প্রথম প্রভাতে ভিক্ষাপাত্র হাতে
আমার আগমন পৃথিবীতে
ভিক্ষুক আমি শুধু নেব, কুড়াবো ভিক্ষা মাগি যা খুশী আমার
সেই বিধান দিল স্রষ্টা আমায়।


প্রথমেই নিলাম জীবন ভিক্ষা
মা আমার গরিয়সী মহতী
আমাকে জন্ম দিল আপনার রক্তস্রোতে
শিখালো ভালবাসা দশমাসের বেদনার্ত মধুর প্রতীক্ষাতে।


তারপর চলিলাম পথ, দেখিলাম কতকিছু  
নিলাম কুড়ায়ে যাহা পাইলাম পথে  
কত কিছু হারায়ে আবার
কাঁদিলাম বেদনায়
অশ্রুমুছে চলিলাম পূনরায়
জগতের এ পথে আমার ভিক্ষাপাত্রে পেয়েছি যাহা
তার কিছুই আমার নহে ভুলিলাম সে কথা।


একদিন দেখা হল তার সাথে
সেও ভিক্ষুক আরেকজন আমারই মতন এ জগতের পথে
বলিল সে -
“কি দাম দেবে যদি দিই তুমি চাও যাহা
যদি দিতে পার দাম
যাহা তুমি চাও তাই তুমি নিও তবে
বিনিময় হোক চাওয়া-পাওয়া।”


আমার ভিক্ষাপাত্র হতে তার ভিক্ষাপাত্রে
করিলাম বিনিময় ভালবাসা
দুইজনে চলিলাম একসাথে
মনে গেঁথে সহস্র স্বপ্ন-আশা;
ভুলিলাম এসেছি এ পথে শূন্য হাতে আমরা ভিক্ষুক
রাজারানী হয়ে সম্রাজ্য গড়িলাম সুনন্দ সুখে
ভুলিলাম যুগান্তরের এ বন্ধন একদিন পূনরায় হবে মিছে
ছিড়িবে সহসা কালের উপহাস হাস্যে!


হায়, একদিন শেষ হলে সব খেলা
বিদায় বেলাভূমে দাঁড়িয়েছি আসি
সময়ের স্রোতে সব গেছে ভাসি
আছে শুধু হাতে এখনো সেই ভিক্ষাপাত্র খানি;
কত অর্থ, জ্ঞান, মুক্তামনি, ভালবাসা, স্বপ্ন-আশা
কুড়ায়ে পেয়েছি যাহা সারা জীবন
কত ধনে হয়েছি ধনী, কত জ্ঞানে হয়েছি জ্ঞানী
সবে পূর্ণ সে ভিক্ষাপাত্রখানি আজ অমূল্য মূল্যবান!
পাত্রখানি কয় স্মিত হাসি – “ধন্য তুমি,  
তুমি পূর্ণ করেছ আমায় বহু রতনমনি।”


এমন সময় কালদূত আসি কয়,
“চল, হয়েছে সময়।”
চলিলাম আমি হাতে নিয়ে সে পূর্ণ ভিক্ষাপাত্রখানি।
হেসে কালদূত কয়, “রেখে যেতে হবে এইখানে
এই দ্বারে, এতো নয় আর সাথে নিবার!”  


এতদিন আমি বাসিয়াছি ভাল যারে
কুড়ায়ে রত্ন রেখেছি যেথা যত্ন করে
কেমনে যাব ফেলি কি হবে তার
এতসব অর্জন আমার -
ভাবিতেছি মনে।  
সহসা ভিক্ষাপাত্র কহিল আমারে,
“ভেব না আমার কথা, আমি ভিক্ষাপাত্র  
তোমা বিনা আমি থাকিব ভাল।
আমার ভিতরে রেখেছ যে রত্নসঞ্চয়
সকলি পেয়েছো কুড়ায়ে
পূর্ণ করিয়া এনেছো রেখে যেতে এই দ্বারে।
ভিক্ষা ভরা পাত্র - এ তোমার নয়,  
ভিক্ষুক তুমি, সেই তোমার সত্য পরিচয়!”