আমার চোখ ভালো যা দেখে মন্দ দেখে তার সহস্র গুণ
আমার অন্তরাত্মা আমাকে নাড়া দিয়ে বলে এই চোখ
তুমি উপরে ফেলো।
আমার ডান হাত যা দান করে যদি বাঁ হাত তা না জানতো
তবে সে কাজ কত সুখকর হতো।
কিন্তু আমার হাত যখন কিছু ভিক্ষা দেয় তখন জিহ্বা নাচিয়ে
চিৎকার করে রাস্তার মোড়ে দাড়িয়ে বলে,
হে জগত,
তুমি চোখ তুলে দেখো আমি দু পয়সা দান করলাম;
তোমরা সাক্ষী থাকো।
আবার সুযোগে অন্যের সম্পদ দুই হাতের মুঠো ভরে লুটে নেয়;
আমার অন্তরাত্মা আমার কর্ণকুহরে অনুরণন সৃষ্টি করে বলে
তোমার সমস্ত শরীর অগ্নিকুণ্ডে জ্বলবে,
তার চেয়ে শ্রেয়, হাত কেটে আগুনে ফেলে দাও।
আমার শ্রবণ শক্তি ক্রমে লোপ পায়,
আমি কর্ণপাত করি না ঐ আদেশ কিম্বা উপদেশে।
আমার জিহ্বা অন্যের ক্ষতে শান্তির শীতল প্রলেপ লাগাতে জানে না;
সে অহম পূর্ণ আওয়াজ তোলে,
কটু বাক্যে আমার জিহ্বার জুড়ি মেলা ভার।
কেউ একজন আমার জিভের ডগায় বসে বলে,
তোমাকে আমি এমন হীন শব্দ উচ্চারণ করতে দেব না;
অথচ আমার জিভ ভেংচি কেটে তাকে উল্টে ফেলে বলে,
সরে যাও, বৃথা অধিকার ফলাতে চেও না।
আমার চরনের প্রতিটি পদক্ষেপ শিকারি বাঘের মত,
সে নিরবে চলে হিংস্র থাবার পরিকল্পনায়।
স্বেচ্ছায় পায়ের তলা রক্তাক্ত করে যাতে অন্যরা সেখানে হোচট খায়।
আমার ভেতরে অবচেতনে থাকা কোনো একজন বিনয় করে বলে,
কেন এমন করছো, এর চেয়ে ভালো তুমি পঙ্গু হয়ে থাকো।
আর আমি হুঙ্কার দিয়ে বলি, চুপ থাক! মূর্খ তুমি!
আমার পায়ের সুস্থতার চেয়ে ওদের যাত্রা ভঙ্গ হওয়া জরুরী।
আমার কর্ণযুগল সৎ বুলি শুনে অভ্যস্ত নয়,
তারা মন্দের মাঝে চির আনন্দ সন্ধান করে।
ঘটনার চেয়ে রটনায় তাদের রুচি অধিকতর,
সুকথা তারা সহ্য করতে পারে না, কুকথায় তাদের ভক্তি অটুট।
কেউ একজন আমার কাঁধে বসে কানের উপর ছাঁকুনি রেখে বলে,
তোমার শ্রবণে শুধু ভাল কথা আসবে আমি তার উপায় করছি।
সত্যে যে গর্ব আছে মিথ্যায় তা কোথায়?
আমি শুন্যে ঘুষি মেরে বলি মিছে ভ্রান্ত ধারনায় আমার কান ভাঙিয়ো না।
আমার মস্তিষ্কে সুচিন্তা আসে না, অপরের অনিষ্টে ডুবে থাকে সারাক্ষণ।
আমার অন্তরাত্মা গগন বিদারী চিৎকার দিয়ে বলে,
তোমার সমস্তই এক জ্বলন্ত নরককুণ্ড, তোমার দহন অনন্ত অনিঃশেষ!