আলোচনার বিষয়

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

স্টাইলিস্‌টিকস্‌ বা শৈলী বিজ্ঞানঃ কবিতায় এর প্রয়োগ

ইংরেজী fashion ও style শব্দটিকে আমরা অনেকেই গুলিয়ে ফেলি। fashion মূলত কোন বিশেষ সময়ের বিশেষ ঝোঁক বা প্রবনতাকে বুঝায়। এটি অপেক্ষাকৃত ক্ষণস্থায়ী এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল। অন্যদিকে style বলতে একটি নির্দিষ্ট গুণাগুণ সম্পন্ন বিশেষ ধারাকে বুঝায় যা দ্বারা ব্যাক্তি বা গুষ্ঠির সাতন্ত্র প্রকাশ পায়।

আমার আলোচনার বিষয় বস্তু  style শব্দটি নিয়ে। এই ‘style’ শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ হতে পারে ‘শৈলী’। আবার কোন কোন ভাষাবিজ্ঞানীর মতে ‘রীতি’। কোনটি সঠিক আমি সেই বিতর্কে না গিয়ে ‘শৈলী’ শব্দটি বেছে নিলাম শুধু এর ভাষাগত কাব্যিক ব্যঞ্জনা বেশি মনে হয়েছে বলে। শৈলী নিয়ে নিয়োজিত যে বিজ্ঞান তাই মুলত স্টাইলিস্‌টিকস্‌ বা শৈলী বিজ্ঞান। শিল্প সংস্কৃতির সমস্ত ধারাতেই এই বিজ্ঞানের প্রয়োগ এবং ব্যাপ্তি। খৃষ্টপূর্ব যুগের প্রবাদ পুরুষ এরিস্টটল বলেছিলেন শৈলী হচ্ছে এমন গুণ যা সমস্ত প্রকাশের মধ্যে থাকে।
মানুষ সৃজনশীল এবং বৈচিত্রপ্রিয় প্রাণী। তাই প্রতিটি মানুষের প্রকাশের ভাষায় থাকে এক ধরনের স্বাতন্ত্র। একজন লেখক বা কবির ভিন্ন বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন লেখা হলেও কোথাও একটা নিজস্বতা থেকে যায় যা দিয়ে তার প্রকাশভংগীকে চিহ্নিত করা যায়। আবার একই বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন রচয়িতার লেখা ভিন্ন হয় তাদের নিজস্ব প্রকাশভংগীর কারনেই।তাই বলা যায় প্রায় সব রচয়িতারই নিজস্ব একটা ভাষা নির্ভর পরিচয় আছে যা তার বক্তব্য বা লেখাতে পরিস্ফুট হয়। মুলত প্রত্যেকের অন্তর্নিহিত ব্যক্তিত্বের ছাপ তার লিখনীতে থেকে যায়। যে কোন লেখক বা কবির এই নিজস্বতাই শৈলীবিজ্ঞানের পরিভাষায় style বা শৈলী নামে পরিচিত।

কে কত বৈচিত্রময় এবং ভিন্ন শৈলী গঠন করতে পারেন মূলত তা দিয়েই একজন কবির প্রতিভা বিচার হয়ে থাকে। যারা খুব শক্তিমান কবি বা লেখক তাদের লেখা পড়া মাত্রই আমরা বলে দিতে পারি এটা অমুকের লেখা। রবীন্দ্রসংগীত বা নজরুলসংগীত নিজের গন্ডিতে বৈচিত্রময় হওয়া সত্বেও আমরা  শুনামাত্রই অবলীলায় বলে দিতে পারি কোনটা রবীন্দ্রসংগীত বা নজরুলসংগীত।এর পেছনে রয়েছে দুই শক্তিমান কবির নিজস্ব শৈলী। এই প্রজন্মের প্রাবাদতুল্য সাহিত্যিক ও নাট্যকার হুমায়ুন আহমেদের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার পিছনেও রয়েছে নিজস্ব শৈলী তৈরীতে তার অনবদ্য পারদর্শিতা। আবার লক্ষ্য করলে দেখবেন শুধু ভাল কথা আর সুর নয় একটা গানকে অন্যমাত্রা দিতে পারেন নিজস্ব গায়কি সম্পন্ন প্রতিভাবান কোন গায়ক বা গায়িকা।

তাই বলা যায় কবিতা সৃষ্টি বা কবি হিসেবে স্বীকৃতি পাবার জন্য নিজস্ব শৈলী নির্মানের কোন বিকল্প নেই। আমাদের প্রাচ্যদেশের প্রাচীন পন্ডিতরাও শৈলী বিষয়ে সম্যক অবগত এবং সচেতন ছিলেন। তারা বলতেন-রীতি আত্না কাব্য রস। অর্থাৎ রীতি বা শৈলী হল কাব্যের আত্না। প্রসংগত বলা বাহুল্য হবে যে কাব্যে ছন্দ আর রীতি এক বিষয় নয়। ছন্দ হচ্ছে কবিতার স্ট্রাকচার বা কাঠামো। অন্যদিকে শৈলী হচ্ছে একটি কবিতার নিজস্ব প্রকাশ ভংগী। অনেকটা যেমন কোন ইমারত নির্মানে কলাম আর বিম হচ্ছে তার কাঠামো। কিন্তু সেই কলাম-বিম ঠিক রেখেই এক এক স্থপতি এক এক রকম স্থাপনা ডিজাইন করেন।

শৈলী কবিতার অবিচ্ছেদ্য অংশ। কবিতায় শৈলী আসতে পারে বিষয় নির্বাচন, ভাষার প্রকরণ, ছন্দের সিলেকশন, শব্দের ব্যবহার বা কাব্যের টেকনিকে। নিজস্ব শৈলী তৈরীর ক্ষেত্রে মনে রাখা দরকার কবিতার যে সকল বৈশিষ্ট না থাকলে তাকে কবিতাই বলা যাবে না এমন কোন বিষয়ের অবতারনা করে সফল হওয়া যাবে না। উদাহরন স্বরূপ বলতে পারি, আপনি প্রচলিত গান বা জীবনমুখী গান যাই লিখুন না কেন আপনাকে অবশ্যই সুর আর তাল মাথায় রেখে লিখতে হবে। ঠিক একইভাবে কবিতায় যত এক্সপেরিমেন্টই করুন না কেন ব্যকরণগত মুল কিছু বিষয় মাথায় রেখে তা করতে হবে।

আসরের কাউকে কাউকে এমন লেখা লিখতে দেখি যা শুধু কবিতার মত করে লেখা। কবিতার বিচার্য বিষয়গুলি সেখানে খুবই উপেক্ষিত যা কাম্য নয়।যা ইচ্ছা তাই লেখার স্বাধীনতা মানেই কিন্তু নিজস্বতা নয়। আপনি চাইলেই যেমন সংগীতের সাত সুরের বাইরে যেতে পারবেন না তেমনি কবিতার ক্ষেত্রেও উচ্চারণগত বিধিমালার বাইরে যাবার সুযোগ নেই। আপনি আমি যা পারি তা হলো এই তাল,ছন্দ,‌লয়, ভাব এবং ভাষা নিয়ে খেলা করতে। শব্দ নিয়ে খেলা করতে। অনেকে জ্ঞানের স্বল্পতার জন্য ভাবেন আধুনিক কবিরা ছন্দ মেনে লিখেন না।জীবনানন্দ দাশ মুলত ছন্দ না মেনে লিখেছেন তা নয় তিনি ছন্দ ভেঙ্গে লিখেছেন।যাই হোক কাব্যশৈলীর আর একটি লক্ষ্যযোগ্য দিক হলো – কালের সাথে সাথে এর সামগ্রিক রূপ পালটে যাওয়া। মানে নিজস্ব লেখার বৈচিত্র নিয়েও সময়ের দাবীর প্রতি লক্ষ্য রেখে কবিরা কাব্যশৈলী নির্মান করেন। যে কারনে রবীন্দ্রযুগের কোন কবিতার সাথে এখনকার কোন কবিতার মিল না হওয়াই আবশ্যক।

পরিশেষে বলতে চাই কবিতা বা গল্প বা অন্য কিছু যাই লিখি না কেন আমাদের ভাবতে হবে নিজস্ব রীতি বা শৈলী তৈরীর কথা।পূর্বসুরীদের প্রভাব এড়িয়ে সমসাময়িকদের নিজস্বতাকে অতিক্রম করে যুগোপযুগী এক স্বতন্ত্র বৈশিষ্ঠমন্ডিত লেখার ধারা তৈরী করতে পারাই আমাদের জন্য প্রয়োজন। যদিও তা মোটেই সহজ কাজ নয়। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় কেউ সময়কে জয় করতে চাইলে নিজস্ব কাব্যশৈলী তৈরীর কোন বিকল্প নেই।

আলোচনার বিষয় শিক্ষামূলক লেখা
অভিযোগ করুন
লেখাটি ১৯৭ বার পঠিত হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ১০/০১/২০১৭, ২৩:৩০ মি:

মন্তব্য যোগ করুন

লেখাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে নিচের ফরমটি ব্যবহার করুন।

Use the following form to leave your comment on this post.

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত ২০টি মন্তব্য এসেছে।

  • কামরুল-ফারুকি ০১/০২/২০১৭
    জানলাম অনেক কিছু।কবিতা বিষয়ে এত সুন্দরভাবে বিস্তারিত আলোচনার জন্য ধন্যবাদ।নিজস্ব শৈলী নির্মাণ প্রত্যেক কবিরই করণীয় এ ব্যাপারে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই।
    • আপনাকে এই পাতায় পেয়ে খুব ভাল লাগলো।
      মূল্যবান মতামত সে তো বাড়তি পাওনা।
      আমার এগিয়ে চলার প্রেরণা হয়ে থাক এই মন্তব্য।
  • অদিতি চক্রবর্তী ১২/০১/২০১৭
    পড়লাম,,,সব কটি মতামত সহ। সুন্দর একটি আলোচনা। কবীর হুমায়ুন দা আমার বলার সবটুকু বলে ফেলেছেন। এমন সব লেখাই আলোচনা সভার মান বাড়ায়। আলোচনা বিভাগে বেশ কিছু অসংলগ্ন লেখা দেখে যখন মুখ ফিরিয়ে নিতে চাইলাম, এই লেখাটি দাঁড় করিয়ে দিলো। কবিতা আমার ক্ষেত্রে সাজগোজ করেই আসে নানা রকম ছন্দ নিয়ে। আমি নিজে ব্যাকরণ মেনে কখনো অলঙ্কার বা অনুপ্রাস প্রয়োগ করিনা। তাই অনেক পাঠককে বলতে শুনছি,,, বাঃ ছন্দটা বেশ দিয়েছেন! তবে একটি কথা না বললেই নয়, আজকাল বেশ কিছু পত্রিকা কবিতা চাইবার সময় বলে দেন,,, অন্তমিল চলবেনা, মুক্তগদ্য চাই। মুক্তগদ্য মানে কি তাতে ছন্দ নেই? আছে বৈকি। নইলে কবিতা কেন? গল্প বলা হতো। তবে শৈলীতে ফারাক আনতে চাওয়ার প্রচেষ্টা চলছে বুঝতে পারছি। জানিনা কবিতার পাঠক এজন্য কবিতাকে দুর্বধ্য আখ্যা দিয়ে দূরে ঠেলবেন কিনা! সময় বলবে ফ্যাশন না স্টাইল কালজয়ী।প্রধান সত্যি হলো,,, একটি কালজয়ী কবিতা লিখতে হবে,,,অন্ততঃ একটি।
    • কবীর হুমায়ূন ১৩/০১/২০১৭
      পড়লাম তোমার লেখা, দিদিভাই।
    • আপনার এই সুচিন্তিত মতামত টুকু আমার মন ভরিয়ে দিয়ে গেল।
      আপনি দিদি ঠিকই বলেছেন, ছন্দ শুধু গনিত মেনে হতে পারে না,
      যে যেই ছন্দেই লিখুক সেখানে স্বাভাবিক একটা গতি প্রবাহ থাকা প্রয়োজন। মুক্ত গদ্যেও আসলে একটা প্রচ্ছন্ন সুরের প্রবাহ বিদ্যমান থাকে।

      আমার এই সামান্য লেখা স্বার্থক। নিজেও আরো কিছু শিখতে পারছি এই আলোচনা থেকে। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। ভাল থাকবেন।
      • অদিতি চক্রবর্তী ১৩/০১/২০১৭
        আরও একটা কথা বলতে খুব ইচ্ছে করছে,,, কয়েকবছর আগে ভাবতে পারিনি আমার ওদেশের কবিভাইদের সাথে এমনকরে আলাপী হবার জন্য একটি উঠোন পাবো। যে উঠোনে তরতরিয়ে বাড়তে থাকবে সাহিত্য চারা। কবিতা আসরের আলোচনা বিভাগটি সেই উঠোন। এডমিনকে অসংখ্য ধন্যবাদ এভাবে আমাকে আমার শিকড়ে লেগে থাকা মাটির গন্ধ ফিরিয়ে দেবার জন্যে। আমার পিতামহ বরিশাল এবং মাতামহ ময়মনসিংহ জাত। কবিতা আমাদের নিশ্বাসে প্রশ্বাসে। কাঁটাতার অসফল। আসুন আমরা এভাবেই পরস্পর ঋদ্ধ হই সাহিত্য বোধে। খুব ভালো থাকুন।
  • শ্রাবনী সিংহ ১২/০১/২০১৭
    খুব সুন্দর আর উপযোগী লেখাটি।
    প্রিয়কবিকে ধন্যবাদ ও শুভকামনা জানাই।
    • আমার এই সামান্য আলোচনায় আপনার মত গুণী কবির অংশগ্রহনে আমি অনেক খুশি।
      ভবিষ্যতে আরো লিখবার প্রেরণা পেলাম।
      অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা এবং শুভ কামনা জানাই প্রিয় কবি।
  • মোঃ ফিরোজ হোসেন ১১/০১/২০১৭
    খুবই সুন্দর বিষয়ে খুবই সুন্দর লেখা, আসরের কবিদের জন্য খুবই দরকারী ও উপযোগী ৷ এমন একটি লেখা উপহার দেবার জন্য প্রিয় কবিকে অশেষ ধন্যবাদ ও অভিনন্দন ৷
    • আমার এই সামান্য আলোচনায় প্রিয় কবিকে শামিল হতে দেখে যারপরনাই আনন্দিত হলাম।
      আপনার আলোচনার পোষ্টগুলিই অনেকটা আমাকে এই জাতীয় লেখায় উদ্বুদ্ধ করেছে।
      অশেষ কৃতজ্ঞতা এবং শুভ কামনা জানাই।
  • আপনার এই রচনার জন্যে জানাই আপনাকে অভিনন্দন ! কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য এর কথা মনে পরে গেলো :-
    দেয়ালে দেয়ালে মনের খেয়ালে
    লিখি কথা
    আমি যে বেকার,পেয়েছি লেখার
    স্বাধীনতা
    আপনার রচনাকে অত্যন্ত সম্মান করে গুটিকতক কথা বলি ! প্রবাদ পুরুষ এরিস্টটল এর কথার জের টেনে বলি কবিতা লেখার স্টাইল অনেক পাল্টে গেছে ! কিন্তু তাই বলে রবীন্দ্রযুগের কোনো কবিতার সঙ্গে কবিতার মিল না হওয়া আবশ্যক কথাটা মেনে নিতে পারলাম না ! নিজের স্টাইল প্রয়োগ করার অর্থ এই নয় যে রবীন্দ্রযুগের শব্দ বয়কট করতে হবে ! হাংরি আন্দোলনের পুরোভাগে যিনি ছিলেন মলয় রায়চৌধুরী তিনিও স্বীকার করেছেন তার যা কিছু পাওয়া রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে ! আধুনিক কবিতার অর্থ এই নয় যে রবীন্দ্রনাথ কে এড়িয়ে যেতে হবে !
    তাছাড়া আর একটা কথা বলি ! সৌখিন কবি যারা তাদের যে কবিতার ব্যাকরণে গভীর জ্ঞান থাকতে হবে তার কোনো আবশ্যকতা নেই বলে আমি মনে করি ! যেটার ওপর আমি ব্যক্তিগতভাবে গুরুত্ব দিই তা হচ্ছে বানানের দিকে খেয়াল করা যা অবশ্যই জরুরি যে কোনো লেখার জন্যে !
    আমার লেখাটাকে আলোচনা হিসেবে দেখবেন আশাকরি ! আপনার লেখার বিরোধিতা নয় !
    নমস্কার জানবেন !
    • সর্বাগ্রে ধন্যবাদ জানাই শ্রদ্ধেয় কবিকে আমার এই সামান্য লেখা নিয়ে আলোকপাত করার জন্যে। আমি যা কিছুই বলতে চেয়েছি , তা যে আপনাদের মত ঋদ্ধ মানুষদের চোখে পড়েছে এবং কিছু মূল্যবান মতামত সংযোজন করেছেন তাতেই আমি তৃপ্ত এবং খুশি।
      সবিনয়ে বলছি, রবীন্দ্রযুগের কবিতা বয়কট বা বিসর্জনের কথা আমি কোনক্রমেই বলিনি।
      আমি যা বলতে চেয়েছি, নিজস্ব শৈলী তৈরীর জন্যে চাই অনুকরণ এড়িয়ে চলা।
      রিপ্রডিউস করার মধ্যে কোন কৃতিত্ব নেই আসলে। আমাদের পূর্বসুরিরা আমাদের জন্যে
      যে সিড়ি নির্মাণ করে দিয়ে গেছেন আমাদের উচিৎ সেই সিড়ি বেয়ে আরো উপরে উঠার চেষ্টা করা।
      অনেক কৃতজ্ঞতা ও শুভ কামনা জানবেন।
  • কবীর হুমায়ূন ১১/০১/২০১৭
    খুবই সুন্দর একটি পোস্ট। স্টাইল বা শৈলী কবি বা সাহিত্যিকের নিজস্বতা প্রকাশ করে সত‌্য কিন্তু সমসাময়িকের বিশেষ ঝোঁক বা প্রবনতাকে, যাকে আপনি ফ্যাশন বলে উল্লেখ করেছেন; কেই এড়িয়ে যেতে পারে না।

    লেখক বা কবির নিজস্ব শৈলীতা তার স্বরূপ তুলে ধরে। কবিতায় কবির স্বীয় শৈলীত্ব নিজেকে আলাদভাবে বিনির্মাণ করে। যার ফলে, কবিতা পাঠান্তে বুঝা যায়, এহেন লেখা কার হতে পারে।

    লেখার এক জায়গায় বলেছেন, 'ছন্দ হচ্ছে কবিতার স্টাকচার বা কাঠামো। অন্যদিক শৈলী হচ্ছে একটি কবিতার নিজস্ব প্রকাশভঙ্গী।'
    এই প্রসঙ্গে বলতে হয়, ছন্দ মানে কবিতার চরণ শেষে অন্ত্যমিলের কারসাজি নয়; ছন্দ হলো কবিতার প্রাণ। তার স্বকীয় চেতনা। এ প্রসঙ্গে আপনি বাংলা ভাষার আধুনিক কবিতার জনক জীবনানন্দ দাসের কবিতার প্রাসঙ্গিকতার কথা বলেছেন। কবি জীবনানন্দ দাসের কবিতায় ছন্দের কারুকাজ বিমুগ্ধকর; যদি একটু সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে অবলোকন করা যায়।

    দুর্ভাগ্য আমাদের, কবিতার আসরের কোন কোন কবিতার লেখক এক প্রকাশ অহমিকাবোধের আস্ফালন নিয়ে, অনেকটা গর্বের সাথে প্রকাশ করেন, আধুনিক কবিতা লিখতে ছন্দ লাগে না। ছন্দ নিয়ে মান্দাতার আমলের কবিরাই হা-পিত্যেশ করে ইত্যাদি ইত্যাদি। তাদের ভাষায়, মনের ভাব প্রকাশই কবিতা। তাই, ছন্দ বিষয়ে জানতে গিয়ে সময় নষ্ট করতে চাই না। অনেকটা এরূপ অভিব‌্যক্তি প্রকাশ করে থাকেন।

    এ প্রাসঙ্গিকতায় বলতে হয়, ছন্দকে নিজের চাহিদা মাফিক ব‌্যবহার করার জন্য ছন্দের মূলসূত্রসমূহ জানতে হবে। কবিতা লিখতে ছন্দের প্রয়োজন নেই সত্য; কিন্তু কবিকে ছন্দ সম্পর্কে জানতে হবে নিখুতভাবে।

    এ লেখাটি আসরের সকলেই মনযোগ দিয়ে পড়া উচিৎ বলে আমি মনে করি। এটি একটি চেতনবিদ্ধ ও শাণিত প্রবন্ধ; যা অবশ্যই কবিমনকে আরো সম্মৃদ্ধ করবে। কিন্ত, চরম সত্য কথা, আমরা পড়তে চাই না; পড়াতে চাই বেশি।

    শুভকামনা কবি। ভালো থাকুন সব সময়।
    • আমার এই অতি সামান্য প্রয়াস স্বার্থক হলো আপনার মত গুণী বোদ্ধা কবির সরব অংশ গ্রহনের মধ্য দিয়ে। আপনার বলা কথা গুলি আমার এই আলোচনার সূত্রপাতকে আরো একটু
      এগিয়ে দিয়ে গেল। কবিতার আসর এবং আলোচনার পাতায় অনর্থক চাটুকারিতা কমে গিয়ে
      এমন অর্থপূর্ণ আলোচনা-সমালোচনা জমে উঠবে এই আশায় রইলাম।

      পরিশেষে অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই সুপ্রিয় কবিকে আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় সাথে থেকে অনুপ্রাণিত করে যাওয়ার জন্যে।
    • অদিতি চক্রবর্তী ১২/০১/২০১৭
      দিলেতো আমার সকল কথা শুন্য করে!! তবু আরো কিছু মাথা চুলকে লিখে গেলাম। পড়ে নিও দাদাভাই।
  • নূরুল ইসলাম ১১/০১/২০১৭
    কাব্যসংশ্লিষ্ট্য ভাবনায় মূল্যবান একটি বিষয় নিয়ে আলোকপাত করেছেন কবি। সময়োপযোগী লেখাটি সকলের উপকারে আসবে। সম্পূর্ণ লেখাটিই প্রশংসার দাবী রাখে, শুধু ‘‘রবীন্দ্র যুগের কোন কবিতার সাথে এখনকার কোন কবিতার মিল না হওয়াই আবশ্যক।’’ বিষয়টি আরেকটু ভাবনার বিষয়। নতুন কিছু করতে হলে পুরাতনকে বাদদিয়ে নয় তবে তাকে অনুকরণীয় হতে পারে। যেহেতু আমরা এখনো কবি বলে দাবী করতে পুরোপুরি সক্ষম নহে তাই অগ্রজদের অনুকরণ করতেই পারি।
    প্রিয় কবির এই সুন্দর লিখায় অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
    • অনেক ধন্যবাদ জানাই কবি আপনার এই মূল্যবান মতামত শেয়ার করার জন্যে।
      আলোচনায় কিছু ক্ষেত্রে ভিন্ন মত থাকাটাই স্বাভাবিক।
      আমার বলার বিষয় ছিলো নিজস্ব শৈলী তৈরী বিষয়ে, তাই অনুকরণ কখনো নিজস্বতা তৈরীর
      সহায়ক নয় বলেই আমি মনে করি। তবে অনুসরন করা যেতে পারে।
      শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা জানবেন আমার।
      • নূরুল ইসলাম ১২/০১/২০১৭
        সুন্দর বলেছেন প্রিয় কবি, অনুকরণ নয় অনুসরন করা যায়।
        আলোচনাটি গঠনমূলক ও বন্ধুসুলভ ভাবে নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাই।
  • অাপনাকে অালোচনায় পেয়ে খুব ভালো লাগলো।অামি ভীষণ অানন্দিত।সুন্দর একটি অালোচনা।এভাবে লিখে চলুন,পড়ে যাব...

    ভালোবাসা জানবেন