দুফোঁটা চোখের জল
ঝরিল যদি টলমল
ব্যথার সিন্ধু হৃদয় বিন্দু
কোথা হতে এল অবিরল?


কেহ কি রাখিবে মনে
সে জল ঝরেছিল কোন ক্ষণে
কি কারণে?
কার কিবা আসে যায়
কেহ হিসাব নাহি চায়,
কেহ বুঝিতে কি পারে
প্রতিদিন কাঁদে কতজনে?


কেহ কি বুঝিল
দুফোঁটা সেই জল
রেখেছে লুকায়ে জীবনের যাহা কিছু সুন্দর  
ভালবাসা মমতার;
হোক না সে ক্রন্দন শোকের
অথবা আনন্দের,  
গভীর গভীরে সে অমূল্য রতন
সে যে  অন্তরের লাবন্যে মাখা মানিক সাগর!  

যে কাঁদিল অথবা কাঁদাইল
শুধু হৃদয়ে তাদের
ব্যথার ক্ষত রহিল চিরকাল
কালের বন্ধনে লুকানো যতনে
অন্তরের মনিকোটায়!
রহিল হৃদয়ে দুফোঁটা জল
লিখিত অমর কাব্যে  
বর্ণআঁকা স্বর্ণের অক্ষরে উজ্জ্বল।


যদি তুমি হও ব্যথার ব্যথী অথবা ভাগ্যবান
মর্মের অন্তরে রাখিয়া মর্ম  
হৃদয়ে রাখিয়া হৃদয়
কালের দেয়ালে রাখিও  কান;  
শুনিলেও শুনিতে পাবে ঢেউয়ের কানাকানি  
ফোঁটায় ফোঁটায় সে অশ্রুজল
তুলিছে কল্লোল সরোবরে সিক্ত কাব্যদল,  
আসি দিবে দেখা তোমারও চোখে তখন
সেই দুফোঁটা বিন্দু অমৃত সিঞ্চিত কাঞ্চন!