এসেছিল ভালোবাসা সহসা একদিন।
সেই থেকে আসিত সে প্রতিদিন,
থাকিত বসে সবকিছু ফেলে,
করুণাভরা মায়াবী দুটি আঁখি মেলে;
এ জগতে আর যা কিছু আছে  সকলি মূল্যহীন।


আকাশ ভরা চাহনি তার মথিত বেদনার সুরমা হৃদয় জুড়ে
উদোমহীন দুটি প্রাণ উড়িত মনের অন্ধ আকাশ ফুঁড়ে
পেরিয়ে অসীম পথ নামিত এসে এঁকেবেঁকে  
স্বপ্নভরা একটি নীড়ে, নিবিড় সুখে দুজনে কাছাকাছি,  
দিবসের হাসি ফুলের দলে উচ্ছ্বসিত সুখে ভাসিত পরিমলে।
অমর কাব্য করিত রচনা, অনন্ত নীরবতায় পুষ্পিত প্রাণে,  
রাখিত ব্যথা হৃদয়পাতে মধুর অধর স্পর্শিত চুম্বনে,  
চিরকালের সাথী অবিচ্ছেদ্য রহিবে জীবনে-মরণে।  


এমনিভাবে সকল চাওয়ার পরম পাওয়া ভালবাসার খেলা খেলে
একদিন হঠাৎ এসে সে বলে, “আমায় যেও ভুলে!”    

মর্মে বাজিল সে কথা – এতদিনের অমর ভালবাসা
আকাশ-মাটিতে সম্মোহিত চির নন্দিত সেই স্বপ্ন-আশা
আহত পাখির মত আচম্বিত চকিতে গড়াগড়ি ধরাতলে,    
সহসা কাঁদিল বেদনায়, ধরনীতে ঝরিল বৃষ্টির জলে,  
“এতদিনের স্বপ্ন তবে কি আজ সকলি ভুল?”  


“ভাগ্য বিমুখ, নিয়তি খেলেছে নিঠুর খেলা,” কহিল সে ধীরে,
“আজ তাই যেতে হবে চলে বহু দূরে।      
মোর ভালবাসা তুমি, জীবনের আশা
এমনি ঝরিবে ঝড়ে ছিল কি জানা? দিলাম বেদনা, পাইলাম বেদনা
অন্তরের ব্যথা থাকিবে কাতর চিরকাল ব্যথাভরা অন্তরে!    
‘ভালোবাসি’ তাই মাথা রেখেছিলাম তোমার কোলে,  
সত্য মোর ভালোবাসা রহিবে সত্য চিরকালে।


সব হাসি-গান-কবিতা - আমার সকলি ভুলিও, ভুলিও আমাকে।
বিদায় বেলা গেলাম রেখে হৃদয় বাঁধিয়া তোমার ব্যথার আঁচলেতে।    
চেও না খুঁজিতে তাকে এ ভালোবাসা যার,  শুধু ভালোবাসা মোর
যেওনা ভুলে, যতনে তাকে রেখ তুলে স্মৃতির বেদনাতে তোমার।”