বন্ধু ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছি
কোথায় আছিস? কেমন আছিস? আর সবাই ?
আমরা নিজেরাই নিজেদের কথা দিয়েছিলাম
দশ পাহাড় দূরে গ্রাম দেখতে যাব একদিন ।
দেখ কেমন সবাই বেমালুম ভুলে গেলাম ।


দিব্যেন্দু সাথে প্রায় তিরিশ বছর দেখা নেই;
ওর বাবা মারা গেছে। আন্দামান থেকে তবু ও ফেরেনি ।
তপন বোধ হারিয়ে গেছে মুখটা মনে পড়েনা।
অমিয়'র সাথে বছর দশেক আগে দেখা হয়েছিল
কালীঘাটে । সাথে ছিল ছোট ছেলে আর বউ।
বলেছিল যোগাযোগ রাখবে । কিন্ত ...


সুপ্রিয়'র স্ত্রী বিয়োগ অবশ্যম্ভাবী ছিল ।
মা বিহীন ছেলে মানুষ করা সহজ কথা নয় ।
তোর কথা জানি, মাঝে মাঝে যোগাযোগ ঘটে।
চন্দনের সাথে দেখা বছর খানেক হয়ে গেল ;
ফোন করলেই খুব ব্যস্ত ,বলে পরে কথা হবে ।
সেই সময় এখনো বোধ হয় রাস্তা খুঁজে পায়নি।
অমলা শঙ্কর গ্রুপে নৃত্য পরিবেশন করতো শিবু ...
এখন নিজে গ্রুপ খুলেছে, চিরকার্ত্তিক রয়ে গেল ।


দমে গিয়েছিল হিমাদ্রি ভিসা হলনা
বিদেশে গিয়ে আরও বেশী পড়বার স্বপ্ন হোল চুরমার ।
রাসবিহারীতে অমিত ভালই আছে ;
ওদের বহু স্মৃতির পৈতৃক বাড়িটা বিক্রি হয়ে গেছে ।
সময়ের হাতের তালুতে সবাই আছি, যে যার মতন
মাঝে মাঝে যখন পশ্চিমের সূর্য দেখি খুব একা লাগে।
আরতো সেই দশম ফলস, পাঁচমাড়ি। খাজুরাহ, মার্বেলরক
বেতলা ফরেস্টে হারিয়ে যাওয়া হবেনা তাইতো ?
নর্মদার উত্তাল স্রোতে উদোম স্নান এখন স্মৃতি ।


সেসব দিন ফিরে পাবনা জানি,
কিন্ত যা পেতে পারতাম । যেটা তুই পারতিস ...
দশপাহাড়  পেড়িয়ে সেই অচেনা গ্রাম
যেতেই পারতাম... দেখতেই পারতাম... সকলে মিলে ।
ডাক দেনা বন্ধু আবার, সবাই মিলে যাই ।