বসন্ত আসলো
কোকিল ডাকল
গাছে-গাছে নতুন পাতা, নতুন মুকুল, মনোমুগ্ধকর বাতাসে প্রাণ জুড়াল;
কিছুদিনের জন্য কবিতার সাথে বিচ্ছেদ ঘটে যাওয়া কবি আবার নতুন করে শব্দসম্ভার নিয়ে ফিরে আসলো।
আকাশে-বাতাসে একি আনন্দ!
এটাই বুঝি বসন্তের ছন্দ!
যে ছন্দের কাছে কবিতাও হার মানে,
যে ছন্দের সৌন্দর্যে কবিও ভুলে যায় কবিতা রচনার কলাকৌশল!
বসন্তের অনির্বচনীয় সৌন্দর্যকে শব্দ-জালে বাঁধতে কবিও ব্যর্থ,
বস্তুত কোনো কবিরই ক্ষমতা নেই বসন্তের নিঃসীম রূপকে সসীম শব্দ দিয়ে ধারণ করার, প্রকাশ করার-
বসন্তকে নিয়ে লেখা কবিতার তাই কখনো কমতি হয় না;
বসন্ত-প্রেমিকরা তাই নিত্যনতুন শব্দে-ছন্দে বসন্তকে তুলে ধরতে চেষ্টা করেন,
নতুনভাবে নিজেকে এবং ঋতুরাজকে আবিষ্কার করেন।
ঋতুরাজের এই মোহময়ী মহিমা কক্ষনো ফুরোয় না, ফুরাবে না,
বসন্ত নিরস-শুষ্ক হৃদয়ের মানুষকেও নতুন জীবনের রঙে রাঙিয়ে তাকে কবি বানাতে পারে-
বসন্ত আসলে তাই কোনো মানুষই মনমরা হয়ে থাকতে পারে না।
অশান্ত হৃদয়ে বসন্ত বিলাতে পারে সুগভীর প্রশান্তির পরশ,
মানুষকে মাতাতে পারে নতুন জীবনের গানে-
ঋতুরাজ বসন্তের এটাই তো সবচেয়ে বড় মাহাত্ম্য!
২১.০২.২০১৭