আমার দুর্গা মর্ত্যমানবী কৈলাসে তার নয়কো বাস
সব থেকেও কিচ্ছুটি নেই মাড়ে না কেউ তাহার পাশ।
বয়স এখন আশির ওপর দিবস যেন নিকষ রাত
ব্যথায় ভরা কঠিন জীবন দেয় না খেতে কেউই ভাত।


আমার দুর্গা খুবই ছোটো বয়স কত- দশ বা বারো
বেরিয়ে পড়ে সকাল হলেই সময় কাটে কর্মে তারও।
লেখাপড়ায় ঝোঁক ছিল খুব সব আশা কি পূরণ হয়
জোগাবে কে দু’বেলা ভাত মানুষকে তার বড়ই ভয়।


আমার দুর্গা বাপ-মাহারা ষোড়শী তন্বী দ্রৌপদী
হাজার ঈগল ছোঁ মেরে যায় কপোল বেয়ে অশ্রুনদী।
কতরকম ছলচাতুরী সফেদ বেশে কুটিল মন
হায় শারদা  বলনা মা গো বন্যরাও হয় সুজন।


আমার দুর্গা পথের শিশু পথের পাশে রাত কাটায়
খাবার জোগাড় নিজেই করে ডাস্টবিনেই সব সে পায়।
কুড়িয়ে পাওয়া একটা জামা ওটা পরেই শীত কাটে
জন্মদাত্রী আছে ঠিকই ব্যথায় মায়ের বুক ফাটে।


আমার দুর্গা দাঁড়িয়ে দেখে কেউ যখন খায় ললিপপ
কখন পড়ে মুখ থেকে তার ছুট্টে গিয়ে খপাত খপ।
কীভাবে যে দিন কেটে যায় শীর্ণ দেহ করুণ চোখ
এড়িয়ে যায় সভ্য মানুষ বোঝে না কেউ ওদের শোক।


আমার দুর্গা লক্ষ কোটি ভিন্নরূপে বিদ্যমান
ব্যথার পাহাড় জমাট বুকে বাঁচাবে কে এদের প্রাণ।
এদের কী দোষ বল মা উমা বলছি বলে চাইছি ক্ষমা
লালনপালন তোরই তো দায় নয়তো কেবল ধনীর মা।