: কেন করলেন এতোকিছু?
: ভয় নেই। আপনার একার জন্যে নয়।
: তাহলে?
: এমনি বলতে পারেন। পথে চলতেতো কতো কিছুই হয়।
: আমাকে ঋণী করলেন।
: হা হা হা। নাহ। ভুল ভাবছেন।
: অজস্র ধন্যবাদ।
: এতো ভেবে কী লাভ? ভুলে যান।
: আজকের আকাশটা খুব মেঘলা। তাইনা?
: কই? চারিদিকে রোদ ঝলমলে দিন। আলোয় ভাসছে আদিগন্ত। আপনি দেখতে পাচ্ছেন
  না?
: আপনি কি পাগল হয়ে গেলেন?
: একদম না। আমি ঠিক দেখতে পাচ্ছি। "আলো আমার আলো, ওগো আলোয় ভুবন-
  ভরা"।
: আপনি ভুল দেখছেন।
: না।
: হ্যাঁ।
: হা হা হা। No madam.
: হ্যাঁ। হ্যাঁ.. হ্যাঁ.. হ্যাঁ..।
: আপনি রেগে যাচ্ছেন।
: না... মানে, হ্যাঁ। আমি দুঃখিত।
: ব্যাপার নাহ।
: কি?
: কিছুনা। ডাব খাবেন?
: আপনি মজা করছেন?
: না। তাহলে.., চারটে ডাল-ভাত? এই কাছের কোন সস্তার হোটেলে?
: আপনি আমাকে আবারো লজ্জিত করছেন মি. .....
: শব্দ। আমার নাম শব্দ।
: আপনার নাম?
: কি লাভ জেনে? আর তো আমাদের দেখা হচ্ছেনা। হয়তো কোনদিনও না।
: হবে।
: নাহ।
: আমি জানি। দেখা হবে।
: কি করে জানলেন?
: এমনি। আমার মনে হয়।
: আমার নাম কথা। কথা আহসান।


শব্দ: কথা। বাহ। পাশাপাশি মিলিয়ে
দেখা যাক। শব্দ-কথা। কি আশ্চর্য combination ! তাইনা?
কথা: কি? ধ্যাত। বলছেন না কেন?
শব্দ: কিছুনা। এমনি। ওই যে, মনে হয় আপনার বাহন এসে গেছে। হর্ন বাজিয়ে ডাকছে-
      আপনাকে।
কথা: কি করে বুঝলেন ওটা আমার বাহন? ওটা কি একটা রক্তলাল রংয়ের Sedan?
শব্দ: হ্যাঁ। সেরকমই তো দেখতে পাচ্ছি। তাহলে এবার বিদায়। ভালো থাকবেন। আর-
      একটা কথা। সবসময় জানবেন, বেঁচে থাকাতেই আনন্দ। বাঁচুন প্রাণ ভরে, বুক ভরে।
কথা: হুম। আবার কবে দেখা হবে?
শব্দ: হবেনা।
কথা: কি! কিন্তু আপনিতো....!
শব্দ: হ্যাঁ জানি। বলেছিলাম দেখা হবে। কিন্তু আমি চাইনা...
কথা: কি? দয়া করে বলুন, কি?
শব্দ: আমি চাইনা, নতুন জীবনে আপনি পরমননির্ভরশীল হয়ে বাঁচুন।
কথা: হুম! হয়তো ঠিকই বলছেন আপনি। তবুও আজকের এই বন্ধুত্বটুকু, এটুকুতো
       থাকতেই পারে।
শব্দ: না। তা হওয়ার নয়। আমাদের এই মুহূর্তটুকু বেঁচে থাকুক মনেমনে? সংগোপনে।
      আপনি গাড়িতে উঠে বসুন। চলুন, আপনাকে এগিয়ে দিয়ে আসি।
কথা: শব্দ..., বড় অদ্ভুত, খেয়ালি আপনার সবকিছু।
শব্দ: হা হা হা হা.. আপনি ভুল ভাবছেন।
কথা: এতোদিন ভুলে ভরা শব্দগুচ্ছের অতলে তলিয়ে ছিলাম। আজ সত্যিকারের
       একটা অভিধান খুঁজে পেয়েছি। শব্দ...
শব্দ: বলুন।
কথা: আমি কি এখানে আপনার পাশে আর কিছুক্ষণ বসতে পারি?
শব্দ: হুম। সানন্দে। আমি আপনাকে এদিকটায় আসতে সাহায্য করবো?
কথা: ধন্যবাদ। লেকের ওপাড়ে সূর্যটা নেমে গেলেই আমিও চলে যাবো। ভয় নেই।
       এরপর আর আপনাকে আর জ্বালাতন করতে আসবোনা।


তারপর ওরা দুজনে মহাসড়কের ধারে,
একটি লেকের পাশে বসে সূর্যাস্ত দেখতে লাগলো।
এদিকে কখন জানেনা, কথা-
শব্দের কাঁধে মাথা রেখে ঘুমে আচ্ছন্ন হলো।
লেকের আকাশে রাত নামছে।
দূরের বাড়িতে, রাস্তায় ল্যাম্পপোস্টে বৈদ্যুতিক আলোগুলি জ্বলে উঠেছে।
স্নিগ্ধ, শীতল বাতাসে যেন দুটি অচেনা হৃদয়,
আজ মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে।
শব্দের ভিতরে কথামালারা মুহুর্মুহু কাঁপন-
সুর হয়ে আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে।


কথা: শব্দ..
শব্দ: কি?
কথা: আমি মায়ের কাছে যেতে চাই।
শব্দ: চলুন। আপনাকে পৌঁছে দিয়ে আসি।
কথা: মা তো ওই আকাশে। অনেক
দিন আগেই তারা হয়ে গেছেন।
শব্দ: আমি দু:খিত।
কথা: ঠিক আছে। শব্দ..?
শব্দ: আপনি বসে থাকুন। উঠবেন
না। অনেকদিন ভালো করে ঘুমাইনি।


কথা আবারো ঘুমিয়ে পড়লো। এভাবেই কেটে গেলো অগুনতি মুহূর্ত।
শব্দ ভাবছে, সে এমন এক 'শব্দ', যে কখনও-
কোন বইতে লিপিবদ্ধ হয়নি। বাড়ি নেই, ঠিকানা নেই। যাযাবর।
যাযাবর কি বাঁধা পড়ে কোনদিন? শব্দ হাসছে। নি:শব্দে।
না জানি কতো সহস্র শব্দের জাল বুনে চলেছে মনে মনে।
শব্দ জানে, জেগে উঠে কথার খুব মন খারাপ হবে।
অভিমানে দুগাল গড়িয়ে বর্ষা নামবে।
কথা ভিজবে, একাকার হবে।
তবুও বেঁচে থাকবে। একসময় পায়ের তলায় ফের শুকনো শক্ত মাটি খুঁজে পাবে।
যাযাবর 'শব্দ' তখন বহুদূর। হাজার মানুষের ভীড়ে,
আজন্ম লালিত এক জাতিস্মরের, হারিয়ে যাওয়া কথামালার ছবি বুকে বয়ে বেড়াবে।


© সুব্রত ব্রহ্ম
ফেব্রুয়ারি ২০১৬ - আগস্ট ০৬, ২০১৮ইংঃ
ময়মনসিংহ।