দুঃসময়ের আগুন লেগেছিল তোমার কপালে
দু’চোখে অন্ধকার
স্বজনদের স্বার্থের কালো থাবায় নিষ্পেষিত তোমার জীবন
বঞ্চনা আর লাঞ্ছনার বিষাক্ত কাঁটা তোমার প্রতি পদক্ষেপে
অদৃশ্য হ্যান্ডকাফ পরানো হাতে নিষিদ্ধ জেলখানায় বসে
বোবা চোখে বাইরে বেরনোর ব্যর্থ মিনতি
মানবতা পাষাণে মাথা ঠুকে গুমরে কাঁদে বিবেকের দুয়ারে।


তখন তোমার কেউ ছিলনা। ছিল না কোন আশা।
তাদের সাজানো আদালতে আমার জীবন জামানত রেখে
এনে দিয়েছিলাম তোমাকে মুক্তির স্বাদ।
কাঁপা কাঁপা হাত বাড়িয়ে তুমি অপলক চোখে
কোনমতে বলছিলে আমাকে, ‘এই হাত ছেড়না আমার’।


তারপর তোমার আঁধার বুকের পাঁজরে উঁকি দিল
নতুন জীবনের বাঁকা চাঁদ।
সে একদিন পূর্ণতা নিয়ে তারার আগুন ভরা আকাশ
তোমাকে দিল উপহার।
তার নিচে খোলা ময়দানে জীবন নদীর তীরে
তুমি দাঁড়িয়ে।
তোমার কষ্টের দু’পাড় ভেঙ্গে ভেঙ্গে
সুখের কিনার এগিয়ে আসে
স্বপ্ন বোঝায় নৌকা তোমার বন্দরে নোঙ্গর ফেলে
তবু বললে তুমি, ‘এই হাত ছেড়না আমার’।
তারপর আমার এ জীবনে কত সাইক্লোন এসেছে গিয়েছে
ফাগুনের রঙ বদল হয়ে শীতের রুক্ষতা মিলেছে
তবুও ঐ হাত ছাড়িনি তোমার।