সদ‍্য সমাপ্ত হওয়া করোনা'র আগমনী উৎসবের পর (উৎসব*) দেশে খাদ‍্যদ্রব‍্যের নাকি আকাল দেখা দিয়েছে। এবং এই উপলক্ষে নেতা-মন্ত্রীদের পোষ‍্যপুত্র-কন্যারা কালোবাজারি না বালবাজারি কি একটা শুরু করেছে বলে শোনা যাচ্ছে। এদিকে বাপের বিয়ে দেখা কিছু কোটিপতির লাডলা লাডলি বিদেশ থেকে আমদানি হয়ে বিশেষ সুবিধা প্রাপ্তিপূর্বক কোয়ারিন্টাইনের বদলে পার্কের হাওয়া যথাস্থানে লাগাচ্ছেন। তাছাড়া 'ফিস্টি', এলাকা-ক্রিকেট, তাস-মদের আসর বা কাছারি আনলিমিটেড চলছে যেহেতু তাঁরা শের যেহেতু ভাইরাস তাঁদেরকে ভয় পায়। কিছু বিখ্যাত স্ব-জীব হাত কিভাবে ধুতে হয় তা অদ্ভুত কেলি-কায়দায় প্রদর্শন করছেন (আগে হাত নয় অন্য কিছু ধুতেন হয়তো) যেন সদ্য হাত-ধোওয়া আবিষ্কার করেছেন এবং জগৎ এবিষয়ে একেবারেই আনাড়ি। আবার অসংখ্য বিখ্যাত সহ অখ্যাত প্রাণীরা জায়গা বিশেষ না পেয়ে বা অসুবিধা থাকায় সামাজিক গণমাধ্যমেই উৎপাতকার্য সেরে নিচ্ছেন এবং বাড়ি বাড়ি পোঁছে দিচ্ছেন উদম। অন‍্যদিকে, প্রাচীন ভারতীয় উৎকর্ষ তত্ত্বে অতিরিক্ত প্রচুর বিশ্বাসী প্রণাম ব‍্যাপক উৎসাহী প্রাণীকুলের  মাতব্বরগণ গোমূত্র গোবরের মধ্যে করোনা সহ ব‍্য‍স্ত-সমস্ত সমস্যার সমাধান পেয়েছেন। কেহবা পান ও আহার করিয়া আপাতত হাসপাতালে উর্দ্ধোগতির অপেক্ষা করিতেছেন। এও শোনা যাইতেছে আম্বানি আদানিরা খুব তাড়াতাড়িই বর্তমান ব‍্যবসা (?) ছাড়িয়া দিয়া গোয়ালঘর থুড়ি গোয়ালদোকান খুলিবেন মানে আয়ান ঘোষের সহোদর হইবেন দ্বাপর-কলি পাঞ্চ-যুগধর্ম মতে এবং আশা করা যায় ইহার ফলে অনতিকাল পরে পরেই পাঁচ ট্রিলিয়ন অর্থনীতির পোঁদ দেখিবো আমরা এবং এই দেশের জনগণ এই বর্ধিত অর্থের ভাগ-শালা পাইবেন সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ বিত্তশালী বা শালারা স্বেচ্ছা গরীবত্ব গ্রহন করিবেন একদা পিতামহ ভীষ্ম যাহা করিয়াছিলেন ধর্ম জয়তু ভবঃ উদ্দেশ্যে।


*(উৎসব: ঘন্টা-কাঁসর-ঢাক ইত্যাদি যে যা পেয়েছেন সহযোগে সূর্যাস্তের যৌন মুহূর্তে প্রতিনিধি মহাশয়ের পূর্বল্লেখিত ঘোষণা [প্ররোচনা?*] মাফিক সক্রিয় কর্মীদের করোনা প্রতিরোধমূলক কর্মযজ্ঞকে পাঁচমিনিট উৎসাহ ও ধন্যবাদ জ্ঞাপনের পরিবর্তে যে বাঁদরামো রামো রামো ও ছ‍্যাঁচড়ামোর কলাকৌশল পঞ্চাশ মিনিট ধরে চালিয়ে গেলেন এবং মিছিল করলেন দলীয় পতাকা সহযোগে দেশের মহৎ সন্তানেরা)


*[প্ররোচনা? কারণ, কতদূর সাড়া পাওয়া যাবে মানে দলের প্রতি এবং মাননীয় প্রতিনিধি মহাশয়ের প্রতি জনগণের মতিগতি কি তা জানবার এর চে ভালো সুযোগ আর কি হতে পারে। আর তা যদি না হবে, উনি বাড়িতে বসে কর্মরতদের উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করার কথা বলতে পারতেন যেহেতু প্রার্থনা ব‍্যাপারটা হিন্দুধর্মে অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ এবং একান্তে করতে হয় ব'লে করোনা প্রতিরোধের সঙ্গেও বেশ লাগসই। বলেননি। উনি এক ঢিলে অনেকগুলি পাখি মেরেছেন। কর্ণ অর্জুন সবাই কুর্নিশ করতেন নিশ্চিত। যাইহোক, তবে ভারতীয়রা বুঝিয়ে দিয়েছেন তারা কি জিনিস, কেমন বাজাতে পারেন, উৎসব ব‍্যাপারটাকে কিভাবে কতটা উৎকর্ষের জায়গায় নিয়ে যাওয়া যেতে পারে এবং সমুহ বিপদের মাঝেও কিভাবে দাঁত-কেলাতে হয়। কিছু 'কুলমার্তন্ড' মানে 'গোকুলের ষাঁঁড়' যাঁঁরা হঠাৎ করেই বাপের দশটা *** দেখে ফেলেছেন, এমনও ব‍্যক্ত করেছেন যে যেহেতু করোনা ভাইরাস ঐদিন বিকেল পাঁচটার পর মারা যাবে তাই প্রতিনিধি মহাশয় তাঁদের বিচিত্র চিৎকার মিছিল করতে বলেছিলেন]


সত্যি বলতে এইসব দেখে শুনে অধমের শিশ্ন দন্ড হয়ে যাচ্ছে। বসন্তদিনে এমন উত্তেজক চিত্র-বিচিত্র নাঙ্গা-বোরিয়ালিস দেখিলে মন্ত্রখিস্তি শুনিলে কার না যৌনতা পাইবে! বাদ-দিন রাত আল-ছাল। যাহা বলিবার, একান্ত বিনীত সনির্বন্ধ অনুরোধ রাষ্ট্র এবং জনগণ এই ভাইরাস ব‍্যাপারটা যদি শরীর এবং হৃদয় দিয়া বিবেচনা কাজকর্ম চতুরুচনা নিতম্বচনা করেন, ...। অন‍্যথায় ভাইরাস অনেককিছুই ছিঁড়িতে পারে