(১৩তম পর্ব)-----------------পোতনায়ক------------মালতি আসার সময় অনেক আগে পার হয়েছে কিন্তু তার আসা হয় না. আজ সে এমন কেন করলো বুঝে আসছে না. অপেক্ষামান সময়টা যেন একটুও চলতে চায় না. বিজয় সিংহ দীঘির আয়তন যেন ছোট মনে হচ্ছে আজ, চারিদিকের পাড়ে এত পায়চারী করবার পরও যেন সন্ধ্যা হচ্ছে না. পানির কূল কূল শব্দটা যেন আমার অন্তঃকরণেই চলাত্ চলাত্ করে. দীঘির পশ্চিম পাড়ে একটা আকাশী গাছের তলায় দাড়িয়ে নজর পড়ে সত্তর বছর বৃদ্ধ লোকটার দিকে,যে দীঘি হতে পানি কাধে বহন করে চা দোকানে সরবারহ করে. পানি বহন করে চলতে যেন জান টান টান তাঁর. কি অমানবিক উপহাসে মানুষের জীবিকা চলে এই দেশে,যে দেশ বছরের অর্ধেক সময় পানির উপর ভাসে অন্যসময় সেদেশেই পানিকে কাধে বহন করে. জেলা কমিশনারের বাসভবনের সামনে কৃষ্ণচূড়া গাছে কোন ললনার লিপষ্টিকে রাঙ্গানো লাল ঠোটের মত ফুল ফোটে আছে দেখে মন ফুরফুরে হয়ে উঠে. উত্তর-পশ্চিম কোনায় ছয় তলা দালানটার রং এর দৃষ্টির নাগাল আকর্ষণ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে জায়গাটার. আমি পা পা করে একটা বেঞ্চিতে গিয়ে কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে বসি এমনি লাল একটা ফুল ঝরে পড়ে আমার মাথার উপর. মাথা হতে ফুলটা গা বেয়ে মাটিতে পড়ে আমি নির্বাক পানে ফুলটাকে দেখি. আজকাল মৌমিতা আগের মত প্রগাঢ় স্নেহ দেখায় না, ফোন করলে উত্তর পাই না, কয়েক বার বার্তা পাঠালে একবার দায়সারা উত্তর আসে. অথচ প্রথম প্রথম আমার খবর নেওয়ার জন্য পাগলপ্রায় হয়ে নিজে ফোন করতো আর এখন দুরে থাকতে পারলেই বাঁচে. এই অপমান ও অবহেলার লাভায় নিক্ষেপ কেন বুঝা বড়ই দুরহ. ফুল হতে চোখ ফেরাতই মালতি সামনে,এই তোমার আসার সময় হল মালতি ? তারপরও আাসছি এতে খুশী থাকো. এমন করে কেন বলছো? বাবা আবার তাড়াতাড়ি আমার বিয়ে দিতে চাচ্ছে .হা হা হা তাই,সব মা-বাবা এই চায়. কিন্তু তালাকপাপ্ত বলে তাঁরা আমাকে ইঁদ্রি়দ্বারা গ্রহণ করা মনে করে দুর দুর করে তাড়াতে চায়. এত মনশ্চক্ষু হয়ে যাওয়ার কিছু নাই,তুমি অলীক কল্পনা চেড়ে পড়া লেখায় ধ্যান মগ্ন কর যেটা তোমার জীবনকে বিমুক্তি দিবে. বাহ্! রোমান তুমিতো দার্শনিকের মত কথা বলো,আগে কোনদিন বলো নাই কেন? এখন আমি তোমার বজরার প্রধান চালক নোঙ্গর হবে আমারই হ্রদপিন্ডে দয়িতা. তোমার চরণেই লুটাবো গগণ ও কুণ্ডলী. তাই যেন হয়. তোমার বাবাতো সম্পূর্ন সুস্হ হয়ে বাড়ী ফিরে এসেছেন এবার তুমি আমাকে বাঁচাও. আরে মৌমিতা তুমিতো রামায়নের সিতার মত কথা বলো, হা হা হা (দুই জনে হাসে). আমি রাজকুমারী মালতি . হুম আর সেই রাজকুমারীর পথপানে চেয়ে রোমান রাজকুমার. আকাশে সাদা সাদা মেঘের কোলাকুলি.দুইটা সাদা মেঘের মাঝখানে একটা কালো মেঘ এসে যায় এমনি সাদা মেঘ দুরে সরে যায় আর কালো মেঘ রাগ করে পানি হয়ে জ্বরে পড়ে ধরণীতে . (চলবে)
(১৪তম পর্ব)---------------------পোতনায়ক--------------রোমান তুমি কিছু ভেবে দেখছো ? কি নিয়া ভাববো বলতো মালতি।আমার মরন নিয়া কিন্তু তোমার পাঁজরের উপর।এতো ছোট্র একটা আসকারা,পুরন করাই যে আমার দায়িত্ব।ঘর নামক নরক হতে দয়া করে আমাকে উদ্ধার কর রোমন।তা অবশ্যই করবো,একটা সহজ কাজ করা যায় অ্তিদ্রুত।কি এমন কাজ?দুইজন মিলে একসাথে মরে যাওয়া।এই ধরনের বাজে কথা আর কখনো বলবে না আমার সাথে, যারা ভীরু কাপুরুষ তারা জীবনের সমস্যা মোকাবেলা না করে পৃথিবী হতে মৃত্যুর মাধ্যমে পালাতে চায়। আমি সাহসী জীবন যোদ্ধো সময় হলে তার প্রমান তুমি পাবে।এই জন্যতো তোমাকে ভালবাসার পর ভালবাসা দিতে মন চায়।এখন দাও না এক টুকরা আদর। দেব দেব মশাই ....। দুধে আলতা মিশানো মালতির এই রুপটা আমাকে বিমোহিত করে। বাঁশক পাতার মত সরু ও লম্বা নাকটা মাঝে মাঝে ধরে দেখতে ইচ্ছে করে।মালতি তুমি আমার কাছে সাতিশয় ভাল থাকবে অনশ্বর।এখন যেমন স্বাধীন আছো ঠিক তেমন।আমার প্রতি বিন্দু পরিমান তোমার ভালবাসা থাকলেও পরমায়ুতে হোক অথবা অবধারিত পরিণতিতে হোক আমাকে ফেলে চলে যেও না। আমি তোমাকে অনেক অনেক ভালবাসি।দয়া করে আমাকে বিশ্বাস কর।বাসায় বলো তোমার বিয়ে নিয়ে তাদের মাথা ঘামাতে হবে না। যারা তোমাকে এক সময় ছুড়ে ফেলতে পারলে বেঁচে যেত,যারা তোমার অশিব কিংবা দাহনে ফিরেও একবার তাকায় না তাদের এত আজ মায়া কান্না কেন আমি বুঝি না।তোমার অনেক কিছুই আমার ভাল লাগে না এর অর্থ এই নয় যে তোমার প্রতি আসঁজন নেই।কি,কি?কি ভাল লাগে না জানতে পারি।এই যে তুমি সহজে আমার খোজ খবর নিতে চাও না।হাঃ হাঃ হাঃ তাই।আরে বোকা আমি সময় ও সুযোগ পেতে হবে না।তোমাকে আমি এই পিঁজরে আঁইশ করে রেখেছি,সময় সময় অনাবৃত করে দেখি।ও তাই,অপূর্ব অপূর্ব মহামতি।এই একটু আমার পাশে এসে দাড়াবে।কেন,কেন?আরে আসো না,তোমার নজর আমার ভিতর কি যেন খুজছে।ওহ, তোমার এই নজর বিদ্ধ হল আমার অন্তঃকরণে,তাইতো বার বার ডুব দিতে ইচ্ছে করে তোমার আঁখির জলে।থাক থাক, এতো আর কাব্যিক শিল্প সৃষ্টির প্রয়োজন নাই।দুইজন একসাথে বেঁচে থাকার ইরাদা কর।একটু একটু করে নিজেকে প্রস্তুত করতে থাকো একদিন হারিয়ে যাব দুর অজানায়।তাই করবো, চলে যাব কোন পাহাড়ি এলাকায় আর ঘর বাধবো টিলার উপর।দারুন হবে রোমান,উঠানে দাড়িয়ে দুইজন হাত ধরে দেখবো স্বচ্ছ আকাশটাকে।আমি শুনেছি ওখানে অনেক রকম ফলের বাগান আছে।আহ্,কি মজা ফরমালিন মুক্ত ফল খেতে পারবো আমরা।আমি পাহাড়ি জমিতে শাক-সবজির চাষ করবো জৈব সার দিয়ে যা হবে কীটনাশক মুুক্ত।ফরমালিন ও কীটনাশক মুক্ত ফল-ফুট্র খেয়ে আমরা বেঁচে থাকবো অজস্র দিন।আমার কথা শুনে মালতি পরিতুষ্টিতে নেচে উঠে।এমনি ধুলিঝড় আরম্ভ হয়।আমি ধূলিঝড় থেকে বাঁচতে দৌড়োতে চাইলাম! আর ও বাতাসে শাড়ীর আঁচল উড়িয়ে হাত দিয়ে মর্তভূমি ধরতে চাইলো।গোলাপী রং ওর শাড়ীর আঁচলটা,মনে হলো যেন কোন এক পাহাড়ের চূড়ায় দাড়িয়ে মালতির শাড়ীর আঁচল ধরতে আমি দৌড়াচ্ছি । (চলবে)
(১৫তম পর্ব)---------------পোতনায়ক--------------কিরে বাবা এবার তো উঠে যা।ওহ,মা ! রোমান রোমান তোর মাথায় একটা সাদা চুল,তুই যে বুড়া হয়ে যাচ্ছিস আমি বলতেই পারি না।মা আমার মাথায় হাত রেখে আদর করে শোয়া হতে উঠতে সাহায্য করে। না শীত না গরম মৌসুমের পড়ন্ত বিকালে শরীরটা প্রচন্ড অলসতার ভরে উঠে।মালতির দেওয়া মাক্স বড়ি লোশনটা আজ একটু হাতে মুখে লাগাতে হবে।মা,আমি হাত মুখ ধুয়ে আসি আপনি একটু চা বানান।অনেক সময় চলে যাওয়ার পরও মা এবং চায়ের দেখা মিলে না তাই মাকে খুজতে রান্নার ঘরের দিকে পা বাড়াই।মা পুরাতন একটা পাতিলে খড়-কুড়া দিয়ে প্রচন্ড ধোঁয়ার মধ্যে নাক-চোখের পানি ঝরিয়ে আমার ভজনা করার বেধনিকায় লিপ্ত।মা আর কত সময় লাগবে?এই যে হয়ে গেল,ঘরে চায়ের পাতা ছিলনাতো দক্ষিন বাড়ী হতে নিয়া আসলাম।তাই,আপনি কেন এত কষ্ট সহ্য করতে গেলেন। তিন জনের জন্যে তিন কাপ লাল চা।চায়ের মধ্যে খড়ের ছাই ভাসে তবুও আমি চুমুকের পর চুমুক চালাই।মায়ের চায়ে ছাই ভাসলেও রাস্তার পাশের চা দোকান হতে লক্ষগুনে ভাল।একটু ঠাহর করলেই দেখা যাবে কতটা অনাময পানিতে কাপ পিরিচগুলা ধৌত করে,পান করা পানি রাখার পাত্রটা যেন পরিস্কার করতেই অনিহা,পাত্রের ভিতর শৈওলা দেখলে মনে হয় যেন কত যুুগ আগে হতে ওই পাত্রে পানি রাখে তা বলাটাই অত্যন্ত অবসাদদায়ক।বাড়ীর আঙ্গিনায় আমার করা ছোট ফুল বাগানের সামনে বাবা প্রতিদিন নিরব হয়ে দাড়িয়ে থাকতো প্রথম প্রথম এখন পানিও দেয়।আমি দেখেও না দেখার ভান করি।আজ আমিও গেলাম, একটা বেলীফুল তুলে বাবাকে দিতে চাইলাম কিন্তু বাবা নিল না উনি নিজ হাতে রৌদে জ্বলে যাওয়া একটা গোলাপী নয়টা ফুল তুলে নিলেন আর বলতে থাকেন এই ফুল আমাদের, কারন আমাদের জীবন এই জ্বলসে যাওয়া ফুলের মত।সকালে ফোটে বাগান গোলাপী করে আর বিকালে জ্বলসে যায়।সাদা ফুল হল রাজনৈতিক দলের জন্য কারন তারা তাদের জনসভা গুলাতে সাদা ফুল ব্যবহার করে,সাদা কবুতর আকাশে ছাড়ে কারন সাদা শান্তির প্রতীক,আর তারা ক্ষমতার মসনদে বসে কালা বন্দুকের নল দিয়ে মান-হুশ নামের আম জনতাকে দাবিয়ে রাখে।বাবা গোলাপী কেন আপনার এত পছন্দ।তোর মা গোলাপী রং কে ভালবাসে তাই আমি তার ভালবাসাকে সম্মান করি।হাঃ হাঃ হাঃ তাই বাবা! আমার হাসি মুখের উপর বাবা বেলীটি ছুড়ে মারে।(চলবে) ।
১৬তম পর্ব)----------------------পোতনায়ক------------আলমারির ভিতর আসলে তেমন কিছুই নাই।মার কয়েকটা পুরাতন আর মামাদের রমজান মাসে মাকে দেওয়া দুই-একটা যাকাত জাতীয় শাড়ীই আলমারির শোভা বর্ধন করে আছে।রোজ সকাল-বিকাল আলমারির নিচে পরিস্কার করা মার যেন রুটিন কাজ।মার বিয়ের সময় অলংকারও এই ঘুনে ধরা আলমারিতে।তাই আলমারির চাবিটা নিয়া মার ইদুর বিড়াল খেলা।এই স্বর্ন মার একমাত্র পুত্র বধুর জন্য উপহার হিসাবে দিবে বলে যক্ষের ধন করে রাখা।মালতিকে কি একবার দেখানো দরকার? কিন্তু চাবি কোথায় পাই।যদিও মালতির এইসব স্বর্ন অলংকারের প্রতি কোন প্রেমোন্মত্ত করা কোনদিন দেখি নাই।মালতি বলে এইসব প্রবাসী ও দেশের ঘুসখোর মানুষের স্ত্রীদের জন্য।তার ধারনা প্রবাসীদের যেমন বিদেশী রোজগার তেমনি ঘুসখোরদের উপরি রোজগার বেশী।তোমাকে এমন বিমর্ষ দেখাচ্ছে কেন রোমান।আসলে কেন জানি দিন দিন আমার মন খারাপের দিকে যাচ্ছে,মা আর বাবার কথা ঘুরে ঘুরে মাথা এসে মনটাকে তিমিরাচ্ছ করছে।আরে পাগল দুইদিন পর আমারা ঘর বাধবো আর তুমি মন খারাপ করছো,মা-বাবা ভাল আছে ভাল থাকবে।তাছাড়া তো আমরা কারো কোন ক্ষতির কারন হচ্ছি না।হা(দীর্ঘ নিঃশ্বাস)তারপরও কেন জানি ভয় লাগছে।আরে বোকা আমার ভালবাসা সাগর মহাসাগর কিংবা হিমালয় পাড়ি দিতে সাহায্য করবে তোমাকে।কারন আমার ভালবাসা স্বর্গীয় এবং অনেক শক্তিশালী।মনে করছিলাাম তোমাকে একবার মার গয়নাগুলি দেখাবো কিন্তু মা চাবিটা কোথায় যে রাখে খুজে পাই না।আরে থাক,তুমিই আমার অলংকার।তাহাছাড়া এই সব যেন আমাকে শোপিস করে ফেলে মনে হয়।হাঃ হাঃ হাঃ।হাসছো কেন রোমান? কিছু কিছু নারীতো এইসবই জীবনের একটা অধ্যায় মনে করে আর তুমি কিনা।আর সেইসব নারী স্বামীর জন্য ঘরের পিছনের দরজা।চোর পিছনের দরজা দিয়ে ঘরে ঢুকে চুরি করে আবার ওই দরজা দিয়ে চলে গেলে তুমি কি বলতে পারবে রোমান।তা কখনো তো ভেবে দেখি নাই।তোমার ভেবে দেখার দরকার নাই কারন তুমি আমার আমি তোমার ।এইবার একটা গান শুন রোমান।ক্লেশ ক্লেশ ভাবের ভিতর আমি তোমায় দিব নরম নরম রোমান্টিকতা।তুমি তখন অপলক আঁখিতে বেপন তুলে দেখবে আর ভাববে ওয়াও আমিই তো পোতনায়ক মালতির।
"প্রেম থাকে রঙিন কুলে মরা নদীর দু"কূলে, প্রেম আছে মনের খাতায় চোখেরও পাতায় পাতায়, প্রেমের শুরু আছে সীমানা জানা নেই,শূন্য থেকে প্রেম আসে পূর্ন করে দিতে,স্বর্গ সুখের আকাশ তবে মাটির পৃথিবীতে"।গানটার কথা ও সুর জাঁকাল ঠিক যেন তোমার মত মালতি। (চলবে)।
১৭তম পর্ব)---------------------পোতনায়ক---------------ঘুম না আসলে এমনই হয় কখনো ডান,কখনো বাম।বাম কাত হলে বাঁশের বেড়ার ফাঁক দিয়ে পূর্নিমার চাঁদ চাচা এক ফালি আলোময় আদর পাঠায় আমার বুকটায় যেখানে মালতির বসবাস।আলোটাকে হাত দিয়ে ধরতে চাইলে খিল খিল হাসি দিয়ে দৌড় দেয়।রোমান এখন ঘুম থেকে উঠে গেলি কেন? মা,ঘুম যে আমার সাথে চোর পুলিশ খেলছে।ফজর নামাজ পড়তে মা ঠিক আযানের আল্লাহু আকবার শুনার সাথে সাথে উঠে পড়ে।আজ আমারও উঠে যেতে মন চাইলো,মন চাইলো চন্দ্র রশ্মির জলে একবার পতন হতে।ঘর হতে বাহির হয়ে চন্দ্রকে প্রনাম করতে হাত তুলতে মনকে প্রবোদ দিলাম।এটা আমার কাজ না সুবোদ নাথের গোসল সেরে সূর্য্য প্রনাম তার কাজ।কিন্তু চাঁদের আলো এত সাদা যে বসুন্ধরার কালো মাটি লজ্জ্যায় নতুন বৌয়ের মত ঘোমটা ধরে টেনে।দক্ষিন কোনায় শুকনা কলা পাতা কুজঝটিকায় ভিজে একাকার।দেখতে যেন সদ্য ধারাস্নানের যন্ত্র বউ।প্রথম নজরেতো আমি নারী ভেবে থমকে যাই কারন নারী ও শাড়ী বাকীটা মহনীয় বিধাতা।আনমনে পা ফেলতেই মালতি সামনে।কি রোমান মিয়া লজ্জ্যা ফেলে।মালতির অর্থবহ হাসিতে সত্যই আমি লজ্জ্যা পাই।নিজের গায়ে চিমটি কেটে আমাকে বাস্তবে কিনা কার্যদর্শন করি।গামছাটা মাথায় পাগড়ি করে বাঁধে হাতের ব্রাস মূখে চালান করি।কচু পাতার উপর শিশির জমে জল বিন্দ্বুর সৃষ্টি হয়।টলমল জল বিন্দ্বুর উপর সুর্য রশ্মি পড়ে মুক্তার দানার মত চিকচিক করছে।আমি নিমিষহারা হয়ে পানি দেখতে লাগলাম।শুনেছি,মেয়ে মানুষের মন কচু পাতার উপর জল বিন্দ্বুর মত ক্ষনস্হায়ী,তারা পুরাতন কিছু নিয়ে ভাবনার আয়েশ স্বিকার করতে চায় না,যেখানে আরাম সেখানে তাদের পক্ষপাত্ব।মালতিও কি এমন!দুর কি সব ভাবছি আমি, সে তো সুদুর ইটালি হতে সব ত্যাগ করে আমার হতে এসেছে।সে সব কিছু অবদমিত করা করে আমার হতেই প্রস্তুত।কিন্তু আমি?মা বাবা! বাড়ীর সামনে বড় ঘরে মক্তবে বাচ্চা ছেলে মেয়ে উচ্চ টুঁটিতে ধর্মীয় তালিমে মগ্ন।ফিরে গেলাম আমার ছেলে বেলায়।একটা মেয়ের সাথে আমিও সুতান তুললাম "আলিফ লাম মীম "।আমার আওয়াজ শুনে দরজা দিয়ে উকি দেয় মৌলভী সাহেব।দুইজনের চোখাচুখিতে আমি লজ্জ্যা পাই। উনি হাসতে থাকে।মালতি তোমার জন্য ছাড়তে হবে আমার বাঁশ বেতের টিন ছিদ্র স্বর্গ,ভুলতে হবে ফুলের বাগান,ভুলতে হবে মার সুললিত কোরান পড়া,ভুলতে হবে সকালে শিশির স্রানে ঘোমটা টানা গাছপালা,ভুলতে হবে সকালের "আলিফ লাম মীম " ছাড়তে হবে পুকুরে জাপ দিয়ে প্রভাত স্রান।(চলবে)
১৮তম পর্ব)-----------------পোতনায়ক----------------বৃষ্টি যেন আমার পরম মাসিমা হয়ে সমস্ত কাজ আগলে রেখেছে আজ।জানালা দিয়ে মেহেদি রাঙ্গা বাম হাতটা দিয়ে জল বিন্দু মুঠিবদ্ধ করলাম।এই বৃষ্টি জল আমার,রোমান আমার,তবে চাঁদনি রাতে শাড়ী পরে জলে ভেজা ছাদে অপেক্ষামান মালতি তোমার।টেপ রেকড়িং-এ কবিতা আবৃতি আজ খুব বিরাগী লাগছে কেন জানি না।খোপার চুল ছেড়ে জানালার গ্রিল ধরে এখন বৃষ্টি নিয়ে থাকতে ভালই লাগছে।জলপাই ও মেহেদি গাছ সতেজ ও নিরব হয়ে বৃষ্টির সাথে একসঙ্গে সঁচরণে লিপ্ত।জল পড়ে পাতা নড়ে,তাহলে মেহেদির পাতা কেন নড়ে না শুধু জল পড়ে পাতা নড়ে না মনে হয় ছোট বলে মেহেদির পাতাকে গোঙরানি জলের।জলে জলে মিলে জলাশয় বাংলাদেশ।তারপরও উষ্ণ দিনে পানির জন্য হাড়ি পাতিলের মিছিল আর তাদের পাছায় সজোরে লাথি বসায় কামুক রাজ।জলের এই তরঙ্গে তরঙ্গে রোমান তোমার চবি কেন ভাবতে এক অণুজল হাতে মেহেদির রং ছুয়ে দেয় যেখানে রোমন লেখা।বর্ষাময় আকাশ,অন্তরে তুমি তারপরও ব্যথাময় বুক,জানো জান আমি তোমায় অন্তযামী।মালতি মালতি মার কর্কশ ডাকে আত্নজ্ঞান ফিরে আসে।আবারও মা ডাক দেয় মালতি ওহ মালতি। মা নানা ফল দিয়ে ককটেল তৈরি করছে তা খেতে এত ডাকাডাকি। কয়েক রকমের ফল কুচি কুচি করে কেটে একসাথে দুধ ও রুহ আফজা মিশিয়ে তার সাথে মুহুরি খাওয়া আমার প্রিয় খাদ্যের অন্যতম। আর তা তৈরি করে মার এত হাকডাক যেন কেউ এসে ভাগ বসাতে না পারে।বর্ষায় ককটেল ফল খেয়ে আমি যেমন দিনাপাত করি তেমনি নজরুল গীতিতে আমার মন আনন্দোচ্ছল করে রাখি।রোমানটা যে কি একটা বার ফোনও দিচ্ছে না! জলপাই পাতার জল এক পাতা হতে ঝরে অন্য পাতায় পড়ে আর এমনি পাতাটা চঁচলতা হয়ে উঠে ঠিক এভাবে রোমানের ফোন আসলে আমার মনটা ঠরৃ্ঠর করে উঠে।মালতি ওমালতি আবার মার ডাক।মা এমন ডাকো কেন। এই খাওয়া হল তোর । জ্বী মা, আমি এবার ঘুমাবো মা।দেখি একটু এদিকে আয়। আমি মার সামনে আসতেই চুল জাপটে ধরে বসতে বলে। আজ কতদিন তোর মাথায় উকুন দেখি নাই।আসলে আমার মাথার চুল এলোমেলো দেখলেই মা বিরক্তবোধ করে আর এমনি চিরুনি হাতে নিয়ে চুল ধরে বসিয়ে ফেলে।মোবাইল অবর করে ঘুমি পড়লে এই সমস্যা তখন ফোন আসে।রোমান কথা বলতে না পারায় বার্তা পাঠায় কাল সকালে রেল স্টেশনে ঠিক দশটায় মিলবো।এখন আর বৃষ্টি নাই,রৌদ ঝিলিকের বিকাল।বাবা ঐকান্তিক হয়ে খবরের কাগজ পড়ায় ব্যস্ত,পাশে বিড়ালটা নিসাড়।বাবার কাছে আমি এখন জৈড় পদার্থ তাই দরকার ছাড়া চোখ আমার দিকে দেয় না।তবে এই নিয়া এখন আর মাথা শূলানি নাই আমার।টিকেট নিয়েছো? জ্বী, ম্যাডাম সব কিছু ঠিক আছে শুধু আপনি আসার অপেক্ষা।রোমানের হাতে আন্তনগর রেলগাড়ীর শোভন শ্রেনীর দুই টিকেটই আমার বর্তমান গ্রহাদির কক্ষ।(চলবে)
১৯তম পর্ব)-----------------পোতনায়ক-----------------রেলগাড়ীটা দুই নাম্বার প্লাটফরমে এসে দাড়ায়।বোরকা পরা মালতি নিশ্চলতায় চোখ বুজে ঝিমিয়ে থাকায় আমাকে গিয়ে উঠাতে হয়।মালতির হাত ধরতে ভয়ে নার্ভাস হয়ে আমার দিকে অসিদ্ধ ভঙ্গিতে তাকিয়ে থাকে।উঠো মালতি গাড়ী এসেছে।ছোট ছোট বৃষ্টি কণার কারনে মানুষের গেঁড়াকল নেই বললেই চলে।হাত ধরা মালতি বার বার চারিদিক অভিনিবেশ করার চেষ্টা করে।আমি যেমন অজানা ভয়ে কম্পিত হচ্ছি মালতিও তাই,এরই ভিতর দুইজন দুইজনের চোখের দৃষ্টি বিনিময়ে মুচকি হাসি দিই লণ্ঠনের চিমনি জয়ে।গাড়ীর দরজায় এসে বোকা বলে ধাক্কা মেরে মালতি হাত ছেড়ে আমার আগেই গাড়ীতে উড়তে নিরত হয়ে পড়ে।রেলগাড়ীর হুইসেল পড়ার সাথে সাথে মালতি গান ধরে "আমার পরাণও যাহা চায় তুমি তাই গো"এই নাও তোমার বোরকা মিয়া ভাই বলে তা আমার মুখে ছুড়ে মারে কারন আমি বোরকা পরে আসতে বলছি তাই।চোখে সানগ্লাসে অলঙ্কৃত গোলাপী জামায় মালতিকে দেখে দেবদূত মনে হল।আমার কায়েমে মালতি বুঝতে ফেরে চোখের ইশারা দেয় আমি কাছে যেতেই ফিস ফিস করে কি যেন বলে ফেলে।রেলগাড়ী কালিদহ,ফাজিলপুর নিমিষে মুহুরী কিংবা দুমঘাট ব্রিজ পার হয়ে চট্রগ্রাম সীমানাকে স্বাগতম জানায়।আমি অনুজাত হতে অনুজাত হতে থাকি অথচ মালতি স্বয়ংপ্রবৃত্ত,আমি কিছু ত্যাগের ভয়ে ঝঁঝাট আর মালতি কিছু পাওয়ার পুলকে প্রমোদক।কালিদাস পাহাড়িয়া,মুহূরী ও ফেনী নদী সবই আজ বৃষ্টি এবং উজানের পানি নামক পুরুষের কারনে নয় মাসের গর্ভবতী । এই গর্ভবতী নদীর পেটে মনুষ্য জাতি হাত ঢালে বালু উত্তোলন করে,ব্রিজের নিচেই সর্দার বনে বসে বেচা-কিনায় ব্যস্ত আর এর সাথে জড়িত স্হানীয় রাজনৈতিক রাবনেরা।বর্ষা মৌসুমে পানিতে পানিতে নদী গর্ভবতী হলেও শুষ্ক মৌসুমে ফেনী নদীর সাথে ভারত পরকিয়ায় লিপ্ত হয়।আর এই পরকিয়ার ভাব আদান প্রদানে সাক্ষী গোপাল আমার রাজা। নদীগর্ভে মানুষ বিলীন হলেও রাজা চোখ হতে চশমা খোলে অশ্রুজল মুচে না। ঠিক তেমনি আইন কানুন না মেনে আমার নদী হতে আমারই পানি প্রতিবেশী দেশ গায়ের জোরে প্রত্যাহার করে নিলেও রাজা থাকে নিশ্চুপ। অদূর ভবিষ্যতে এই নিশ্চুপ রাজার কারনে বাংলা হবে কারবালা। রেলগাড়ী ভ্রমন এই আমার প্রথম তাও আবার মালতি সাথে। মালতি ধীরস্থির হয়ে আরম করে বসে আছে আমি অস্থির হয়ে পায়চারি করি। জানালা দিয়ে চোখ বাহিরে যেতেই মাঠের কৃষককে বাবার মত মনে হয়।সন্ধ্যার পর ঘরে না ফিরলে মা অনেক চিন্তা করবে,সারা রাত ঘুমহীন কাটাবে। এই রোমান এসে বসো না। আমার মন খুব খারাপ লাগছে মালতি।আরে ঠিক হয়ে যাবে তুমি আমার পাশে এসে বসো। তুমি কোন চিন্তা করো না আমি তোমার পাশে থাকতে কিসের এত চিন্তা করো তুমি রোমান।নিরত হয়ে আমি মালতির দিকে তাকাই আর এমনি মালতি মাথাটা আমার কাধে এলিয়ে দেয়।দুজনার এত ভালবাসা,এত বিশ্বাস,এত সম্বন্ধ করা ভাবতে আমার চোখ উদজান হলো তারপরও কেন এত একা একা মনে হচ্ছে।অথচ মালতি একদম ঐকান্তিকতায় ভরপুর তাহলে মালতির অতীতই উদ্যমী হতে সহয়তাকারী।অথচ তার আগের স্বামী ধনবান পুরুষ আর আমি নিঃস্ব পুরুষ।(চলবে)


২০তম পর্ব)------------------পোতনায়ক-----------------পাহাড় তলি স্টেশনে গাড়ীটা থামে।নামতে হবেই বলে আমি মালতিকে নিয়ে নেমে যাই।আগে থেকেই বাসা ঠিক করে রাখায় কোথায় উঠবো এই ভাবনাও নাই।দেয়ানহাট উপরি সেতুর ওপারে রেল রাস্তার পাশেই বাসা।মালতি যেন কত পুরাতন এই বাসার গৃহিনী,বাসায় এসে দক্ষ হাতে অপাপবিদ্ধ করায় পরিপ্লুত।বন্ধুদের দয়াশীলতায় আমরা এখন দুইজন দুজনার তারপরও জড়তা আমার পিছু ছাড়ে না।মালতি বিভিন্ন ফিচলেমীতে আমাকে উত্ফুল্ল রাখার তুরপুন করে চলে।আমার মন ও মাথায় মা-বাবা কি করছে,এবং আমি বিহীন তাদের কি হবে।শুনেছি মেয়েরা নাকি উত্কলিকায় মগ্ন থাকে পরিবার এবং ভবিষ্যৎ নিয়া।মালতির ভালবাসার ওজনের কাছে আমারটা কি সমান হবে?হয়তবা।এই নভশ্চর ভালবাসার ভিতরও ফালি ফালি করে কেটে যায় সংসার নামক চাঁদটা।জানালা খুলে দেয় মালতি,এক পশলা হাওয়া এসে মালতির সিলকি চুল উঠিয়ে দেয়।চুলের সুগন্ধি আমাকে সুরামত্ততা করে তুলে।এই সময় আমি আর নিঃস্ব পুরুষ নয় পৌরুষের বাদশা মনে হয়।এত এত কথা,এত এত ভালবাসা তারপরও স্বামীর তারই স্ত্রীকে কেন তিতা লাগে এবং স্ত্রীরও কেন এই স্বামীকে তিতা লাগে সংসারের প্রথম দিনে আমি কিরে বুঝবো?শুনেছি ভালবাসা হল প্রথম আগুনে রাখা ফুলে উঠা রুটি যেমন ভালবাসাও প্রথম ফু্লে উঠে আর দাম্পত্য জীবন হল আগুন হতে নামিয়ে রাখা রুটি দপ করে চুপসে যায়।কিন্তু আমার ভালবাসা প্লাস্টিকের মতো কখনো নষ্ট হবে না, আমার ভালবাসা হল রিসাইকেল।যা হতে মালতির জন্য চমক রুপে নতুন নতুন ভালবাসা হররোজ সৃষ্টি হবে।রোমান গ্রামে ধমধমে অবস্হা বিরাজ করছে,সবাই তোদের নিয়া কি যেন বলতেছে।কি বলতেছে মানুষ? চাচা-চাচী খুব কান্না কাটি করে,আজ এত দিন চাচাকে ঘর থেকে বাহির হতে দেখি নাই।শামিম তুই আমার মা বাপকে দেখে রাখিস আর আমার সাথে তোর যে দেখা হয়েছে কেউ যেন জানতে না পারে।শুনছি মালতির বাবা গ্রামের লোকজন দিয়ে শালিস ডাকবে তোর বাপ মার জন্য, জানি না তখন কি হয়।তোর চাচারা সব মালতির বাবার পিছে পিছে চলে।তারা পুলিশের কাছে গিয়ে অপহরন মামলা নাকি করতে বলছিলো চৌধুরী যে কৃপন সে পুলিশকে সহজে টাকা খাওয়াবে না।যাক,তুই সাবধানে থাকবি আর এখানে বেশী দিন থাকা ঠিক হবে না মনে হয়।দেখি মালতির সাথে আলাপ করে তোকে জানাবো আমরা কোথায় যাই।(চলবে)
(২১তম পর্ব)----------------পোতনায়ক---------------- শামিমের সাথে নাকি রোমানের যোগাযোগ আছে চৌধুরী সাহেব।আমার সাথে আমার সব বন্ধুদের যোগাযোগ হয় চাচা।আমিতো শুনছি আপনার সাথে রোমানের কথা হয় কারন সে আপনারই ভাতিজা।শামিম মুখে যা আসে তাই বলিস না, তোদের কারনে গ্রামে এই অনাচার।শামিম এবং হামিদ মিয়ার তাড়ান্থড়া এর কারনে অনেক লোকজন জড়ো হয়ে যায় চা দোকানের সামনে।মালতির বাবা অরব হয়ে চলে যায় বাড়ীর দিকে।দোকানের সামনে জড়ো হওয়া লোকদের কয়েকজন বলে রোমান ঠিক কাজ করছে চৌধুরীর মেয়েই খারাপ সে রোমানের মাথা নষ্ট করছে,আবার কয়েকজন বলে অকিঞ্চনের বাচ্চা আকাশের কলাভৃৎ এর দিকে হাত বাড়িয়েছে।চৌধুরী বংশের সম্ভ্রমে হাত দিয়েছে টাকার লোভে।টাকার কারনে প্রতীতি থাকবে এই দুনিয়াতে,আর আমি শামিম অসহায় এখানে না হয় দুইজন প্রাপ্ত বয়ষ্ক ছেলে মেয়ে স্বাধীনভাবে নিজেরা বিয়ে কেন করতে পারবে না।যেত ধড়িবাজ আছে তারা চৌধুরীর ডানে-বামে আর সবাই মিলে হয়তো অসহায় এই পরিবারটা কে ধুলায় মিশিয়ে ফেলবে।কাজল আমরা কি করতে পারি রোমানের জন্য তাই ভেবে দেখ।হ্যা, শামিম আমরা বন্ধু হয়ে যদি তার পাশে না দাড়াই তাহলে খুব অবিধেয় হবে।চল একবার গিয়ে রোমানের মা বাপের সাথে দেখা করে আসি। চল যাই।রোমান কেন এমন করলো বলো শামিম।চাচী আপনি শান্ত হয়ে বসেন,সে কোন খারাপ কাজ করে নাই।তার দুইটা চাচা কি যে জবুথবু,কি যে বিকটাকার গালি দেয় ঘরের সামনে দাড়িয়ে।বলে রোমানের কারনে নাকি তাদের মাথা অন্ত্যজ আজ।বাদ দেন তাদের কথা।কিন্তু সে আমাদের ফেলে কি করে আছে(কান্নারত)।আমি তার মুখ দেখেই তো বেঁচে আছি।ছোট কালে আমাকে ছাড়া ক্ষুদ্র টুকরা সময় কাটতো না তার।এই দেখ শামিম এই ঘরের সামনে এই উঠানে দরমা বিছানায় তাকে রেখে আমি কাজ করতাম।তার সামনে মুড়ি চিটিয়ে দিতাম আর সে একটা একটা খুজে খেত।একটু কান্নার শব্দে ছুটে এসে বুকে নিতেই হাসি আর হাসি।আমি তো আর দ্বিতীয় সন্তানের মা নয় যে তাকে ভুলে যাব।কোন আর সন্তান নিতে চিন্তাও করিনি।আর আজ সেই সন্তান মা ছেড়ে বাপ ছেড়ে এক মেয়ে নিয়ে উধাও মা বাপকে জ্যোতির আননে ফেলে।না চাচী আপনি এমন ভাববেন না,রোমানের নিকট মা বাপই আপন বিশ্বব্রহ্মাণ্ড।সে ভাল করেই জানে আপনাদের চরনের নিচেই তার শেষ ঠিকানা তাই তার সমস্ত দোয়াই হোক আপনার চরনে।কোন মা বাপই সন্তানের ভূতগ্রস্ত চায় না সে ছাড়া যেমন আমরা বাঁচবো না ঠিক তেমনি আমরা ছাড়াও সে বাঁচবে না। শুন শামিম আমরা সব বন্ধু রোমানের মাকে আজ হতে মা বলে ডাকবো।ঠিক আছে কাজল, আমরা রোমনের মা বাপের পাশে থাকবোই থাকবো। (চলবে)
(২২তম পর্ব)----------------------পোতনায়ক----------------------- কাজল,মা কেমন আছে?(চুপ থাকে দুইজন ) এই সময় ভাল থাকা যায় রোমান? দুইজনে চুপ থাকায় পরিবেশ দুর্বহ হয়ে যায়।কি খাবেন ভাই,অনুবর্তীর ডাকে রোমান সংবিৎ ফিরে পায়।একজনের খাওয়ার দাও,কাজল ভাত খেয়ে নেয় তুই।হোটেলের সামনের রাস্তায় একজন মহিলা রিক্সা চালকের সাথে ভাড়া নিয়া কচালে লিপ্ত।কা কা শব্দে উঠে যাওয়া কাক উঠে এসে বৈদ্যুতিক তারে বসে চুপ হয়ে যায়।রিক্সা চালক মাঝে মাঝে ঘর্মনি:সরণ করে গামছা দিয়ে।ভাড়ার টাকা মিটিয়ে মহিলা নিজের কাজে পা বাড়ায়।শামিম আসার কথা ছিল কিন্তু সে আসলো না যে।সেই আমাকে পাঠিয়েছে রোমান।কাজল,বেছু দাদা কেমন আছে তার সাথে অনেক মজা করতাম যে।সবাই ভাল আছে,মালতি কেমন আছে রোমান।ভাল আছে সে মার সাথে কি তোর প্রতি দিন দেখা হয়।গতকাল রাতে আমার দেখা হয়ে ছিল কিন্তু তোর সাথে দেখা করার কথা বলেনি।ঠিক করেছিস,না হয় আসার জন্য অগ্রগমন করবে।একটু শুনলাম শুত্রুবার রাতে যষ্টি হবে সালিশের জন্য।কাজল,আমি তোদের হাত-পা ধরে মিনতি করছি আমার মা বাপকে এই নাকাল হতে বাঁচিয়ে তুলবি।তোর দুইটা চাচাই সব চেয়ে অতিরেক ভাবে উঠে পড়ে লেগেছে তোর বিরুদ্ধে।এখন সয়ে যাওয়াই ভাল হবে আমি ছোট বেলা হতে এই রাবিশদের নির্মমতা দেখে আসছি। তুই কি কোন লোকজন তোর হয়ে সালিশে আসতে বলবি। না কাজল,তোদের ইচ্ছামত তোরা সব দেখ। আমি অসহায় যাযাবর মা বাবার জন্য বাসার বাহিরে প্রান খুলে কাঁদি আর মালতির সামনে পরমোল্লসিত থাকি তাকে খুশী রাখতে তবে তোদের মত বন্ধুমহল পেয়ে জুডান আমি।হোটেলের সামনে দেখলি না চোখে কালো চশমা পরা মহিলাটা গরিব অসহায় রিক্সা চালককে কেমন করে দমক দিয়ে দমিয়ে দিল।প্রচন্ড গরমে পানির পিপাসায় রিক্সা চালকের মুখ দিয়ে কথা বাহির হচ্ছিল না।বড় লোকদের পকেট হতে দুইচার টাকা গরিব একটু বেশী নিলে কি এমন মহাক্ষতি। বড় লোক সব সময় নিচুকে পদদলিত করেই সুখ কেন পায়।আদিকারণ ভিত্তি হবে,চন্দ্রমার সাথে অংশুমালীর সঙ্ঘর্ষ হবে,হিমালয়ের শির হতে বরফ খন্ড ক্ষারকে আসবে,প্রতিভাস-বীজন দুর হবে তারপরও মালতি আমার থাকবে শুধুই আমার।ঠিক আছে,ঠিক আছে রোমান তুই একটু শান্ত হয়ে একটু বস।কি অন্যায় আমার,কেন চাচাদের বানমাছ আমি আমার বাবা কর্মহীন ছিল বলে নাকি আমার মা পতিব্রতা নারী বলে।কাজল আমি বেঁচে থাকতে তাদের আশঁসন বহুলীকরণ হতে দেব না।শুধু তোদের সাহায্য দরকার, তোরা তোদের ভাল বিবেক আমার জন্য দিলেই হবে আর শত্রুুবার কি হয় দেখে আমায় জানাবি।(চল
(শেষ পর্ব)---------------------পোতনায়ক----------------- চৌধুরী সাহেব কেন আমাদের ডাকলেন বলুন।জ্বী চেয়ারম্যান সাহেব,চৌধুরী উঠে দাড়াতেই যুব সমাজের সবাই এক সাথে হু হু করে হাসতে থাকে এতে উনি চঁচলিত হওয়ার পাশা পাশি লজ্জ্যার প্রতীতি করে বসে পড়ে।আমার মেয়েটা দশ দিন হল ঘর হ....তে(আবার হাসির খোরাক চৌধুরী)।এখানে কি সরস উক্তি করতে বসেছি নাকি চেয়ারম্যান সাহেব।চৌধুরী সাহেবের সহজ সরল মেয়েকে ঘর হতে বাগিয়ে নিয়ে গেছে রোমান আমরা তার বিধিবৎ করতে এখানে বসা।তা ঠিক শাহাজান মুন্সী ভাই, আমি সবার প্রতিনিধি এখানে সবার কথা শুনে ন্যায় বিচার করাই আমার দায়িত্ব।শাহাজান মুন্সী ধর্মধ্বজী ও অনৃজু একজন মানুষ যার সংসার চলে দরবারী পয়সায়। শ্বেতসারবহুল হয়ে এক কোনায় অরব রোমানেরর বাবা বসে আছে।শামিম,কাজল আচ্ছাদন হয়ে রোমানের বড় মামার পাশে বসা।ডানে বামে সব মালতির বাবার মাঝখানে চেয়ারম্যান ইশ্বরের নমুনা।রোমান কখনো চৌধুরীর মেয়েকে নিয়ে বাগে নাই,বরঞ্চ মালতিই রোমানকে ঘর ছাড়তে অনুপ্রাণনা করে।আমার বোন,ভগ্নপতি অখল সবাই জানে।ঝাঁজাল এক কচালের ভিতর সবাই ব্যস্ত,যেন সবাই সভাপতি এই অনুনয়ে।তত্ত্বালোচনা শেষে সবার অপেক্ষা কি হয় সিদ্ধান্ত তা জানতে।দুই পক্ষই ঠাহরটা নিজের অনুকুলে নেওয়ার পরখে লিপ্ত,মাঝে আমার মত চেয়ারম্যান বড়ই অসহায়।
দয়া করে সবাই নির্ঝঁঝাট হয়ে বসেন।আমি আপনাদের সবার নিথরতায় বিশ্বাসী,তাই আজকের বিনির্ণয় উভয় পক্ষ সহজ ভাবে জোয়ালহীন হয়ে মেনে নিবেন।(১) আজ হতে রোমানের পরিবার সমাজচ্যুত(মসজিদ-মন্দির,পুকুর-ঘাট,মোল্লা-মিয়াজী,দোকান-পাট কোন কিছুতে তাদের যুগপৎ অবস্থান থাকতে পারবে না) থাকবে এক বছর (২) রোমানের পরিবার এক মাসের ভিতর পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে হবে মালতির পরিবার কে এবং (৩) মালতিকে এক সপ্তাহের ভিতর তার পরিবারের নিকট ফেরত দিতে হবে রোমানকে।রায় শুনে সবাই চুপ।শামিম কিছু বলবে তুমি,কি বলতে চাও! সপ্রাণ যুগে একজনকে ললাটের পার্শ্বস্থানে কয়েদি করে যায় না,এটা আদি আমল নয় চেয়ারম্যান সাহেব।সন্তানের জন্য মা বাপকে দন্ডপ্রদান কি ধরনের ন্যায় বিচার,পাঁচ লক্ষ টাকার বিরাট এক পাহাড়সম অর্থ দন্ড, এই ধরনের বিচার আপনার হতে আশা করি নাই আমরা।শামিমের কথায় আবার উত্সেচন দেখা দেয়।এর মাঝে সমাপ্ত হয় সালিশ।দিনের পিঠে ভর করে রাত এসে যায় রাতে পিঠে ভর করে দিনও আসে কিন্তু সেই দিন তোর না রোমান।এই দুনিয়াতে আমরা বড়ই অসহায়।ঘরের ভিতর বন্দি থেকেই মারা গেল তোর বাবা।তাকে মৃতের আলয় করতে সমাজের মানুষের হাত পা ধরেও কবরের জমি মিলেনি তাই তোর নানার বাড়ীর জমিতে কবর দিতে হল।শুনেছি তোর বাবার অধিকারভুক্ত দ্রব্যসকল তোর চাচারা ও চৌধুরী দখলে নিয়েছে।(কান্না থামিয়ে) শামিম কি হবে আর সেইসব দিয়ে।আমি রামগড় চলে যাব হিরা লাল কাকার সেখানে তুমি কয়েক দিন পর মাকে নিয়ে আসিও আমার কাছে ।