সময় বহে তারি মত বয়স বহে সাথে
প্রথম ছেড়ে দ্বিতীয় শ্রেণি শুরু হল তাতে।
এগারো রোলের একটি ছেলে বন্ধু ছিল কাছের
মেয়েবন্ধু শুনলে পরেই জ্বীন করিত আছর।
কিন্তু আমার মেজমামা জ্বীন ছাড়ানোর যম
ভয়ভীতি সব দূর করিতে করত অনেক দম।
চকলেট কিনে আমায় দিয়ে বলত নায়ক বেশে
সুন্দর ঐ মেয়েকে দিও মিষ্টি মিষ্টি হেসে।
ধড়ফড়ানি ঐ বয়সেই বুকে হইত কত
সুন্দর সেই মেয়ের কাছে গিয়া হতাম নত।
মুঠিভরা হাতটা বাড়ি কইতাম ধীরে তারে
চকলেটগুলো তোমার লাগি নাওনা দয়া করে।
মুচকি হেসে হাত বাড়িয়ে মুঠিভরা হাত
আলতো ছুয়ে চকলেট নিত মুখে ভুলে বাত।
খিলখিলিয়ে হাসি ছড়ায় দৌড়ে যেত দূরে
স্নিগ্ধ সুবাস রেখে যেত হৃদয় চুরে চুরে।
মামার বুঝি চাওয়া ছিল এমন সঙ্গী হবে
তার সাথেতে হেসে খেলে সময় বয়ে যাবে।
কিন্তু এমন হল না আর আসল বাবা পরে
মায়ের কথা রাখতে আমায় আনল ফিরে ঘরে।
খুশিতে মন পাগলপারা নিজের বাড়ি এসে
এবার আমি উড়ব ফিরব নিজের দেশে দেশে।
নতুন কোন স্কুলে এক ভর্তি করবে মোরে
মাদ্রাসা আর প্রাইমারি তাই দেখছি ঘুরে ঘুরে।
মাদ্রাসাতে গেলাম ক'দিন প্রাইমারিতেও তাই
বন্ধুবান্ধব আগের মত কোন খানেই নাই।
গ্রামে ছিল ব্রাক স্কুল দারুণ পড়ায় নাকি
ঐ স্কুলে ভর্তি হইতে বয়স ছিল বাকি।
বয়স তো নয় লম্বা হলেই টিকত স্যারের কাছ
ডানহাত দিয়ে মাথা ঘুরায় বামকান ধরলে পাশ।
অনেক কড়া পদ্ধতি আর মজার নীতির বাড়া
ঐ স্কুলে ভর্তি হতেই সবাই পাগলপারা।
নাচগান আর খেলাধুলা চলত প্রতিদিনে
পড়াশোনা চলত নাতো এমন নিয়ম বিনে।
গ্রামদেশে মেয়েদেরে শিক্ষা ছিল কম
শিক্ষিত মা গড়তে তাই ব্রাক সর্বোত্তম।
স্কুলভরা মেয়ে শুধু সবখানেতে তারা
ছেলেও রাখত একটা করে খুঁজে পুরো পাড়া।
ছয়টি দলে চব্বিশ মেয়ে রাখত গুনে গুনে
প্রতি দলে একটি ছেলে থাকত নিয়ম মেনে।
পড়াশোনা ভাল বলে স্কুলের নাম ছিল
ঐ স্কুলে ভর্তি করতেই মা যে হন্যে হল।
কিন্তু আমি ছোট বলে ভর্তি নিল না
কি আর করা মাদ্রাসা আর প্রাইমারীই ঠিকানা।
হঠাৎ একদিন নিয়ম ভঙ্গ করল একটা ছেলে
বিয়ের দাওয়াত খাইতে ক'দিন গেল না আর স্কুলে।
দাওয়াত খেয়ে আসার পরে নামটা কাটা গেল
তারি জায়গায় আমি অধম ভাইবার ডাক পেল।
কিছু ছড়া বললাম আর অক্ষর লিখলাম বোর্ডে
লেখা হল বাকাত্যাড়া নয়ত সোজা রোডে।
সবচে নিম্ন ছাত্রী যে সেও লেখে বেশ
এবার বুঝি মানসম্মান হইল আমার শেষ।
কিন্তু আমি একবার দেখেই লিখলাম দারুণ 'ক''স'
ম্যাডাম তখন খুশি হয়ে বলল তবে বস।
মেয়েদের মাঝে বসেই তখন ক্লাস করতে হত
তারা সবাই বন্ধুবাৎসল আপন ছিল কত।
আমার পাশের মেয়েটা যে হোসনেয়ারা নাম
ভালই ছিল কিন্তু সে আমার লাগি যম।
বয়সে একটু বড় বলে গার্ডিয়ানের মত
কথায় কথায় পিঠের মাঝে চাপড় দিত শত।
এমনি করেই সুখে-দুখে জীবন চলল ধেয়ে
প্রাইমারিটা শেষ করিলাম তিনটা বছর বেয়ে।।