মানবের সৃষ্টি লগ্নে প্রকৃতিই ছিল আপন
জল জঙ্গলেই কাটত সময়, অজ্ঞানে করত যাপন
ধীরে ধীরে জেনেছে, হয়েছে অভিজ্ঞতায় পূর্ণ
কলস তার উঠেছে ভরে, বদলে গেছে শূন্য।


বদলেছে তার জীবন যাপন, নানা অভিঘাতে
শৃঙ্খলার বাঁধনে বাঁধতে তারে, নিয়ম নানা মতে
বুদ্ধি প্রকৃতির দান, সকলের নয় সমান  
সুযোগ পেয়েছিল যারা শিক্ষার; বুদ্ধিতে দিয়েছে শান।


অন্ধকারের সুবিধা অনেক; যেমন খুশি ভাবো
স্বার্থের জন্য দোহাই পেড়ে; যত খুশি নাবো  
পুরাকালে কতিপয় বুদ্ধিমান ; বুঝেছিলেন এর মর্ম
শৃঙ্খলার জন্য লাগিয়ে ছিলেন বীজ; নাম ধর্ম।  


আধিপত্য বিস্তারে নানা মতে ধর্মের সাতকাহন
শুরু হয়েছিল ভাগাভাগি, অমানবিক অ-সম ভাবনার স্থাপন  
ভয় ভরসার অজুহাতে;  ধর্মই হয়েছিল বাহন
শিক্ষার সুযোগ মুষ্ঠিমেয়র কুক্ষিগত, বাকিদের অপাংতেয় জীবন


বিভাজন হল মানুষে মানুষে, দুটো শ্রেণী
কর্মের ফল হয়নি সমান, গরীব এবং ধনী
গরীবের দায় ধর্মপালন;  ধনীর জন্য নয়
সকল ভালো; মন্দ; সুখ নাকি ধর্মেই হয়।
  
ধর্মের জন্য সৃষ্ট গরীব, অধর্মেই ধনী
ধনীর মান না রাখলে , গরীব মরবে জানি
কর্মফলে গরীব মরে, চিরকালের কথা
কয়ে গেছেন গুণী জনে, ধনীর রাখতে মাথা ।  


বাতাসে নড়ে বঞ্চনার কল, ধর্মের নয়
ধনীর হাতেই চাবিকাঠি, একথা জানে জগত ময়।


সোনারপুর
২০.০৭.২০১৯


বিঃ দ্রঃ
(কবিতাটি এই আসরের মান্যবর কবি শ্রীযুক্ত গোপাল চন্দ্র সরকার মহাশয়কে  উৎসর্গ করলাম। এই কবিতার শেষ দুটি স্তবক কবির পারানি কবিতায় ২০/৭/২০১৯ মন্তব্যে
লিখেছিলাম।)