স্বাধীন হয়েছে দেশ
বহু বছর হ’ল শেষ ,
বছরের পর বছর আসে
সুদিন আসে না পাশে ,
ঘেরা তিমির, আশা মরা
অভাব ক্লিষ্ট দুঃখী তারা ।
ভুখা, অপুষ্টে শিশুর মৃত্যু
জাত-পাত সন্ত্রাসে ভীতু ,
নেতারা মসনদে বসে
সুখে মাতে উল্লাসে ।
তার, ঘর শতগুণে বৃদ্ধি
ধন ঠাঁসা, চৌকাঠ অব্দি ।
ডাকা চাতক, সুখ ভাবনায়
গরীব-দুখী জীবন কাটায় ।
কাজ নেই, নেই রোজগার ,
ঘরেতে আজ শূন্য খাবার !
বাঁচার তরে ব্যাপক অভাব
কে দেবে তার জবাব ?


আছে তীব্র ক্ষুধার তাড়া
নেতারা সব হাতপা ঝাড়া ,
হিত চিন্তা ছাড়িয়া সব
যেন রূপধরা স্বার্থ স্বভাব ;
চিন্তা শূন্য বসে আছে
ব্যস্ত সদা নিজের কাজে ৷
হাতে ধরা স্বাধীন সত্তা
কৈ দেশে ভালো নিরাপত্তা ?
চারিদিকে কত না অন্যায় হেন ,
নীরব দর্শক শাসক যেন ।
বর্তমানে চালক ঐ পাত্র ,
জ্ঞানে তাঁরা, অপটু মাত্র !
মানব চাহ, বুঝিতে চায় না -
বা, না বোঝায়- করে বাহানা ।
কারণটা কেবল তারই জানা !
না উচ্ছল মন, গঠন প্রবণতা
কর্ম সুরাহায় শূন্য ব্যাগ্রতা ,
কোন ব্যাকুলতার দর্শন নাই-
আমরা তার জবাব চাই ?


গঙ্গার জল বহিল মেলা
আরো বাড়ে দেশে ঝামেলা ,
ক্ষুধার জ্বালা- আগুন জ্বলা !
আদিখ্যেতা নেতার মেলা ।
ঠেলাঠেলি সব ছেড়ে -
কাজে চলো বেড়ে ;
তা’ যদি না চাও -
দেশবাসীকে জানাও ,
এসব কাজ তোমাদের নয় !
মিথ্যা করিছ কাল ক্ষয় ,
কেন নীচুতা, অধর্ম স্বভাব ?
আশঙ্কা দূর । চাই জবাব ।
জবাবে যদি না পাই উত্তর -
শুনে রাখ কথাটি- সত্বর ;
শীঘ্র উত্তরটি যেন পাই ,
তার সঠিক জবাব চাই ?


চেয়ে দেখ সারা বিশ্ব-
রাজনীতিতে কে কার শিষ্য
কোন্ নীতি শিখে কী ভাবে ?
উত্তম শাসন এনেছে ভবে ,
কি-কি করে, কি-কি সেরে
জেনে শুনে, মেনে গুণে
করছে যারা দেশ উন্নতি ?
ঐ নীতি নিয়ে দেশে তারা
ন্যাস্ত কাজে, পাগলপারা ,
জ্বালায় দীপ্ত জীবন জ্যোতি ৷
তাদের মত ধর মতি ।


বুদ্ধিতে যদি- হও ক্ষীণ-
চেয়ে দেখ পাশে চীন ,
চেয়ে দেখ কিউবা -
সাধারণ দেশ ভেনেজুয়েলা ,
উদাহরণ আছে আরো মেলা ৷
ছাড় এবার ছেলে খেলা !
গড়িয়ে গেছে অনেক বেলা ;
শক্ত হাতে ধরো হাল-
সে বুলি রটে, কাল-কাল ,
ডেকো না আর আকাল !
পারিতে হ’বে ইহাই ,
সবার আগে জবাব চাই ?


নেতার আদর্শ কর্ম মেনে
নেতারে সবে জানে গুণে
চরিত্র বুঝে আচরণ শুনে ;
সে পূজিত হ’বে জনে-জনে ৷
নেতা হবে সদাশয় মুনি
স্বার্থ ত্যাগী কর্মখানি ,
জনতার সখা ,তিনি সর্বদা
সুখেদুঃখে, সাথে আপদা ।
সেবাই ধর্ম পরম যাহাতক
নেতা হবে জনতার সেবক ,
আশা উদ্দম ভাবনা জাগাতে
আসিন পদে সততার সাথে ।
নেতা যদি চলে- মিথ্যা চালে ,
ছলে-বলে অথবা কৌশলে
জনতাকে দেয় ফাঁকি-
বুঝেছ কী ?অগ্রে কী বাকি !
তুমি জান সূক্ষ্মরূপে সব
কেন দেখাও মূঢ়তা হাবভাব !
হচ্ছো কেন দিশে হারা -
অসহায় জনতা যায় যে মারা !
দিশা দাও । কূল কিনারা ৷
বলা যে তোমায় চাই -
এর ও জবাব যেন পাই ?


দেশ আগে না নেতা ,
দেশের জন্য হয় সে নেতা
দেশই নেতার ভাগ্য বিধাতা ;
দেশ বাঁচিলে নেতার নাম-
দেশই নেতার পুণ্যধাম ৷
বাড়িবে আগে দেশ
তারপর নেতার বেশ ,
দেশ তার দরকারে আগে
দেশমাতা বলিদান মাঁগে !
নেতার আদর্শে দেশের মান
নেতাই করিবে তা’ই প্রমাণ ৷
আদর্শ নেতার মহানতা
স্মরণে গড়ে দেশ, জনতা ;
নেতা যে হয় রাষ্ট্রপিতা
সবার শ্রেষ্ঠ আসনটি পাতা ,
এখন দেখি যা সাদামাটা
মিথ্যা চালে মজে চালটা ,
বৃথা ঘোলাচ্ছে শুধু জলটা !
কাজে নড়ে না আজ কলটা ।
দেশের ইঞ্জিন হয়েছে বিকল
জিজ্ঞাসিছে সবে, কারণ সকল
দেখার কেহ- আগে যে নাই -
এর ও সঠিক জবাব চাই ?


কালো বাজারী, জোচ্চুরী
জাত-পাত নিয়ে মারামারি ,
বেকারী আর বেরোজগারী
পুঁজিপতির দাদাগিরি ,
এর ফাঁকে নেতারা আবার
ঘর ভরিতে লাগায় যোগাড় ;
করে কত তড়িঘড়ি
ভোগ বিলাসের ছড়াছড়ি ,
কালো ধন করে জড়ো
বিশাল বাড়ি বড়ো-বড়ো !
করিছে কত বাড়াবাড়ি
চ৷লায় তারা ভব্য গাড়ী ।
অপর দিকে উন্নতি ফিকে-
হাহাকার ওঠে চতুর্দিকে ,
বৃথা পয়সা ফোঁকে নেতা-
গরীবের নড়ে না, খুন্তি হাতা ;
নিঃস্ব- শূন্য পয়সা কড়ি
চড়ে না দু’বেলা চুলায় হাঁড়ি ,
খারাপ তাদের নক্ষত্র নাড়ি -
বাঁচার অধিকার নিচ্ছে কাড়ি ,
গরীবের কপালে জোটে দড়ি !


কোথাও করিলে ঘেরা-ঘেরি
ঘোড়ার খুরে দিচ্ছে মাড়ি ,
শাসক দল ঘোরায় ছড়ি -
আন্দোলনকারীর পিঠে বাড়ি ৷
অনেকের ভাঙে দাঁতের মাঢ়ী-
ফুটপাতে খায় গড়া-গড়ি
মুমূর্ষু সবের ছড়া-ছড়ি
বাঁধে তখন হুড়ো-হুড়ি ;
সাহায্যের নেই তড়ি-ঘড়ি
দেয় না তাদের ঔষধ বড়ি
সাধন বিহীন, এম্বুলেন্স গাড়ী !
নিশেধাজ্ঞা করে জারী
সবারে বাঁধে দিয়ে দড়ি !


এমন দেশে বসতবাটী
যারা হচ্ছে আসল খাঁটি ,
পদতলে নাই তাদের মাটি !
কালা কানুনের সীমা নাই ,
জবাব চাই ? জবাব চাই ?


(ইং-১৪-০৯-২০১৫-সোমবার)
*-ভারতে আগামী লোকসভার ভোট ১১ এপ্রিল-২০১৯ থেকে শুরু, তার-সফলতার কামনা করি ।