কুয়াশাচ্ছন্ন ভোর বুকে কেমন আছো?
আমার দুঃখিনী বাংলার মেঠোপথ ;
কতোদিন হাঁটি না!
তোমার শরীরে এখনো বকুলের গন্ধ আছে?
দু’পাশের গাছগুলি কি ছোট হয়ে গেছে
আমাদের মতোন? ছায়া দিতে ভয় পায়
কিংবা একান্ত স্বার্থপর শুধু আপন ভূবন সাজায়;
দোয়েলের শিষ ধ্বনিতে
পবিত্র আত্মারা সব দল বেঁধে
বেরিয়ে আসে আগের মতোন আতর মেখে;
চন্দনের ফোঁটায় মুখশ্রী প্রদর্শনে
নন্দন কাননে সুন্দরী গৃহবধু
ধীর পায়ে হাঁটে রাজহংসী চালে;
শালিকের বেশে পাঁচিলে সন্ধ্যা নেমে আসে ;
আমাদের উঠোনে উঠোনে
এখনো কি চড়ুই আহার খোঁজে পড়ন্ত দুপুরে ?
মায়েরা ভাত মেখে খোকনকে ডাকে-
“খোকন খোকন ডাক পাড়ি,
  খোকন মোদের কার বাড়ি।
  আয়রে খোকন ঘরে আয়,
দুধ মাখা ভাত কাকে খায়।’
কাকের কর্কশ স্বরে অমঙ্গল নেমে আসে
এই ভয়ে বোনেরা ভাত ছিটে দেয় চালায়;
এই শহুরে সভ্যতায় আমাদের বড় ক্লান্ত দেখায়;
বাবুই পাখির বাসার মতোন
জীবনের বুনন অতটা নিখুঁত নয়
তবুও আমাদের সংসারে সংসারে
ঝুলে থাকতে হয় রোদ বৃষ্টি ঝড় ঝঞ্ঝায়।