব গাঁথায় সে বীরেরা হয়েছে অমর, চিরকালে গরীয়ান!  


শোন, এখনো ঐ শোনা যায় তাদের কন্ঠস্বর –


“ভুলে গেলে মায়ের ভাষা
কেমন করে গাইবে পাখি গান  
কেমন করে সাঁঝের বেলা ধবলিরে আনব ডেকে ঘরে
কেমন করে জ্বলবে হৃদয় ফাগুন দিনের উষ্ণতায়,  
আষাঢ় বাদল যাবে কি থেমে হারিয়ে আপন ভাষা?
পৌষে আর হবে না পার্বণ  
কুয়াশা আসবে না আর শিশির ভেজা ঘাসে
ভাটিয়ালী মরবে বুঝি কন্ঠ হারা হয়ে,  
আর হবে না উদাস গাঁয়ের বঁধুর পাগলপরা প্রাণ!    
রাখালের বাঁশীতে বাজাবে তবে কোন সুর  
থেমে কি যাবে ক্ষেতের কানে লাঙলফলার সোনালী গুঞ্জণ?  
টিয়া পাখী যাবে কি ভুলে শিখানো সব বুলি
মনের খুশী থাকবে কি প্রজাপতির পাখায়
ফড়িং কি আর লাফাবে আপন মনে, শালিক যাবে ভুলে চিরকালের গান?


“ভুলে বাংলা ভাষা বলব কথা বিদেশী ভাষায় - কেমন করে হবে?
আমার দেশ – পারব না বলতে – বাংলাদেশ?  
মুছে গেলে মধুর এ ভাষা, শূন্য হবে বাংগালীর জীবনের সব আশা,
স্বপ্ন দেখা শেষ হবে যে তা হলে!  
মাঠ আমাদের রইবে না আর আকাশ জুড়ে
বাতাস আসবে না আর কন্ঠে নিয়ে দখিন রানীর সুর,
মা আমাদের থাকবে না আর মা।  
  
“না, কিছুতেই মানব না এ কালো আইন  
প্রাণ দিয়েও রাখব ভাষার সম্মান;  
দেশের জন্য রক্তের মূল্যে আজ আমরা দিয়ে যাব ভালবাসা,  
শুধু বিদায়ের বেলা রেখে যাই এই এক টুকরো আশা  -  
আমাদের রক্ত ফুটবে ফুল হয়ে বসন্তের শিমুল উৎসবে
মাতৃভাষায় কোটি কন্ঠ নির্ভয়ে গান গাইবে প্রাণ খুলে!”    


তারপর?


তখনো জাগেনি ভোরের পাখি
জেগেছে বন্দুকের গর্জণ
কালো রাজপথে লুটায়ে পড়েছিল
সোনার সংগ্রামী সন্তানেরা  
মায়ের অধিকার ভাষার অধিকার  
রক্ষা করতে তারা দিল জীবন বলিদান
উনিশ শ বাহান্নর একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল সে দিন!