দীর্ঘদিনের প্রহর গোনার এবার হলো অবসান
মায়ের চরণ পড়ল ভুঁইয়ে বাপের বাড়ির এমন টান।
দেবীপক্ষের ষষ্ঠীতিথি বিল্বতলে মা’র বোধন
একে একে সাঙ্গ হলো অধিবাস আর আমন্ত্রণ।


সকালবেলা ঝকঝকে রোদ দপুরবেলা অঝোর বারি
সপ্তমীটা কাটল এমন তবুও পথে লোকের সারি।
অষ্টমীতেও মেঘবালিকার নৃত্যগীতের চলল খেলা
ছত্র হাতে আমজনতা সারাটা দিন, রাত্রিবেলা।


আশ্বিনমাসে ভ্যাপসা গরম বাতাসে খুব আর্দ্রতা
রোদের তাপও ভীষণ কড়া ছত্রিশ ডিগ্রি মাত্র তা।
উদ্দীপনায় হার মানে সব তোয়াক্কা নেই বিপত্তির
বছর পরে এমন সুযোগ গৃহে কি রয় চিত্ত স্থির।


পূজা মাত্র চারটি দিনের ফিরবে মা যে কৈলাসে
দেবাদিদেব একলা সেথায় কখন প্রিয়া ঘর আসে।
মা এসেছে পালকি চড়ে বিদায়যাত্রা নৌকাতে
উজান বেয়ে ছুটবে তরি ঝড়ের বেগে হাওয়াতে।


কেমন করে কাটল কদিন যে যার মতো বলছে সব
কৈলাসে  মন চায় না যেতে চলছিল বেশ মহোৎসব।
এমন আদর এমন স্নেহ সব সময় কি পাওয়া যায়
সবার মনে খুশির জোয়ার উধাও সকল অন্তরায়।


কানে কানে বলছে মাকে লক্ষ্মী গণেশ সরস্বতী
‘এই কদিনে মন ভরে না’ শুনেই হাসে মা পার্বতী।
‘লক্ষ্মী ফিরে আসবে আবার কোজাগরী পূর্ণিমায়
এই তো মাত্র কদিন আগে গণেশ এল এই ধরায়।


শুক্লপক্ষের পঞ্চমীতে বঙ্গে যখন জাঁকিয়ে শীত
জ্ঞানামৃত বিলিয়ে দিতে তুইও তো হবি উপস্থিত।’
মায়ের কথা শুনেই বলে ‘ঠিক আছে মা তাই চলো
তোমার কাছে শিখছি সবই কী সুন্দর সমঝে বলো।’