বসে ছিলাম সেই দিন
ঘরের এক কোণে,
এক ভিখারীর আগমন
ঘটিল সেই ক্ষণে।

জীর্ণ-শীর্ণ দেহ তার
রুক্ষ শুষ্ক কায়া,
দেহে কিছু হাড়
মুখে বড় মায়া।

অগোছালো কেশ তার
গায়ে ছেঁড়া জামা,
পড়নেতে ছেঁড়া কাপড়
পা-য়ে কাঁদা জমা।

সে অতি ঊনপাজুরে
চলার গতি ধীর,
শান্ত শিষ্ট আচার তাহার
যেন শান্তির নীড়।

বদনে চিন্তার ছাপ
তাহার সাথে করিলাম আলাপ,
কিছু কিছু কথা
সৃষ্টি হলো মমতা।

দুয়ারে দাঁড়ায়ে ভিখারী
ছল- ছল জল ভরা আঁখি,
যেন এক নদী কষ্ট
হৃদয়ে রাখিছে ঢাকি।

তাহার ঐ আঁখি দু'টি
যেন জল ভরা তটিনী,
যাহাতে গাহন করে
মুছে যাবে মনের কালি।

কখনো সে ঘুরে ফেরে
সারাটি সকাল বিকাল,
সারাদিন ঘুরে ঘুরে
যোগায় দু'মুঠো চাল।

মাঝে মাঝে হয় সে
রোগ অস্থির,
কি করিতে হবে তা
করতে পারেনা স্থির।

কেউ-বা আবার দেখলে তাদের
ঘৃণা ভরে করে ভ্রূকুটি,
দেখেনা কেউ চক্ষু মেলে
ক্ষুধার তাড়নে তাদের লুটোপুটি।

সুখ হীন চিরদিন
করে দুখের সাথে বাস,
জীবন সদা করে শুধু
তাদের নিয়ে ভয়াল পরিহাস।

মাঝে মাঝে দুঃখ তাদের
ডেকে বলে ভাই,
তুমি-আমি এক হয়ে
দু'জনায় মিশে যাই।