আলোচনার বিষয়

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

শব্দ - জীবনে ও কবিতায়

‘শব্দ’ - ইংরেজিতে যাকে বলে Word/Sound । একজাতীয় তরঙ্গ (কম্পন বা echo) বিশেষ। মনের ভাব প্রকাশে ব্যক্ত বাক্যস্থিত পদের একক বা গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। অর্থান্তরে এর নানান রূপ আছে যেমন; গর্জন (sound/noise/loud) ধ্বনি বা সুরধ্বনি (tune/tone/roar)। ভাষা প্রকাশের এক আদর্শ মাধ্যম –‘শব্দ’। সুললিত ‘শব্দ’ মানুষের মনে ও মননে আনন্দের সঞ্চার করে। যেমন; গান কিংবা কবিতার শব্দমালা মানব-চিত্তকে আনন্দ বিষাদের দোলায় আন্দোলিত করে।

এই ‘শব্দে’র প্রকাশ নানান ভাবেই হয়ে থাকে। কখনো তা চিত্তপ্রসারী, কখনো চিত্তবিদারী। ‘নাদ’ যেমন চিত্ত মনোরঞ্জনী তেমনি ‘নিনাদ’ বা ‘আর্তনাদ’ হলে তা-ই হয়ে উঠে চিত্তবিদারী। সুতরাং, বলা যায়, মানব চিত্তের সংকোচন বা প্রসারণের জন্য ‘শব্দ’ অনেকাংশেই দায়ী।

‘শব্দে’র প্রকাশ দুভাবেই হতে পারে - সশব্দ প্রকাশ কিংবা নিঃশব্দ প্রকাশ। ‘শব্দে’র সশব্দ প্রকাশ বায়ুস্তরে কম্পাঙ্ক তৈরি করে যা শ্রবণযন্ত্র (কান) গ্রহণ করে মানুষের মনে পৌঁছে দেয়। কিন্তু নিঃশব্দ প্রকাশ সরাসরি মননে কম্পাঙ্ক তৈরি করে। সুতরাং, ‘শব্দে’র নিঃশব্দ প্রকাশ মানুষের মন নিয়ন্ত্রণের প্রত্যক্ষ ও শক্তিশালী প্রভাবক। আবেগে কল্পনায় ভাবে ও প্রকাশে ‘শব্দে’র নিঃশব্দ প্রকাশ মানুষের চিত্ত চাঞ্চল্যের প্রভাবকও বটে। ‘শব্দে’র নিঃশব্দ প্রকাশ মানুষের মন-মননে, চিন্তা-ভাবনায়, সম্পর্ক তৈরি কিংবা সম্পর্ক ভাঙতে, আবেগ নিঃসরণে, কল্পনা সৃজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

একটি গান কিংবা কবিতার শব্দরাশি কখনো নদী বা সমুদ্রের মতই শব্দময় হয়ে উঠতে পারে। নদীর কুলুকুলু ধ্বনি, ঝিঁঝিঁপোকার সিঞ্চনী কিংবা বাতাসে ঝরা-পাতার মর্মর ধ্বনির শব্দগত অর্থ নেই বটে – আছে ভাব প্রদায়ী দ্যোতনা। এদের নীরব ভাষা সাদা অর্থে অর্থহীন মনে হতে পারে। সাধারণ্যে তা পাঠযোগ্য বা বোধযোগ্য নয়। একমাত্র ভাবুক মনই তা বুঝতে পারে।

আকাশের মৌনবাণী, রাতের নীরব ভাষা কিংবা পাহাড়ের কান্না সবাই শুনতে পায় না। এ যে নিতান্তই মননের কারবার। আর মননের কারবারী ভাবুক কবিরাই এসব নীরব ভাষার অর্থ বোঝেন। সেসবের নীরব পাঠে তাই তারা ভাবুক মানুষের মনে বিবিধ ভাবের চিত্র-মানচিত্র নির্মাণ করতে পারেন। কৌমুদি জ্যোৎস্নার নিঃশব্দ আলোরাশি মানুষের মনকে অতিন্দ্রীয় ভাববিহ্বলতায় স্নাত করে। তেমনি অমাবশ্যার নিকষ অন্ধকারের ‘শব্দ’ মানুষের মনে ভৌতিক কিংবা বিষাদের অনুভুতি জাগাতে পারে।

ভাব আদান-প্রদানের বাহক এই ‘শব্দ’ সাহিত্য-রসও তৈরি করতে পারে। ‘শব্দ’ যেমন আনন্দ দিতে পারে তেমনি বিষাদিতও করে তুলতে পারে। সুতরাং, বলা যায়, ‘শব্দ’ মানব জীবনে আনন্দ বেদনার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক। কবিরা শব্দে শব্দে মালা গাঁথেন। শব্দের নানাবিধ প্রয়োগ ও কৌণিক অবস্থানে তৈরী হয় নান্দনিক কাব্যের অমর গাথা। আর এসব রচনা কণ্ঠশিল্পীর সুরের পরশ পেয়ে হয়ে উঠে আরো প্রাণবন্ত আরো জীবন্ত। শব্দের সাথে শব্দের বন্ধনে রচনা হতে পারে অভাবনীয় আনন্দ-ভুবন।

সভ্যতার সূচনা থেকেই ‘শব্দ’ মানুষকে সংস্কৃতিবান করে তুলেছে। আনন্দ-বিষাদের উৎস এই ‘শব্দ’ই ভাষাশিল্পের অনন্য কাঁচামাল। এ-দিয়েই কবি সাহিত্যিকরা কবিতা রচনা করেন, গল্প উপন্যাস লিখেন, গায়ক গান করেন। একজন চারু কিংবা কারুশিল্পী শিল্প রচনা করেন বস্তুগত কাঁচামাল ব্যবহার করে। কিন্তু একজন কবি শিল্প রচনা করেন অদৃশ্য কাঁচামাল প্রয়োগে – এই ‘শব্দ’ দিয়েই। অপরাপর শিল্পের সাথে এইখানেই কাব্যশিল্পের অনন্য পার্থক্য ও বিশেষত্ব। আর এই বিশেষত্বই কাব্যশিল্পকে করেছে অনন্য ও মহিমান্বিত।  

এবার ফিরে দেখি ‘শব্দে’র বিরূপ প্রভাব! ‘শব্দ’ যখন গর্জন বা নিনাদ – তা মানুষকে বিভীষিকায় তাড়িত করে। হৃৎকম্পন বাড়িয়ে মানুষকে অসুস্থও করে তোলে। ‘শব্দ’ মানুষকে মৃত্যুর মুখেও ঠেলে দিতে পারে। এই ’শব্দে’র তাণ্ডব মানুষের মনকে বিপথগামী করে তোলে, অহংকারী ও উন্নাসিক করে তোলে।

সাম্প্রতিক ধর্মাচারে, পূজা-পার্বণে, সভা-সমাবেশ সহ নানাবিধ সামাজিক অনুষ্ঠানে কিছু মানুষের অজ্ঞানতা তথা স্বেচ্ছাচারীতার ফলে জনজীবনে রুপিত হচ্ছে অদৃশ্য মৃত্যু ফাঁদ। বিজ্ঞানের আবিস্কার - এক বিশেষ ধরনের ‘সাউণ্ড সিস্টেম’-এর ব্যবহারে শান্তিপ্রিয় মানুষের দিনযাপনকে করে তুলছে অসুস্থ ও কন্টকাকীর্ণ। হাজার হাজার ডেসিবল শব্দচিৎকারে মানুষের শ্রবণেন্দ্রিয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এইসব শব্দ-সন্ত্রাস হার্টের রোগী, গর্ভবতী নারী ও শিশুদের জীবনকে করে তুলছে আতঙ্কিত ও বিপর্যস্ত।

এসবের দেখ-ভালের কেউ আছে বলে মনে হয় না। রাষ্ট্রযন্ত্র, সমাজ-সমীক্ষক কিংবা সমাজ-উন্নয়নমূলক সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ সবাই নির্বিকার, সবাই উদাসীন। এ বিষয়ে কেউ কিছু ভাবছে বলে মনে হয় না। যেন কারোরই কিছু করার নেই! তাই দিন দিন প্রতিযোগীতামূলক হারে শব্দের যথেচ্ছ ব্যবহার বেড়েই চলেছে। অথচ উন্নত বিশ্বে এসব নিয়ে ভাবা হয়, নিয়ন্ত্রণের চিন্তা করা হয়। আমাদের চিন্তা করার কেউ নেই।

শব্দের এই দূষণ রোধে কেউ যখন ভাবছে না সুতরাং, এর বিরুদ্ধে সমাজ সচেতন মানুষকেই সরব হতে হবে। আর শব্দদূষণ নয়, শব্দের কোন অপব্যবহার নয়, শব্দের শালীন ব্যবহারেই গড়ে উঠুক সুস্থ সংস্কৃতি – এই সত্যটিই অবিবেচক মানুষকে বোঝাতে হবে। সমাজকে ভালো রাখার জন্য এই বার্তাটির প্রচারে কবি-অকবি নির্বিশেষে সকল মানুষকেই এগিয়ে আসতে হবে।

‘শব্দে’র পরিচর্যায় জীবন হোক সুষমাময়
অপ-প্রয়োগে যেন আর কোন হুমকি নয়।

আলোচনার বিষয় বিবিধ লেখা
অভিযোগ করুন
লেখাটি ৩৪০ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ০৭/০১/২০১৭, ০০:০৬ মি:

মন্তব্য যোগ করুন

লেখাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত ৩২টি মন্তব্য এসেছে।

  • শব্দ নিয়ে যত কথাই বলা হোক না কেন শব্দ যে ফুরিয়ে যায় না এ কথা খুব সত্যি... কালের প্রবাহে অনেক প্রাচীন শব্দ যেমন ভাষা নির্বিশেষে অচল বা স্বল্প মাত্রায় ব্যবহৃত হচ্ছে তেমন অনেক নবীন শব্দ লেখ্য ও কথ্য ভাষায় প্রযুক্ত হচ্ছে যে বিষয়টি নৃতাত্ত্বিকভাবে অনিয়ন্ত্রণযোগ্য ও অনিবার্য... আর একটি কথা হলো - পারিভাষিক শব্দ যা Terminology হিসেবে ব্যাপৃত - এর প্রয়োগ এবং প্রভাব সত্যিই অনস্বীকার্য কেননা সাধারণ সকলেই এর বিষয়ভিত্তিক ব্যবহার সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে পারঙ্গম না হওয়ার ফলে এর একটি স্বকীয়তা, সম্মাননা ও গাম্ভীর্য বজায় থাকে... তবে শব্দে'র সত্যি প্রকাশের ক্ষমতা না'ও থাকতে পারে যা স্থান, কাল ও পাত্র বিশেষে প্রকাশযোগ্য...
    এত মোহনীয় একটি লেখায় মন্তব্য করার সুযোগ পেয়ে প্রীতিমুগ্ধ হলাম... শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন প্রিয় মানুষ...
    • অনিরুদ্ধ বুলবুল ০৯/০১/২০১৭
      প্রিয় কবির লেখনীতে আমার রচনা ঋদ্ধ হলো।
      আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানাই বন্ধুকে।
      সতত সুখী হোন।
  • কল্লোল বেপারী ০৮/০১/২০১৭
    পড়লাম অনেক কিছু শিখলাম।
    গুরুত্বপূর্ণ পোস্টদাতা কবিকে সীমাহীন ভালবাসা রইল।
    ভাল থাকবেন প্রিয়।
  • শব্দের আবেদন কখনও কখনও হৃদয়ে আবেগ সৃষ্টি করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিপর্যয়ের অশনি সংকেতই বহণ করে! কারণ অনেক শব্দই পরিবেশ দুষনে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে! অনন্য উপহারে তৃপ্ত হলাম।
    • অনিরুদ্ধ বুলবুল ০৮/০১/২০১৭
      ধন্যবাদ বন্ধু। বেশ কিছু দিন দেখছি না!
      ভালো আছেন তো? ভালো থাকুন সব সময়।
      • ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই ব্যস্ততা বেড়ে গিয়েছিল, শেষের দিকে এসে এতটাই বেড়ে যায় যে, আসরকে কয়েকদিনের জন্য পাশ কেটে যেতেই হলো। আশা করি আবার আগের মতই আড্ডায় মেতে উঠতে পারবো ইনশা আল্লাহ্।
      • আলহামদুলিল্লাহ্!
        আশা করি আপনিও ভাল আছেন।
        ভাল থাকুন সব সময়।
        • অনিরুদ্ধ বুলবুল ০৮/০১/২০১৭
          আমিও বেশ কিছু দিন অনিয়মিত ছিলাম। কদিন যাবত একটু সময় দিচ্ছি। আপনিও ভালো থাকুন বন্ধু।
  • মোঃ ফিরোজ হোসেন ০৭/০১/২০১৭
    খুব সুন্দর লেখা, শব্দের যত্রতত্র যথেচ্ছ ব্যবহার অস্থিরতার সৃষ্টি করে ৷ কারণ কিছু কিছু শব্দ আছে যার অনুপযোগী ব্যবহারে ভয়ঙ্কর অবস্থার সৃষ্টি হয় ৷ তাই শব্দের ব্যবহার বলেন বা শব্দের দুষণ বলেন, এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট সচেতন হতে হবে, সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে ৷ সুন্দর একটা লেখা উপহার দেবার জন্য প্রিয় কবিকে অসংখ্য ধন্যবাদ ৷
  • আপনার লেখাটি অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়লাম ! শব্দ নিয়ে অতি উৎকৃষ্ট মানের একটি রচনা আপনি লিখেছেন ! এ ব্যাপারে কোনো দ্বিমত থাকতেই পারেনা বন্ধু ! আপনার এই লেখাকে শতকরা একশভাগ সম্মান জানিয়ে গুটিকতক কথা মনে এলো বলি ! শব্দ দূষণ নিয়ে প্রশাসন যে একেবারে ভাবছেনা তা নয় ! কলকাতার কথাই বলি ! পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকার থাকাকালীন পূজা প্যান্ডেল বা অন্য কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে লাউড স্পিকার লাগিয়ে গান বাজানো বা দেওয়ালিতে উচ্ছ শব্দ সৃষ্টিকারী বাজি বা পটকা ব্যবহারের ওপর আইনগতভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন ! সম্পূর্ণ ভাবে না হলেও কিছুটাতো কাজ হয়েছেই ! আসলে আমাদের সমস্যাটা হচ্ছে আইন যাদের প্রয়োগ করার দায়িত্ব তারা ঠিকমতো ব্যবস্থা নেন না অথবা উপরমহলের চাপে আইনের সঠিক প্রয়োগ করতে পারেন না ! যেমন রাজনৈতিক পার্টির সভাগুলি তে নেতারা নিজেরাই এমন ধরণের সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করেন যাতে করে তাদের মিথ্যে বকবকানি গুলো অনিচ্ছা সত্ত্বেও শুনতে হয় !
    এ ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইন অত্যন্ত কঠোর ! প্রথমেই বলি এখানে গাড়ির হর্ন কেও ব্যবহার করেনা খুব বেশি দরকার না পড়লে ! কৃষ্ণাঙ্গ দের মধ্যে উঁচু স্বরে গাড়িতে গান বাজাবার প্রবণতা আছে !
    এখানকার পুলিশ এ ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন এবং এর জন্যে নয় তাদের আদালতে যেতে হয় এবং মোটা অঙ্কের জরিমানা দিতে হয় ! আমার সামনেই অনেক কে দেখেছি ধরা পড়তে এবং চার্জ সিট পেতে !
    আমার নিজের একটি ঘটনার কথা বলি ! বছর বারো আগেকার কথা ! সন্ধ্যার দিকে আমার মেয়ে বেশ জোরে জোরেই গান বাজাচ্ছিলো যা পাশের বাড়ি পর্যন্ত্য সেই শব্দ ধ্বনি পৌঁছেছিল ! তারা পুলিশে খবর দেবার ফলে জেলে না গেলেও বাড়ি এসে সতর্ক করে দিয়ে গেছিলো জোরে গান না বাজাবার জন্যে ! তাই আইনের প্রয়োগ ভীষণ ভাবে জরুরি শব্দ দূষণ প্রতিরোধ করতে গেলে ! তার সঙ্গে নিজের সচেতনতা থাকাও অত্যন্ত প্রয়োজন ! আবার এই শব্দকেই জীবনে কত সুন্দরভাবে কাজে লাগানো যায় ! আমি অন্তত
    এর দ্বারা খুব উপকার পেয়েছি ! আগে আমি ছিলাম খুব অস্থির প্রকৃতির লোক ! প্রতিকার খুঁজে পাচ্ছিলাম না ! কিছু মেডিটেশন এর মিউজিক সিডি কিনলাম আর সেগুলোকে শুনতে শুনতে মেডিটেশন অভ্যাস
    করতে শুরু করলাম ! বাড়িয়ে বলছিনা এই অভ্যাস টি আমার জীবনে এক ভীষণ রকমের প্রভাব ফেলেছে শব্দ !
    অনেক্ষন বোধহয় বাজে বকবক করলাম ! এবারে থামি ! ক্ষমা ঘেন্না করে পড়ে নেবেন বন্ধু !
    অনেক ভালোবাসা,অনেক শুভেচ্ছা রইলো !
    • অনিরুদ্ধ বুলবুল ০৮/০১/২০১৭
      একদম খাঁটি কথা বলেছেন কবি। বোধ ও মননে যতক্ষণ একটা জাতি উন্নত না হয়েছে ততক্ষণ এই সমস্যার সমাধান আশা করা যায় না। সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ জানাই বন্ধুকে । ভাল থাকুন নিরন্তর -
  • নূরুল ইসলাম ০৭/০১/২০১৭
    ‘‘শব্দ’ই ভাষাশিল্পের অনন্য কাঁচামাল’’
    শব্দের নান্দনিক ব্যবহার ভাষা ও কাব্যের মাধুর্যতা বৃদ্ধি করে। আর ভাষাশিল্পে ভাষাকারিগর কবি-সাহিত্যিকগন তার নিজের মাধুরী মিশিয়ে অলংকরণ করে থাকেন। তেমনি শব্দের অপব্যবহার বাক্যে ও ভাষায় ক্ষত সৃষ্টি করে। আর ভাষার এ অদৃশ্য মৃত্যুফাঁদ কবি-সাহিত্যিক কর্তৃক যাতে না হয় তজ্জন্য সজাগ থাকতে হবে।
    সুন্দর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রিয় কবি তার প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন। বিষয়টি আসরের কবিদের কবিতা লেখায় অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
    আপনাকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানাই।
    ধন্যবাদ কবিবর।
    • অনিরুদ্ধ বুলবুল ০৭/০১/২০১৭
      কবির সুচিন্তিত মন্তব্য বরাবর আমার প্রেরণার উৎস হয়ে আসে। সুন্দর মন্তব্য ভীষণ প্রাণিত হলাম বন্ধু। ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা জানবেন।
  • অনুপম মণ্ডল ০৭/০১/২০১৭
    শব্দ, শব্দই করে মনের আকর্ষণ
    আবার শব্দই আনে শব্দ দূষণ
    শব্দ ব্যবহারে সবাই হোক আন্তরিক
    সুশব্দ, কুশব্দ কোনটি জেনে নেন ঠিক
    শব্দ সুষমায় হয় যে গঠন শিশুর মনন
    শব্দের অপব্যবহারে ডেকে আনে মরণ।
    সবাই যদি হই শব্দ ব্যবহারে সচেতন
    তবেই সুখ শান্তিতে কাটবে সর্বক্ষণ।
    • অনিরুদ্ধ বুলবুল ০৭/০১/২০১৭
      অসীম ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানবেন প্রিয়
      ভালো থাকুন নিরন্তর -
      • অনুপম মণ্ডল ১২/০১/২০১৭
        কবি আমার মন্তব্যটি একটু পরিমার্জিত এবং পরিবর্ধিত করে আজ একটা "শব্দ" নামক কবিতা পোষ্ট করলাম, কবিকে পড়ার জন্য অনুরোধ রইল।
  • কবীর হুমায়ূন ০৭/০১/২০১৭
    চিত্তপ্রসারী শব্দ যখন চিত্তবিদারী হয়,
    মননে ভেতরে জাগে যে কর্ণ পর্দা ফাটার ভয়।
    জলতরঙ্গে কুলুকুলু ধ্বণি, ঝিঁঝিঁ পোকাদের ডাক,
    ঝরাপাতারই মর্মরী গান হৃদয়ের মাঝে থাক।
    মৌন-আকাশ, নীরব-রাত্রি, পাহাড়েরা কথা কয়,
    এমন শব্দ শুনিতে কর্ণ কবিদের কাছে রয়।
    শব্দের রসে ভিজে যাক আজ মহাকাব্যের কলি,
    ভাষা শিল্পের প্রাণবন্ততায় জাগুক দীপাবলি।
    শব্দ যখন নিনাদিত হয়ে তাণ্ডব চালায় ভবে,
    হার্টের রোগী, গর্ভবতী আর শিশুদের কি হবে?
    ভাবছে না কেউ শব্দ-দূষণে দোষিত করছে সব,
    শব্দেরা হোক সুষমাময় নিক্বণের উৎসব।
    শব্দে জাগুক কবিতার বাণী, শব্দেই হোক প্রেম
    শব্দে আসুক প্রশান্তময়ী, এইটুকু জানালেম।


    কোন মন্তব্য নেই। শুভ কামনা নিরন্তর। কোথায়?
    • অনিরুদ্ধ বুলবুল ০৭/০১/২০১৭
      আর কী মন্তব্য লাগে কবি?
      আমার পূর্ণ লেখনীর সুচয়িত নির্যাসটুকু যেভাবে কবির কবিতায় ফুটে উঠেছে তা-ই আমার কাছে মহাকাব্য তূল্য।

      অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানাই কবিকে।
      নিরন্তর ভালোবাসা -
  • এ কে দাস মৃদুল ০৭/০১/২০১৭
    শব্দ নিয়ে খুবই মূল্যবান একটি লেখা পাঠ করলাম... হ্যাঁ একটি শব্দ দিয়ে একটি দেশ স্বাধীন করা যায়। যেমন "স্বাধীনতা" এই শব্দটি দিয়ে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন দেশ...

    অসাধারণ ভাবনার লিখন ।। ভালো থাকুন সর্বদা ।। শুভ কামনা নিরন্তর...
    • অনিরুদ্ধ বুলবুল ০৭/০১/২০১৭
      হ্যাঁ কবি, অর্থের ব্যাপকতায় 'শব্দ' নামক শব্দটির মাঝে লুকিয়ে আছে অনেক কিছু। অনেক ভাব অনেক বাণী অনেক আশা কিংবা ভালোবাসা - কী নয়?

      সুন্দর মূল্যায়নের জন্য কবিকে অপরিসীম ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানাই। ভাল থাকুন নিরন্তর -
  • একটি গঠনমূলক কাজের লেখা। খুব কাজে আসবে। আমার শুভেচ্ছা নেবেন।
    • অনিরুদ্ধ বুলবুল ০৭/০১/২০১৭
      সুন্দর মন্তব্যে অনুপ্রাণিত করার জন্য প্রিয় কবিকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানাই। ভাল থাকুন নিরন্তর -
  • প্রিয় কবি, প্রবন্ধ'টি খুব ভালো লাগলো। শব্দ দূষণ বর্তমানে ভয়াবহ ভাবে বাড়ছে। রাস্তাঘাট, বাজার, শহর বন্দর চারদিক একি সমস্যা
    শব্দ দূষণ প্রতিরোধ কিংবা শব্দ দূষণ থেকে বাঁচতে আমাদের সকলের সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন।

    সুন্দর আলোচনার জন্য ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।
    • অনিরুদ্ধ বুলবুল ০৭/০১/২০১৭
      আমার উঠোনে অনেক দিন পর কবির পদার্পণে ধন্য হলাম। বন্ধুর আন্তরিক শুভ কামনা ও ভালোবাসা জানবেন প্রিয়। সুখে থাকুন নিরন্তর -
  • আলোচনাটি পাঠ করতে করতে মনে হচ্ছিল যেন নব বর্ষের প্রারম্ভে সাহিত্য সভাগৃহে বসে মুগ্ধ হয়ে শুনছি।

    মাননীয় এডমিন মহোদয়কে অনুরোধ বিষয়টি ষ্টিকি করা হোক।

    কবিকে অনুরোধ রাখি, লেখাটি আগামী বর্ষবরণ ই-পত্রিকায় যদি লিঙ্ক দেন।

    সুস্থ থাকুন সবার জন্য।
    • অনিরুদ্ধ বুলবুল ০৭/০১/২০১৭
      লেখাটি প্রিয় কবির ভালো লেগে থাকলে আমার রচনা সার্থক বলে বিবেচনা করবো। বন্ধুর আন্তরিক শুভ ইচ্ছাকে স্বাগত জানাই। সময়মত আমাকে কী কী করতে হবে দয়া করে খেয়াল করিয়ে দিলে বাধিত হবো।

      অনেক ভালো থাকুন কবি।
      কবির কাব্যময় জীবন ও সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।
      • নিশ্চয় কবিবর, আপনার ব্যস্ততার জীবনে আমি অবশ্যই খেয়াল করিয়ে দেব। আমাদের সবার জন্য কবি সংগ্রাম অব্যাহত থাক।
  • অচেতন ও অবুঝ মানুষকে বা অজ্ঞান বোধকে, সচেতন ও সজাগ করার মতো অপূর্ব উন্মেষের লেখা ...
    শুভেচ্ছা ও শুভকামনা কবিকে
    • অনিরুদ্ধ বুলবুল ০৭/০১/২০১৭
      আমার এই রসকষহীন প্রবন্ধ যদি কবিকে সামান্যতম আনন্দও দিতে সক্ষম হয়ে থাকে তাহলে আমার রচনা সার্থক বিবেচনা করবো।

      নিবন্ধটি পড়ে সুন্দর মন্তব্যে অনুপ্রাণিত করার জন্য প্রিয় কবিকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানাই।