প্রচণ্ড তাবদাহে পুড়ছে প্রকৃতি ঠিক হৃদয় দহনের মত,
চারিদিকে খা খা ধূসর তপ্ত বালিময় তৃষ্ণার্ত মরু জাহাজ উটের মত -
আমি চলেছি নিরুদ্দেশ গন্তব্যহীন পথে।
দূর্গম গীরিপথ মাড়িয়ে শ্বাপদ সঙ্কুল অরণ্য ছাড়ি
স্বর্ণমৃগরূপী তোমারী সন্ধ্যানে ছুটে চলি নিশিদিন,
কখনো ভাবিনি আমি নিঃসঙ্গ, ক্লান্ত কিম্বা পরিশ্রান্ত,
হয়তো বসন্ত আসিবে ফিরি, পুষ্প-পত্র ঘিরি
কোকিলের কুহুতানে সুরেলা মধুবীণা উঠিবে বাজি।
জ্যোতির্ময় ইন্দ্রধনু দেখিব স্পষ্ট মনের আরশিতে
কল্পনা সাগরে নয়, অলক্ষ্যে গোপনেও নয়
সে যে অতি সত্য -
পূর্বগগণে পূর্ণীমা শশীরূপে আছ হৃদয় মাঝে।
ভরা ভাদরে জেলের নৌকাতে রূপালী ইলিশের হাসির মত-
দেখেছি তোমার রূপের ঝিলক।
কোন তিমির অতলে মিলিয়ে যাবে
গহীন অরণ্যে, অতল সাগর তলে হারাবে সে কাল্পনা জাগেনি কভু।
তোমার যৌবন তরঙ্গ লাবণ্যহিল্লোলে উন্মত্ত
দেখেছি চেয়ে কোন এক স্বর্ণালী প্রভাতে,
স্পর্শের জেগেছিল সাধ,
পুষ্প পাপড়ির মত ঝরে যাবে বলে প্রসারিত করিনি হাত।
অনন্য শোভিত তুমি যে অনন্যা পার্বতী রূপী
আজো আমি রয়ে গেছি শুশ্রূধারী দেবদাস মতি।
             ***