একি রূপ দেখি আজিকে তোমার, এতো দীনতা কী-সে বলো?
যত কিছু সব পাওয়ার আকুতি, সবই তো মিটানো হ’ল।
তবু কেন অশান্ত তুমি, মাৎসর্যে বিভোর!
কেন অবিচল মোহে তব চিত্ত দহে দাবাগ্নি সম নিরন্তর?


তব হৃদয়ের পুলক প্রয়াসে, আমি পাড়ি দিয়েছি প্রশান্ত;
দুর্গম গিরি মাড়িয়ে মাড়িয়েও থেকেছি আমি অক্লান্ত।
হিচাং পাহাড়ের পাদদেশ থেকে কঠিন শীতল হিমবাহ ঠেলে
উঠেছি পর্বত শিখরে,
ছিনিয়ে এনেছি লিওপার্ড প্লান্ট, তারা ভাইনের ফুল
তোমায় সাজাবো বলে।


তব হৃদয়ের পুলক প্রত্যাশে, আমি ঘুরেছি পূর্ব তিমুরে;
সামে উপত্যকার ঝর্ণা ধারায় খুঁজেছি ঝলক পলকে।
দেখেছি সেথায় রবির প্রভায় ঝর্ণার মিলন মেলা,
রংধনু সেথা অপরূপ সাজে সেজেছে অপর বেলা।
আমি তাও এনেছি তোমার জন্যে
সাত রং-এ তোমায় রাঙাবো বলে।


হৃদয় তোমার হরষিত দেখব বলে,
আমি ঘুরেছি ভিন দেশে নানা বেশে নানা ক্ষণে-
কখনও বা হিম শীতে জুরিখের লিমেট কিনারে কিম্বা বার্লিন প্রাচীরে,
কখনও বা আইফেল টাওয়ারের নিচে জনতার ভীড়ে,
কিম্বা রোম নগরীর মাঝ দিয়ে বয়ে চলা দিবার নদীর তীরে;  
আবার কখনও বা চির বসন্তের পাত্যায়া কূলে, স্বচ্ছ নীল জলে।


কখনও বা ছুটেছি গ্রীষ্মের সুতীব্র উষ্ণতায়-
আটলান্টিকের কূল ঘেঁষে ক্যাসাব্লাঙ্কা হতে রাবাতে,
কিম্বা মেকংএর পাড় ধরে ভিএঞ্চাং হতে শাবানাক্ষেতে;  
আবার কখনও বা ছুটে গেছি ইয়াঙ্গন হতে মাউবিনের নিভৃত পল্লীতে।
এ সকল  শুধু তোমার জন্যে, তুমি প্রসন্ন হবে বলে,
তবুও তুমি কেন বিষণ্ণ, বীভৎস মাৎসর্যে ভরা হৃদয় তোমার?