যে জলে কোলাহল নেই, আমি সেই জলে পড়ে আছি;
হিংস্র স্রোত আমাকে গিলে খেয়ে আবার গলাধঃকরণ করে
যেন বেঁচে থেকেও বারবার মরছি আবার মরে গিয়েও বারবার বাঁচছি;
এখানকার রোজ উৎসব আমার ঘুমের প্রিয় শত্রু -
হিংস্র ডাকঢোল কিংবা প্যাকেজ ভর্তি নোংরা বুলির গান
আমায় চোখ বুঝতে দেয়না, বালিশে মাথা রাখতে দেয়না
এমনকি বিছানাটা নিছক গড়াগড়ি খাওয়ার প্লেস আর দীর্ঘশ্বাস টানার দীর্ঘ এক প্রহর!
আমার চেনা গলিতে হেটে গেলে বেজে উঠে আর্তনাদ -
যেখানে শিশু কাঁদে, মা জননী কাঁদে এমনকি অনাহারী কাঁদা বৃদ্ধ দাদু ও
ঢুকরে ঢুকরে নিঃশ্বাস উঠায়, যেন ডিপ টিওবয়েলের জল উঠাচ্ছে!
সব কান্না চাপা পড়ে বাহির পাশের উন্মাদ গানে - তারসংযুক্ত সাউন্ডবক্সের তামাশায়;
এখানে বড্ড উন্মাদ প্রাণীরা বসবাস করে, যাদের নাম হয় মানুষ ;
তাদের ভিড়ে সত্যিকারের মানুষ প্রাণীরা তলিয়ে যায় অন্ধকারে -
বুঝি জীবনের এটা নিত্যান্ত প্রহসন যেখানে ঈশ্বর কোনো এক ভাবের মূর্তি!
যার আকারও কল্পনা কিংবা যার কাছ থেকে কিছু প্রত্যাশাও হতাশা ;


যে জলে কোলাহল নেই, সে জল নিস্প্রাণ -
যেন অসহায় জননী ঘুমে গেছে, পিঠে অসহ্য চপেটাঘাত সয়ে সয়ে;
তার চিৎকার ভেদ করতে পারেনি, গানের ডিজে সমান বহিস্থলে ;
কেউ শুনতে পায়নি কোনো এক গলির কান্না - কোনো এক শহরের আর্তনাদি আর্জি -
সবাই গানে গানে নাচছিল, ঢুলছিল - সবাই হেসেছিলো - উন্মাদ ছিলো;
এতো উন্মাদনার ভিড়ে কখোন যে গভীর জলে তলিয়ে গেছি - একা - নিঃসঙ্গ;
নিজেকে খুঁজে পেয়েছি সেই জলে, যা কোলাহল হীন ;
হয়তোবা দুঃখিনী মায়ের যা করুণ অশ্রু কিংবা অনাহারী শিশুর ঘুমিয়ে যাওয়া শেষ চিৎকার;