কুশিয়ারা-
জানি, তুমি সেই ইক্ষুজল নদী
সীমান্তে পৌছেই জানান দিলে-
আমি এসেছি, চলবো নিরবধি।


রূপকথার গল্প তোমাতেই মানায়
সেই কবে এক দইওয়ালা
আমলকি খেয়ে
তেষ্টায় পান করেছিল তোমার জল।
আমলকি আর জলের মিশ্রনে
মিষ্টি হয়েছিল তার মুখ।
এ তোমার ক্যারিশমা ভেবে
আনন্দের আতিশয্যে বলে-
দইয়ের চেয়ে মিষ্টি তোমার জল।


গেঁয়ো গোয়ালার সেই বয়ান শুনি
মৃদু হাসলে তুমি ।
গর্বে ভরে গেল তোমার বুক
ভুলে গেলে তুমি ফেলে আসা তোমার
জীবনের যত শোক।
সেই থেকে-
কিংবদন্তি তোমার নামে যুক্ত,
তোমার জল দধির চেয়ে নাকি মিষ্ট।


সকল ঋতুতে তুমি বহমান
আপন গরিমায়।
কখনো চঞ্চল, কখনো খরস্রোতা
কখনো সহজ সরল গ্রাম্য বালিকা নুপুর বেঁধে পায়।
কখনো আবার বক্র হয়ে
তীর ভেঙে ছুটে চলো
আপন মহীমায় ।


দুইতীরে কত হাট-বাজার দিয়ে গেছো তুমি গড়ি
সারাদিন ছুটাও নৌকা
পারাপার,মাল বোঝাই; কিংবা-
নাইওরি ভেতরে ভরি।


উদাস হইলে তুমি কখনো ভেঙে ফেলো
দু’ধারের দুই পাড়
প্লাবন আসিলে দেখি দুকূল ভাসিয়ে
উর্বর করিতে আবার ধারোনা কারোই ধার
হয়তো খুঁজে নিতে প্রেমিকা তোমার।
তাই তুমি বাঁধনহারা
ইক্ষুজলের মিষ্টি বিতরণে ছুটে চলো-
তুমি দুর্বার কুশিয়ারা।