চর্যপদের আধুনিক রূপ : নাচে চর্যাসুন্দরী
মূল :
চর্যার কবিগণ / /
আধুনিক কবিতা ও গদ্য রূপ:
আজাদ বঙ্গবাসী //
বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন
চর্যাপদ।
অনুমান করা হয় সংস্কৃত ভাষার এই
কবিতাগুলো ৬৫০ খ্রি. রচিত।
মহামোহপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, ১৯০৭
সালে নেপালের
রাজগ্রন্থাগারথেকে মহামূল্যবান এ
পদগুলো আবিষ্কার করেন
।"চর্য্যাচর্য্যবিনিশ্চ " থেকে তিনি এর
নাম
দেন চর্যাপদ। ১৯১৬ বঙগীয় সাহিত্য পরিষৎ
থেকে এ প্রাচীন পুঁথিটি "হাজার বছরের
পুরাণ
বাঙগলা ভাষার বৌদ্ধ গান ও দোহা "
নামে প্রকাশ করা হয়।এতে
সাড়ে ছেচল্লিশটি পদের ২৪ জন পদ কর্তার
পরিচয় পাওয়া যায়।
।।
চর্যা ১, মূল : লুই।
আধুনিক কবিতা রূপ: আজাদ বঙ্গবাসী
এদেহ যদি গাছ ভাবি পাঁচটি তার ডাল
যে ডাল ধরে উথলি মনে প্রবেশ করে কাল।
মহাসুখ কিসে হয় জানতে যদি চাও লুই
বলে,
আগে গুরুর ছায়াতলে যাও। সুখের
পিছনে ছুটে গড় কত কি মরণ নিশ্চিত,
তবে কেন রঙিন পৃথিবী?
কু-ইন্দ্র, লোভ,
মোহ এসব তোমার না পেতে যদি চাও-
মানুষ জনম-তা। তাই ত বলে ধ্যন্থ লুই
বস্তুজগত ছেড়ে আমি- শূন্যতাকে ছুই।
।।
চর্যা ১, মূল: লুই,
আধুনিক গদ্য রূপ: আজাদ বঙ্গবাসী
দেহকে যদি একটি বৃক্ষের
সাথে তুলনা করা হয় তবে তার পাঁচটি ডাল
রয়েছে। এর যে কোন
একটি ব্যধিগ্রস্থ হলে দেহে কাল(ধ্বংস)
প্রবেশ করে। মনকে স্থির করে সুখের
পরিমাপ করেনাও।তাই কবি বলে, এজন্য
গুরুর
কাছে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। (নিজেক
জিজ্ঞাসা) মন, সব মানুষেরই কেন
সমাধি হয়? (তৃতীয় মনের উত্তর) সুখ
দুখে সবাইকে মরতে হবে এটাই মহাসত্য।
সবকিছু শূন্য বিলিন হয়। অতএব, নিজেকেও
শূন্য পক্ষেই বিড়াও। লুই বলে, আমি যখন
ধ্যান করি আমার শ্বাস প্রশ্বাস
এবংকি সমস্ত অস্তিত্বই মহাশূন্যতার
সাথে মিশে যায়।
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা:
মানব শরীরের পঞ্চ ইন্দ্রকে গাছের
পাঁচটি ডাল স্বরূপ
ভাবা হয়েছে ( পঞ্চইন্দ্র হল: চোখ, কান,
জিহ্বা,ঘাণ ও ত্বক)।
বস্তু জগতের চঞ্চলতা, সুখ -
আশা আকাঙ্ক্ষা বা মায়াময় পৃথিবীর
মোহ, ধ্বংশতা এই পঞ্চইদ্রিয় দ্বারা মানব
শরীরে প্রবেশ করে ।আর এইসব
থেকে বেঁচে থাকার একমাত্র সঠিক
পথটি দেখাতে পারে গুরু। তিনি ইদ্রসুখের
পথে না ছুটে সাধনার পথে মহাসুখের
পথটি দেখাতে পারেন। যেজন বুঝেছে গুরু
লুইপার কথা সেই মহানন্দের
পথে অগ্রগামী হয়েছেন।
||
চর্যা : ২ , মূল : কুক্কুরী পা //
আধুনিক কবিতা রূপ : আজাদ বঙ্গবাসী
কচ্ছপের দুধে উপছে পড়ছে ভাড়
তাই তো গাছের তেঁতুলে খায় কুমিরে |
ওগো ধ্যানি - হৃদয় হলো ঘর
মাঝ রাতে কানের দুল চোরে নেয় তোর |
শ্বশুর ঘুমায় বউ জাগে
চোরে নিলে দুল কে তারে মাগে?
দিনে কাকের ভয় ঘোমটায় ঢাকে যারে
কামরূপী সে সে বধূই আবার চলে রাতের
অভিসারে |
ওকে? গোপনে যায় মিরনও মেলায়, তাই
তো কুক্কুরী পা গায়
কোটি হৃদয় হতে কেবল একটি হৃদয় এ জ্ঞান
বুঝিতে পায় |
||
চর্যা : ২ , মূল : কুক্কুরী পা //
আধুনিক গদ্যরূপ : আজাদ বঙ্গবাসী //
মহাসুখ উপছে পড়ছে সাধনা পূর্ণ হৃদয়ে ।
সংসার মোহে ডুবে মরছে শরীর
শোন ধ্যানী, দেহ একটি শূন্য ঘর।
সাধনা লাভের
নিশিতে শৃঙ্গারতা জাগালে কুলশিত হয়
আত্মা। সেই মোহাতুর নিস্বাস স্থির
হলে সাধক ধ্যানে জাগে। এমন সময়
কে তাকে বাধা দেবে। যে সাধক (বধু)
দিনে বেলা সামান্য কাককে ভয় পায়,
সে আবার ঠিকই রাতের
আধ্যাত্মে জেগে উঠছে। তাই
কুক্কুরিপা গানে গানে বলছেন, কোটি হৃদয়
হতে কেবল একজনটি হৃদয় এ জ্ঞান তত্ত্ব
বুঝতে পারে।
||
২নং চর্যার,
গদ্যরূপের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা :
দেহকে ভাড় এবং কচ্ছপের
দুধকে নৈরাত্মার উপস্থিতি বা সৃজনের
দান বা মহাসুখ এর উপসায় উপমিত
করা হলে কচ্ছপে দুধে উপছে পড়ছে অর্থ হয় :
সাধনা পূর্ণ হৃদয়ে মহাসুখ উগড়ে পড়ছে |
কুমীরকে দেহের লোভাতুর আত্মা আর
তেঁতুলকে সংসারের
মোহময়তা ভাবা হলে, গাছের তেঁতুল খায়
কুমীরে এর অর্থদাড়ায়: লোভাতুর
আত্মা সংসারে ডুবে মরে । যার
করণে সহজানন্দ লাভ করা সম্ভব হয় না।
শোনো ধ্যানী(সাধক), মানব দেহটা যেন
একটি শূন্য গৃহ |
(কানেট)কানের দুলকে বিবাহের প্রতিক
মনে করা হলেও; কানেট মানে দেহের
বিশুদ্ধ রূপে প্রতিক বা লোভহীন আত্মা।
যা চোরে নেয়। এখানে চোর
হলো কামরিটু।
মাঝরাতে দুল চোরে নেয়ার অর্থ হলো :
মধ্যরাতে কামরিপু লোভহীন
আত্মাকে কুলসিত করল।
শ্বশুরকে দেহের চঞ্চল নিশ্বাস আর
বধুকে সাধকের মন বা আত্মা ভাব হলে,
শ্বশুর ঘুমায় বধু জাগে এর অর্থ হলো: দেহর
কামান্ধ
নিশ্বাস স্থির হলে (ঘুমালে) সাধনার
বিশুদ্ধ আত্মা জেগে উঠছে। '
এমন সাধনার
রাতে কারো প্রতিবাদী হবার কথা নয় |
অথচ এ বধুটি সামান্য কাককেও
দেখা দিনে ভয় পায় | কিন্তু সাধনার সময়
সে ঠিকই জেগে উঠে। তাই
কিক্কুরী পা গানে গানে বলছে,
কে গো তুমি বধু নৈরাত্মার সাথে এমন
গোপন প্রেম কর? সে আরো বলছে,
কোটি জনের মধ্যে শুধুমাত্র একজন এ
তত্বজ্ঞানের কথা বুঝতে পারে |
পাঠকের চাহিদা অনুযায়ি বাকি পদগুলোর
অনুবাদ প্রকাশ করা হবে।
যোগাযোগ :
আজাদ বঙ্গবাসী:
০১৭২৭৫০১৬৭১ / ০১৮৩৬২১৬৩৬১
ই মেইল: abulkalamazad1288@gmail.com