শুনিয়াছি মরনের মাঝে আনন্দ-উৎসবের ডাক রবিবাবু নাকি দিয়াছিলেন বিংশশতকের প্রথমদিকে। এখন আমরা প্রায় শত-বৎসর পরে সেই আনন্দঘন অবস্থার চরমতম বিকাশ দেখিতেছি। প্রতিদিন হাজারো নতুন বিষয়বস্তুর সংযোজনায় সদ‍্য পুরাতন বিষয়গুলি ডাস্টবিনে ধুঁকিতেছে। অকাল দীপাবলি ঠিক না ভুল তাহা আলোচনা করিবার সময় আর কোনদিনই পাওয়া যাইবে না।


প্রথমবার: বিকেলবেলা বাজন শ্রাদ্ধ শুনিয়া ভাইরাসের দল হেঁচকি তুলিয়াছিলেন তুমুল


দ্বিতীয়বার: ভর-সন্ধ্যায় আতসবাজি ও শব্দবাজি যথাক্রমে দেখিয়া শুনিয়া ভাইরাস-দল আঁতকে ঘাপটি মারিয়াছেন  


ইহার পরে কী?... ... ...জাতি জানিতে চায়


জাতির বাপ-ঠাকুরদারা অতি দয়া করিয়া জানাইবেন


দেশ উদ্ধার করিবার জন‍্য অ-অ-অধীর অপেক্ষায় আবদ্ধ রহিয়াছি, বসিয়া-শুইয়া হাত-পা নিশপিশ করিতেছে।


তাহাছাড়া দূষণ নাকি কমিয়া যাইতেছে, খুবই দুঃখজনক ব‍্যাপার। এতদিন ধরিয়া দায়িত্ব সহকারে যাহার বৃদ্ধি ঘটানো হইল তাহা কমিয়া গেলে দুঃখু হইবে বইকি এবং এই দূষণ বৃদ্ধির দায়িত্ব আমাদেরই লইতে হইবে। লইয়াছি এবং কিছুটা বৃদ্ধি ঘটাইয়াছি অকাল দীপাবলির সৌজন্যে। পরবর্তী নির্দেশ পাইবা মাত্র আমরা আদা-জল খাইয়া দক্ষযজ্ঞে ঝাঁপ দিতে প্রস্তুত।


দেশকে আমরা বৌয়ের থেকেও বেশি ভালোবাসি, স্ত্রৈণরা কখনও এর অর্থ-ভাবার্থ-যথার্থ চাইলেও বুঝতে পারবেন না।


(জাতির বাপ-ঠাকুরদারা অন্তর্যামী। জনগণের যথারীতি সুড়সুড়ি রয়েছে, বেছে বেছে এমন বিষয়গুলি যখন বিশেষ মোড়কে সর্বোচ্চ নির্দেশ হয় তখন 'আহ্লাদে আটখানা' হয়, 'সোনায় সোহাগা' হয় 'আনন্দ আকাশে বাতাসে' হয়, বাপের বিয়ে হয়, ইত্যাদি ইত্যাদি হয়,  হয়)