To: [email protected] on Sat, 06 Jul 2019 15:12:24
From: [email protected]


চিঠি লিখছি, বছর তিরিশ পর।


অনভ্যাসে বাংলাটা হয়তো কাঁচা শোনাবে।
আশা রাখি সুখে আছো,
ফুলে ফলে স্বচ্ছলতায় ভোরে আছো-
কলকাতার  অভিজাত সংসারে।
যেমনটি চেয়েছিলে।


আমিও আছি বেশ - যেমনটি চেয়েছিলাম.
স্বাধীনচেতা মেয়ে স্বাধীন ভাবে বাঁচতে।
শান্তিতে থাকি, ইলিনয়েস এর লেকের ধারে,
ছিমছাম এপার্টমেন্টে- নিজের ছন্দে চলি- বলি
আনন্দ করি মন ভোরে।


সেদিন বারান্দায় বসে
পূর্ণিমার চাঁদ দেখছিলাম, অনেক রাত অব্দি-
পেঁজাতুলোর মেঘে চাঁদ যেন লুকোচুরি খেলছে-
মায়াবী আমেজে মিশিগান করছে চিকচিক।
চাঁদের বামদিকের ছাপগুলো
কেমন যেন কথা বলে-ওরা  'মারিয়া'
মা র প্রকোষ্ঠে চুপকরে শুয়ে জীবন্ত ভ্রূণ।


হ্যা, তোমার মেয়ে ভালো আছে-
হাতের আঙ্গুলগুলো তোমার আদলে-
পড়াচ্ছে পুবের শহরে- আটলান্টিকের তীরে।
গত সপ্তাহে নাড়া বাঁধলো জোয়েল এর সাথে-
না না --  অবান্তর কথা --
ও তো আমার মেয়ে- আমাদের মেয়ে-
ওর আসল বাবার অস্তিত্ব হেসে উড়িয়ে দিয়েছে-
না চেয়েছে দেখতে- না জানতে-
সে তার নকল বাবার চোখের মনি-  
আমার হৃদস্পন্দন।


মাঝে মাঝে মনে হয়
সেদিন তোমার কথায় যদি উপড়ে দিতাম মারিয়া কে-
অপেক্ষা অপেক্ষা আর অপেক্ষার পর
যদি কোনোদিন স্বীকারও করতে আমি অর্ধাঙ্গিনী
পচে যেতাম অন্ধকারের সেই মানসিকতায়-
যার সমাজের কাছে সম্মান
নিজের ভ্রূণের থেকেও বড়।


আজও চোখে ভাসে ওই দৃশ্য-
তিন মাস ছুটির শেষে,উড়ে যাবার আগের মুহূর্তে,
বাবা-মা কে জড়িয়ে  খুব কেঁদেছিলাম- বলেছিলাম,
'ভরসা রাখো-আমি জন্ম দেব এই প্রাণ কে
সাত সাগর পারে- যেখানে সমাজ
আমায় কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে না,
একলা মা হবার অপরাধে'।


বাবা- মা ছিল  কাছে-
কিন্তু লিয়ামের পাশে দাঁড়ানো যেন রূপকথা-
স্বাধীনচেতা মেয়ে আর মনখোলা লিয়াম।
সারিবাঁধা রক্তিম ম্যাপালের পাশে
হাটু মুড়ে বলেছিলো-বিয়ে করবে?
মারিয়া তখন  গর্ভে ন মাস।


বোকা আমি, মা হবার অবর্ণনীয় আনন্দে
তোমাকে শতবার চেষ্টা করেছি টেলিফোনে-
না, ধরোনি- সেই কাপুরুষ, ভীরু, নির্লজ্জ তুমি-
যে জানতে চায়নি কোনোদিন নিজের রক্তের সম্পর্ক-
সমাজের ভয়ে,  ঠুনকো আভিজাত্যের ভয়ে, নিজের পুরুষত্বের ভয়ে-
যাদের জন্ম থেকে মৃত্যু আবর্তিত হয় অন্ধকারের গহ্বরে।
ধীক, ধীক, শত ধীক- নষ্ট পুরুষ।


ভুল আমার –
চিনতে পারিনি মুখোশের আড়ালে তোমাদের সমাজ কে-
যে সুযোগ লুটে বলে, ছিঃ- নষ্ট  মেয়ে।
ভয় নেই- এই শেষ চিঠি,
ধন্যবাদ জানাই- আমার জীবনটাকে বাঁচতে দিয়ে।
হয়তো আমিও তোমাকে এ যাত্রা
বাঁচিয়ে দিলাম।


ইতি,
তোমার যৌবনের 'নষ্ট মেয়ে'।


@অপরাজিতা