জীবন নামের বহতা নদীর তীরে
আছড়ে পড়ে অসহিষ্ণুতার সারি সারি ঢেউ,
যে ঢেওয়ের পরপর ভয়ানক আঘাতে
ক্ষতবিক্ষত আমার মরিচিকায় ঘেরা আত্মা
-আমার আত্মার সেই ক্রন্দন তুমি শুনছো?
আমি আমার আত্মার আর্তনাদ লিখে চলি সাদা পাতায়।


যেদিন গোধূলি সন্ধ্যায় আমি সদ্য এসেছি
আমার মায়ের কোলজুড়ে,
সেদিন আমি কান পেতে শুনেছি এক অবলা নারীর আর্তনাদ,
আর সেই আর্তনাদেই কেটেছে আমার শৈশব,
আর সেই আর্তনাদের প্রতিশব্দ এখনোও
ভেসে আসে আমার কোমোল হৃদয়ের প্রতিটি রন্দ্রে রন্দ্রে।


যেদিন পাহাড়ি ঢলে ভেসে যায় কৃষকের ক্ষেত-খামার
আর টিনের ছাউনি দেওয়া ঘরবাড়ি,
যেদিন অত্যাচারী শাসকের বাহুবলের কাছে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে আমার ভাই
সেখানে এই মৃত্যুর সান্তনা কিইবা হতে পারে?
অথচ প্রতিটি অকাল মৃত্যুই আগুন ধরে আমার স্বত্তার  প্রতিটি শিরা উপশিরায়!


যেদিন ফেক্টরীর নিচে চাপা পড়ে আমার ভাই,
আর আগুনের লেলিহান শিখা পুড়িয়ে দেয়
আমার প্রিয়সীর  খোলা চুল,
সেদিন যদি শিল্পপতির টেবিলে রাখা গ্লাস পূর্ণ হয় লালবর্ণ অমীয় পানিতে-
সেদিন আমার কবিতার ছন্দরা করে বিদ্রোহ,
আর আমি হয়ে যাই নিস্তব্দ নির্বাক!


যেদিন মাফিয়া চক্রের ভয়ানক ছোবলে রাঙ্গা হয়ে ওঠে শীতলক্ষ্যা নদীর তীর,
আর যেখানে শিশুরা বস্তাবন্দী হয়ে পড়ে থাকে মাটির নিচে-:
আর যেদিন আমার মা বাবার আর্তনাদে ভারী
হয়ে ওঠে নিখিল ধরণী,
সেদিন আমার বিদ্রোহের কণাগুলো ফিরে পায় সজিবতা!
আর কলমের খোঁচানিতে পল্লবিত হয় এক রক্তাক্ত ইতিহাস!


যে আমি একদিন পত্রিকার ডাংগুলি আর কার্টুন নিয়ে পড়ে থাকতাম সারাটি দিন,
আজ সেই আমি যখন দেখি বিশ্বদিগন্ত কিংবা লালবর্ণের শিরনাম,
তখন আমার স্বপ্নের পৃথীবির মুখোশ খশে পড়ে আমার কল্পনার সুবিস্তৃত দিগন্তে,,
সেদিন আমি আমার বেঁচে থাকার অধীকার টুকু নিয়েও শংসয়ে ভূগি।


যে আমি একদিন শব্দের প্রাঞ্জলতা দিয়ে ভাস্বর করে তুলতাম রচনা,
আর যে কবিতার মহড়ায় উৎফুল্ল হয়ে থাকতো আমার হৃদয়,
আর যে হাত একদিন অত্যাচারী শাসকের মুখোশ খুলে দিতো,
আজ সেই হাত যদি শিকলাদ্ধ হয়-তাহলে আমার কল্পনার উর্বর ভূমিতে স্বপ্নের বীজবুনে কিইবা পেতে পারি?
অথচ আমার স্বপ্নের প্রতিটি ক্ষণ ছিলো প্রাচুর্যময়।
[email protected]
wnnbd.wordpress.com