আহারে কে ভূলিতে পারে, খা খা ঐ মার জ্বালাতন ॥
মনে পড়ে আজিকে এখন,
মায়ের এত সোহাগ আদর ও যতন,
শৈশব ছেড়ে কৈশোরে পা রাখিতে চাইছি যখন,
কত বাধা কত সে বারণ, কে আছে এ জগতে আহা মায়ের মতন ॥
খারে যাদু খা,
তাড়াতাড়ি তুই বড় হয়ে যা,
আমার খোকা বড় হবে তবেই দূর হবে মার দুঃক্ষটা,
শুধু খা খা বারবার,
ঐ একই কথা বেশী ছিল মোখে তার,
মায়ের সে স্বপ্ন আশার আমিইতো ছিলেম তার সাত রাজার ধন মানিক রতন ॥
কায়ঃমনে চায়,
এক অভাগীনি মায়,
এ পাড়ার সবার সেরা হয়ে যায়,
হয় নাদুসনুদুস মোটাতাজা,
সব শিশুদের মাঝে যেন একটাই রাজা,
নয়নের মনি কলিজার টুকরা ঐ কালো ছেলেটা তার আদরের বাছাধন ॥
উঠানে খেলার সময়,
সন্ধা না হতেই মার কত ভয়,
বলে ওরে বাবা ঘরে আয়,
সবাই সজাগ শুধু আমারেই মায়,
জানিনা কেন বলে ঘুমাতে যা বিছানায়,
মার মন তার দুটি নয়ন মোর পিছে পিছে লেগে থাকে নিত্য সারাদিন সারাক্ষণ ॥
কেমন সন্তান আমি,
আসলে কি হতে পেরেছিলেম দামী,  
পড়ে গিয়ে একটু ব্যাথা পেলে কিবা গরমে গেলেও ঘামী,
যাদু সোনা বলে টেনে ধরে মুছে দিতো আঁচলে তাও করতাম কতযে ঘারামি,
আজ মন জানিতে চায় জানিনা হয়েছিল কিনা হায় আমার মায়ের সে স্বপ্ন আশার পূরণ ॥
ঐ মায়ার চোখে চোখে,
কেন সে ধরে যেন বেধে রাখে,
ক্ষনিক না দেখিলে নাম ধরে চিৎকার করে ডাকে,
ঐ দিনগুলি আজও রয়েছে মোর বিভোর ব্যাথাতুর স্মৃতিতে স্বরণ ॥
বদলে গেছে সময় নেই আর সেই আগের দিন,
অনেক ধনে হয়েছি ধনী তবু কেন জানি দেখি বেড়েছে আমার বহু ঋন,
মা আমার হায় থাকে বাড়ীতে,
কেজানে হায় কি খায় কি আছে তার হাড়িতে,
আমিতো চাইনি তবু কেনযে হয়েছে তাদেরে এসে ছাড়িতে,
আর আমরা দুজন পেয়েছি কত সুখের জীবন, বড় শহরে থাকি এখন ॥
বড়তো আমি হয়েছি,
কি দায় তবে কাঁধে তুলে লয়েছি,
কবে কোন সেবা উপকার তাদের আমি করেছি,
প্রায়ই ফোন করে কেমন আছি,
জানতে চায় খাবার খেয়েছি কি না খেয়েছি,
আমি কি ওরে চেয়েছি কভূ,
জানিনা কেনযে হায় পেয়েছি এমন তবু,
মাগো মা - মোর আদরিণী সোহাগিনী মায়াবতী মা,
তোমার ছেলে আজ কেমন আছে আর কেমনে তার দিন যায় একবার এসে দেখে যা,
সীমাহীন ব্যাস্ততা আর বেশী ধন বেশী সুখ বেশী টাকার এ জীবন করেছি বরণ ॥
একা হয়ে গেছে মোর বুড়ো বাবামা,
কত কথা কত কাজ দায় রয়েছে হায় অনাদায় জমা,
ছিল মোর কত দোষত্রুটি কেজানে হয়েছিল কিনা তার কোন ক্ষমা,
মায়ার পাহাড় ও বিশাল বটগাছ নিবিড় ছায়ার কে হবে আর যেমন ছিল তারা দুইজন ॥
সেই পূরনো দিন,
ভেবে মনটা হয়ে যায়যে মলিন,
আমি কেন ওরে এমন ভাগ্যাহত,
পেলামনা দিন সময়গুলো মোর মনের মত,
নাবলা মনের লুকানো কষ্টের আহত বাসনাগুলি যত,
আক্ষেপ করে বিষাদে ভরে গলাগলি ধরে বসে অন্ধকারে নিরবে করিছে ক্রন্দন ॥
যদি হতো সাধগুলি মোর,
ভেংগে বন্দিশালার লৌহ কপাট দ্বোর,
পেতো সন্ধান পেতো নব প্রাণ সোনালী আলোর ভোর,
হয়তো আমাকে আজ হতে হতোনা বিবেকের কাছে এক অপরাধী চোর,
আমার আহত চাওয়া আর ধিক দেওয়া বারবার এমন কত সাধ না হওয়া সাধন ॥
সবকিছু আধাটা অনটনে করা গ্রাস,
গাদাগাদি করে এক ঘরে ছিলযে বসবাস,
তবু হেথা ছিল কত ভালবাসা নির্ভরতা ও বিশ্বাস,
কত কাড়াকাড়ি ও হৈ চৈ হতো ঠান্ডা লড়াই নিয়ে ছাইপাশ,
এই যেন বন্ধু হঠাৎ আবার শেষে জানিনা কেন হতো শুরু দূষমনি ত্রাস,
আজ কেমনে তা হলো বিনাশ,
হলেও অনেক বিদ্যা ও ধন কত কাজে এখনও হইনিতো পাশ,
ঐ সে দিনগুলি মরমের ঢাকনা খুলি আমারে যেন করে শুধু উপহাস,
সবকিছুতে শুধু অভিনয় ব্যাস্ত বিভোর বলয় আপন আপন সব স্বপ্ন বিলাস,
বসবাস যার হোকনা যেই পুর,
মনের জগতে যেন সবে আজ তারা বহুদূর,
সবকিছু একেবারে আলাদা ভিন, অন্তরের আসন মলিন এখন,
কে কোথায় আজ আছে কেমন ঐ এক ঘরের ভাইবোন মোরা ছিলেম যে নয়জন ॥
যখন মাঝেমাঝে মনে পড়ে,
বিচ্ছেদের নিরব প্রহরে আমারে কাতর করে,
আজ আর কেনরে তা নাই,
বলোনা কোথা গেলে পাবো তাই,
আর কি নতুন কিবা ঐ পূরাতন এই ভবে,
জ্বালাতন করে বায়না ধরে ফায়দা নেবার কলরবে,
হেথা ফিরে যাওয়া কিবা তা কোনদিন পাওয়া কারো কি হবে,  
দারুণ মজার ঐ ছোট্টবেলার মধুর রঙীন আমার প্রিয় সেই সোনালী ভূবন ॥
হ্যালো হ্যালো হ্যালো,
আচমকা একদিন হায় কি খবর এলো,
বুঝি হায় তেল ফুরিয়ে একটা ঘর আঁধারে পূরিয়ে উজ্জল দীপখানা নিভে গেলো,
মা আমার নেই আর বিজন বিষাদে অভিমানে নিরবে সে চীরতরে করেছে পলায়ন ॥
একদা ছিল কত অনটন,
আজ কত টাকা কত সুখ কত ধন,
কি দিয়েছি তাদের যাদের কারণে ধন্য আজিকে এ জীবন,
বুঝি সব আছে শুধু নেই তারা নেই মোর সেই আগের মত সবুজ মন,
এইতো জীবন ভাই,
দেখি এই আছে এই নাই,
ছিল যার সে অফুরান নেয়ামত দান,
একবার দেয় আবার কেড়ে নেয় এই বুঝি তার বিধান,
শুনেছি দিয়ে ধন চায় মন যাচাই করা হলে সমাপন তা করে হরণ দাদনের ঐ মহাজন ॥
সেইযে ডানা গজালো দিলাম উড়াল,
দেশে দেশে বনে বনে গাছে গাছে এডাল থেকে ওডাল,
পেলাম অন্যরকম এক জগত বিশাল,
একাকিত্ব ও শূণ্যতা যেথা করেছে বেহাল,
কত সাগর নদী নাও ভাসালাম উড়িয়ে রাঙা পাল,
ভেবোনা মাগো, এখন আমার করে ষোলআনা ঠিকঠাক দেখভাল,
তব বৌরানী মোর সজনী, আলগা হয়েছে মন ছিল যে সদা মায়ের সোহাগ কাঙাল,
তবু তোমার ঐ চরণ ধূলি,
শিরে তব হাতের পরশ নামাজে বসে করা দোয়াগুলি,
আর কপালে সোহাগ চুম্বন, কেমনে কবে মাগো আর কি হবে এ জীবনে তার পূরণ ॥
চোখে জল নেই আহারে মন কাঁদে,
সব থেকেও ঢের যেন আমি পড়ে আছি বিষম ফাঁদে,
বিভোর যাদুর নেশার ঘের তা যেন পূরো এক সের আমোদে নাকি বিষাদে,
পাওয়া না পাওয়ার,
পেয়েও আবার সব হারাবার,
কেউ আগে কেউবা পরে আসা যাওয়ার,
সে এক মজার খেলা নিশীদিন সারাবেলা বিধাতার,
সৃজন মরণ দাদনের মহাজন লালন পালন মালিক সে একজন এ মহাবিশ্বটার,
যখন ইচ্ছে হয় যেমন তার, সবর আর কোরবানীর ইমতেহান লন সারাক্ষণ আজীবন ॥