তুমি আমি হতাম যদি এমন কোনো একটি গ্রহে!
যেখানে সমাজ নাই, রাষ্ট্র নাই,
নাই রে নিয়ম-রীতির ভয়, নাই হারানোর সংশয়,
আছে কেবল ভালোবাসাটাই।

যেখানে থাকত ফুটে ভালোবাসার অহরহ ফুল,
ছিড়ত নাকো কেউ করেও ভুল,
খুব যত্ন না পেলেও অবহেলাটা অন্ততঃ পেত না,
শুধু ভালোবাসাই থাকত বহুল।



তুমি আমি হতাম যদি দূরের ঐ পাশাপাশি তারা!
যেথা নাই বাঁধা বিপত্তির বালাই,
নাই রে কানকথা বলার বা শোনার মতো অকর্মা,
তবে প্রেম করতে হতো না পালাই।

যেখানে আদর সোহাগ ভালোবাসা খুব সাধারণ,
বাতাসে ভাসত ঢের প্রেম প্রীতি,
আমাদের মতো করে সাজাতাম ঘর-সংসারটাও,
ছিঃ ছিঃ বলার থাকত না রীতি।



তুমি আমি হতাম যদি চাঁদেরই ঐ নির্জন দেশে!
যেথা নালিশ করার নাই মানুষ,
নাই রে চোগলখোরের মতো মহা-পেশার কেউ,
তবে নির্ভয়ে মিটত প্রেম হাউস।

যেখানে কান খাড়া করে থাকার কেউ হতো না,
হতো শুধু ভালোবাসা বিনিময়,
তুমি আমি করতাম চুটিয়ে প্রেম-ভালোবাসাটা,
জীবন হতো তবে কত মধুময়!



তুমি আমি হতাম যদি মায়াজাদুর এক ভূমণ্ডলে!
যেথা নাই দৃশ্যত আঁখ শয়তানের,
নাই রে দুমুখো শঠ, দিনে বন্ধু আর রাতে হারামি,
তবে জীবন হতো বড় আরামের।

যেখানে সবকিছু যার-যার মতো অদৃশ্য সম্পাদন,
শান্তি করে বাঁচত যে যার মতন,
চাইলেই কেউ আড় দৃষ্টি দিতে পারত না অকারণ,
উড়ত শুধু ভালোবাসার কেতন।


রচিত: ২২ জুন ২০২৩; মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭