অনেকদিন পর আজ ছয় বন্ধুর দেখা,
প্রায় পঁচিশ বছর হবে হয়তো,
সবাই আজ কম বেশী পঞ্চাশ এর যুবক।


আমি ছাড়া সবাই থাকে দেশের বাইরে।
আমরা থাকতাম যাত্রাবাড়ীর ১০৭ নং  ওয়াস গলির ভাড়াটে হিসাবে,
অথচ সবাই মিলে প্রেমে পড়েছিলাম একজনেরই ।


বড়লোকের একমাত্র সুন্দরী মেয়ে।
নিজেদের দোতলা বাড়ীর বারান্দায় যখন সে দাড়াতো-
আমরা ছয়জনই  বস্তির লোভী  দরিদ্র বিড়ালের মতো-নির্লজ্জ ভাবে তাকাতাম  একসাথেই।
নিজেরাই ঠিক করে নিয়েছিলাম ছয়দিন ছয়জন আলাদা করে
তার বারান্দার উল্টোদিকে দাড়াবো,
আর একদিন সবাই মিলে একসাথে ।


ছয়জন  যখন একসাথে হতাম-
তখন‌ই বানিয়ে বানিয়ে সবাই বলতাম,
‘কার দিকে কিভাবে সে আজ তাকিয়েছিলো,
একটু হেসেছিলো,
আর কি কি কথা হয়েছে,
আরো কতো কি!
আমরা কিন্তু সবাই বুঝতাম,
সবই মিথ্যে কথা,
তবুও বিশ্বাস করে আনন্দ পেতাম ,
আবার মনে মনে হিংসেও করতাম।


সবাই মিলে রক্ত ছুয়ে শপথ নিয়েছিলাম,
আমরা একজন যদি তার প্রেমে সফল হই
তবে বাকী পাঁচজন তা মেনে নিবো।


ছয় বন্ধু যেদিন  দেখলাম তার বিয়ের জন্য
সাঁজানো রংগিন বাড়ীটি,
সেদিন সবাই মন কালো সারা রাত  ওয়াসার মাঠে  বসে আকাশ দেখেছি,
সারারাত কেউ বাড়ী ফিরিনি,
আর অসংখ্য সিগারেট টেনেছি,
দুঃখে গাজায়ও টান দিয়েছিলাম কয়েকবার,
একটা কথাও কেউ  কিন্তু বলিনি সেদিন।
কি এক কষ্ট, লজ্জা আর অভিমানে আর কোনদিন গলির  দোতালা বাড়ীটির দিকে আর কেউই তাকাইনি।


আজ আবারও আড্ডায় কি ভাবে যেনো তার কথা উঠলো,
আশ্চর্য , তিরিশ বছর পরেও একজন ও তার নাম ভুলিনি।
সবাই একসাথে হেসে উঠলাম এই কথা ভেবে।
আমার কাছে কেনো যেনো মনে হলো,
আমরা সবাই এখনো বুকের ভিতরে
সেই কষ্ট, লজ্জা আর অভিমান লুকিয়ে রেখেছি গোপনে।


গভীর রাতে পঞ্চাশ বছরের ছয় যুবক
তিরিশ বছর পর ওয়াসা গলির সেই দোতলা বাড়ীটির
ঠিক উল্টোদিকে দাড়িয়ে সিগারেট টানছে
আর বারান্দার দিকে তাকিয়ে কি যেনো ভাবছে সবাই।


সিগারেটর আগুন জোনাকির মত জ্বলছে আর নিভছে,
সবাই মিথ্যে চেষ্টা করছে
সেই কষ্ট, লজ্জা আর অভিমান
আজ এখানেই পুড়িয়ে রেখে যাবে,
আর টানবেনা ,
যদি পোড়া ছাইটুকু কখনো তার চোখে পড়ে।
—————————
রশিদ হারুন
০৭/০৯/২০১৯