আমি তোমায় বড় ভালোবাসি,স্বাধীনতা।
তুমি আমার জীবনে নেই বলে-
মল্লিকা ফুলের বাগান আজও কাঁদছে।
ওখানে প্রতি সকালে আর আগের মতো জলসা বসে না।
দিনের বাকি সময়টা ওখানে
আমার বন্ধুরা বিষণ্ণ চিত্তে থাকে।
কখনো কেউ কেউ কাতর কন্ঠে ডেকে ডেকে
সারা আকাশ ভারাক্রান্ত করে তোলে।
সন্ধ্যায় ওরা একসাথে উড়ে চলে যায়
একরাশ হতাশা বুকে নিয়ে।


আমি তোমায় বড় ভালোবাসি,স্বাধীনতা।
তুমি আমার জীবনে নেই বলে-
আমার শরীরটা দিন দিন কেমন শুকিয়ে যাচ্ছে।
পালকগুলো যেন আস্তে আস্তে খসে পড়ছে,
নতুন পালক জন্মাচ্ছে না তো আর!
আমার কি তবে রোগ হলো?
আজ দীর্ঘ কত বছর দিনের দেবতাকে দেখিনি।
আজ দীর্ঘ কত বছর ধরে শীতল হাওয়া গায়ে লাগেনি।
আজ দীর্ঘ কত বছর ধরে বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলিনি।
তাই বুঝি এই রোগ হলো।


আমি তোমায় বড় ভালোবাসি,স্বাধীনতা।
তুমি আমার জীবনে নেই বলেই-
খুব মনে পড়ে আমার বন্ধুদের কথা।
কতদিন আমরা একসাথে ঐ মল্লিকা বন
আলো করে রাখতাম।
প্রত্যহ ভোরে সবাই বাসা থেকে একসঙ্গে ঐ বনে আসতাম,
তারপর চলত কত গান, কত খুনসুটি, কত কথা আমাদের মধ্যে।
দিনের বাকি সময়টুকু এদিক ওদিক উড়ে কাটিয়ে দিতাম।
সন্ধ্যায় একসাথে বাড়ি ফিরতাম।


আমি তোমায় বড় ভালোবাসি,স্বাধীনতা।
তুমি আমার জীবনে নেই বলে-
বুঝতে পারছি আমার জীবন বড় শীঘ্র
শেষের পথে চলেছে।
বুঝতে পারছি আমি থাকব আর খুব অল্প ক’টা দিন এই খাঁচায়।
হে স্বাধীনতা, সামনের জীবনে তুমি থেকো আমার সাথে সবসময়!
তখন যেন কেউ কোনোদিন আমাকে আমার বন্ধুদের থেকে আলাদা করতে না পারে।
হে স্বাধীনতা, এখন তুমি আমাকে নিয়ে নাও,
তুমি আমাকে নিয়ে নাও, মুক্তি দাও আমাকে!