নতুন যারা কবিতা লিখছো বা লিখতে চাও, তাদের বলছি:


তোমরা ছন্দ নিয়ে মোটেও চিন্তা করবে না। যা আসছে লিখে ফেলো। যেভাবে আসছে লিখে ফেলো। স্বাভাবিকতাকে নষ্ট হতে দিওনা।


মন যদি দিতেই হয় তবে ভাবনার অভিনবত্ব,বিষয়ের গভীরতা আর উচ্চতর সত্য খোঁজায় মন দাও। ছন্দ নিয়ে বৃথা মাথা বকিও না। এখন ছন্দ নিয়ে বেশি মাথা ঘামালে ছন্দটা রপ্ত করতে পারলেও কবিতাটা ছেড়ে চলে যাবে, কবিতা আসবেই না। মনে রেখো, এটা প্রথম পর্যায়, তাই আবারও বলছি ছন্দের ভয় মন থেকে একেবারে ঝেড়ে ফেলো। তোমার মনে হয়তোবা খটকা লাগবে ছন্দ হচ্ছে না, কবিতা হচ্ছে তো? কিছুদিন পর দেখবে যা লিখছো তাতেই অটোমেটিক ছন্দ হয়ে যাচ্ছে, নতুন ধরনের ছন্দ জন্ম নিচ্ছে। তখন দেখবে অন‍্যেরা এমনকি বিখ্যাত কবিরাও আবার তোমার ছন্দে লেখার চেষ্টা করবে! আসলে ছন্দের জন্য কবিতা নয় বরং কবিতার জন্য ছন্দ! আর তুমি ছন্দ লিখতে বসছো না, কবিতা লিখতে বসছো।


মহেন্দ্র সিং ধোনিকে দেখো, লোকটার নিজস্ব একটা স্টাইল আছে। সবাই কপিবুক ক্রিকেট খেলে, কিন্তু উনি কাউকে কপি করেন না। আর এখন উল্টে অন‍্যেরা উনাকে কপি করার চেষ্টা করেন। হ‍্যাঁ অবশ্যই রাহুল দ্রাবিড় ভালো টেকনিক্যাল ব‍্যাটস্ম‍্যান। কিন্তু খেলাটাই লক্ষ্য, স্টাইলটা নয়।যেভাবেই চার মারুন চার চারই, ছয় ছয়ই! সুর দিতে জানলে যেকোনো শব্দই যেমন গান হয়ে যায়, তেমনি আবৃত্তি করতে পারলে যে কোন লেখাই কবিতা হয়ে ওঠে, তাতে তা পদ‍্য, গদ্য বা নাটক যাইহোক। তবে শুধু একদুটো শব্দ পরিবর্তন বা এদিক ওদিক করতে হবে, এই যা!


ছন্দ, ছন্দ, তবে ছন্দ কোথায় গেল? আরে দাদা দিদিরা, ছন্দ পরে হবে। আগে কবিতা হোক। আগে অপরিশোধিত তেল খনি থেকে তুলে আনুন, তারপর না হয় পরিশোধন করে ডিজেল,কেরোসিন বানানো যাবে, first step first.


নতুনরা, তোমরা কি তবুও ছন্দ নিয়ে ভয়ে আছো? তোমরা কি ভাবছো ছন্দের কোনো বিকল্প আছে কিনা? আমি বলব "আছে", ছন্দের বিকল্প আছে এবং তা হল "আবেগ"! আবেগ দিয়ে কবিতার ছন্দজনিত দূর্বলতা দূর করা যায়। আবেগ দিয়ে ছন্দকে জয় করা যায়। আবেগ নিজে নিজেই ছন্দ তৈরি করে দেয়। স্বতস্ফূর্ত আবেগই ছন্দ। ছন্দকে সুললিত হতে হবে কে দিব‍্যি দিয়েছে? কবিতাকে ছন্দের দাস হতে হবে কোন ভগবান বলেছেন? কবিতাকে সর্বদাই ছন্দের ওপর মাস্টারি করবে।


কিছুদিন লেখালেখির পর অন‍্য আধুনিক কবিদের লেখালেখি পড়া শুরু করুন। পড়ুন, আরো একটু পড়ুন। দেখবে তারও কিছুদিন পর তোমার মধ্যে ছন্দের একটা স্বতস্ফূর্ত বোধ সৃষ্টি হয়েছে। তোমাকে কিন্তু তার জন্য কষ্ট করতে হল না, ছন্দও শিখতে হল না, কিন্তু কাজের কাজ হয়ে গেল। বেশ সহজ না? এটা হল দ্বিতীয় ধাপ। এখন দেখবে তোমার কবিতা ছন্দযুক্ত হয়ে একটা অন‍্যরকম মাত্রা পাচ্ছে।


তৃতীয় তথা শেষ ধাপ, ছন্দের পারে চলে যাওয়া। পুরোপুরি ছন্দকে জয় করে নেওয়া। এটা অনেক অনেক লেখার পর হয় (বয়সের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই)। তখন ছন্দের কথা ভাবার কোনো দরকারই পড়বে না। তখন তুমিই রাজা, যা লিখবে তাই ছন্দ।


প্রথম ও তৃতীয় ধাপ দেখতে কিন্তু একই, কিন্তু দুটোর মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য। দু'ধরনের কবির কবিতা পড়লেই বুঝতে পারবে সেকথা। সে যাইহোক এখন মাথায় একটা কথাই রেখো, first step first.


ছন্দ নিয়ে experiment করো। কবি সুকান্ত একবার আক্ষেপ করেছিলেন আমরা ছন্দ নিয়ে নতুন কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করিনা বলে! তোমরা তরুণ প্রজন্ম, তোমরাই নতুনের দূত, আমার বিশ্বাস তোমরা পারবে! এক হয় নির্মাণ, আর এক হয় সৃষ্টি; তোমরা সৃষ্টিতে মন দাও। আমার আশীর্বাদ ও শুভেচ্ছা জেনো।