মোর নাম হাবলু আছে শুধু ভ্যান-টা
টুকটাক খেপ মেরে চলে ভাই পেটটা!
করোনায় রোজগার কমে গেছে শহরে
ভোরবেলা বের হই ফিরি রাত প্রহরে।
লক আর ডাউনে কাজ-কাম খুব কম
সংসার চালাতেই যায় যায় যায় দম।
গাড়ি নিয়ে বের হই মোড়ে খাঁড়া দিনমান
ফুটপাতে বেঁচা কম, বিড়ি ফুঁকে আরমান।
ছাপোসা বাবলু কাজে যাবে হয় বার
রিকশার ভাড়া শুনে ঢোক গিলে তিনবার।
চাল-ডাল, তেল-নুন, সবজিটা নিত্য
দরদাম মুলামুলি হিম হয় চিত্ত।
আসছে ঈদ ভাই, কিভাবে যে করি কি
নিত্যের হিমসিম, গরীবের ঈদ কী!
শার্ট-প্যান্ট কিনে রাখি ছেলেদের মর্জি
লুজ বেশী কেটে-কুটে ঠিক করে দর্জি!
এক কেজি মাংস কিনি ভাবি হররোজ
দাম শুনে মাথাটার নাট-নোট সব লুজ!
দেড় কেজি ব্রয়লার ছোট ছেলে দেয় লাফ
বাকী নাই সালেহ্ মুদি বলে দিছে সাফ সাফ।
রোজগার টানাটানি নিরীহরা ধুকছে
পিঁপড়ার পাল যেন বাড়িমুখী ছুটছে।
নাই কোন হুশজ্ঞান করোনায় নাই ডর
চামে-চামে গাড়ি চলে দেশময় দিনভর।
বেশী কিছু চাইনা শুধু চাই ডাল ভাত
কপালে যে কি আছে ভেবে যাই দিনরাত!
তাও বলি ভাই-
হে আমার দেশ, ভালো আছি বেশ,
তোকে নিয়ে গর্বের নাই কোন শেষ!
----------------------------------------
ভালো নাম হাবিব উল্লাহ। ভ্যান চালায় বলে মানুষ ইজ্জত করে ডাকে ভ্যান হাবলু! মহল্লায় আমার সাথে প্রায়ই দেখা হয়। করোনা কালের আগে খেয়ে পরে ভালোই চলছিলো। এখন খুব কষ্টে দিন কাটে। দুই ছেলে ও স্ত্রী নিয়ে ছোট সংসার। বড় ছেলেটা ৮ম শ্রেণীতে পড়ে, ছোটটা স্কুলের বয়স হয়েছে মাত্র। আজকে সকালে সালেহ মুদির দোকানের সামনে দেখা। খুব বিনয়ী। দেখলে সালাম দেয়, খোঁজ খবর নেয়। আমিও খোঁজ খবর নেই। ঈদে বাড়ি যাবেন না বলতেই আবেগে বেশ কিছু কথা বলে ফেলে। তার কথাগুলি কানে বাজতে থাকে, খুব কষ্ট পাই! সালেহ মুদির দোকান থেকে সেমাই-চিনি ও দুধ কিনে। আমি দামটা দেয়ার জন্য অনুমোতি চাই। বিনয়ী একটা হাসি দিয়ে প্রত্যাখ্যান করে।


-আমার আজকের এই অতি ক্ষুদ্র লেখাটি বাংলাদেশের সমস্ত হাবিব উল্লাহদের উদ্দেশ্যে ঈদের শুভেচ্ছাসহ উৎসর্গ করলাম, যারা আমাদের সমাজের অতি অপরিহার্য অংশ হয়ে, হাসি মুখে সর্বদা সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছেন।


-পাশাপাশি বাংলা কবিতা.কম এর এডমিন, প্রকৌশলী, কলাকুশলীসহ আমার সমস্ত কবি বন্ধুদের পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।