চোকা(Choka):—


"চোকা" জাপানি একপ্রকার কাব্যরীতি, যার গঠন হলো ৫+৭ মাত্রায় যতো ইচ্ছে পদ নিয়ে শেষে আরেকটি পদ ৭ মাত্রায় থাকবে ৷ "তাকনা"(Tanka) হলো—(৫+৭)x২+৭ ৷
অর্থাৎ—
             ৫
             ৭
             ৫
             ৭
             ৭


উদাহরণ—


(ক)
প্রেমের জ্বালা-
হৃদয় করে কালা;
দিসনে মালা,
জোরসে দূরে পালা;
মার্ রে দ্বারে তালা ৷


(খ)
হৃদয়মাঝে-
রাত ও দিনে বাজে
ব্যথার বাঁশি;
তবুও ভাই হাসি!
প্রেমকে ছুঁড়ি লাজে ৷


(গ)
হৃদ সাগরে-
ঢেউ উঠেছে ভাই,
কূল হারিয়ে-
কোথায় পাবো ঠাঁই!
চতুরপাশে চাই ৷


এই উদাহরণের "তানকা"কে চোকা করতে যা প্রয়োজন হবে তা হলো সবগুলোকে এক করে আরো ৭ মাত্রার একটি পদ যোগ করে নিলেই হব ৷


"চোকা"—এর উদাহরণ:—


প্রেমের জ্বালা-
হৃদয় করে কালা;
দিসনে মালা,
জোরসে দূরে পালা;
মার্ রে দ্বারে তালা ৷
হৃদয়মাঝে-
রাত ও দিনে বাজে
ব্যথার বাঁশি;
তবুও ভাই হাসি!
প্রেমকে ছুঁড়ি লাজে ৷
হৃদ সাগরে-
ঢেউ উঠেছে ভাই,
কূল হারিয়ে-
কোথায় পাবো ঠাঁই!
চতুরপাশে চাই,
জীবন হলো ছাই ৷


"চোকা" এর পদ নির্দিষ্ট নয় ৷ এই উদাহরণের পদ ও মাত্রা হলো—


















জাপানি ছন্দ ও কাঠামো সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যা বলেছেন তা হলো—


"তাহাদের কবিতার ছন্দ একঘেয়ে, বিশেষ বৈচিত্র নাই ৷ তাহাতে মিলেরও কোনো লক্ষণ দেখি না, কেবল সরল মাত্রার নিয়ম আছে ৷"


প্রবোধচন্দ্র সেন বলেন—


"জাপানি ভাষায় পাঁচটিমাত্র স্বরর্বণ এবং সবগুলিই হ্রস্ব ৷ সে ভাষায় দীর্ঘস্বর নেই, রুদ্ধস্বরও নেই৷ তাছাড়া, জাপানি ভাষার সব ব্যঞ্জনবর্ণই স্বরান্ত, কোনো শব্দেই অ-স্বরান্ত ব্যঞ্জনধ্বনি নেই ৷ ফলে ও-ভাষায় স্বরান্ত বা হসন্ত কোনোপ্রকার রুদ্ধদল(closed Syllable) নেই ৷ মুক্তদলই(open syllable) ও-ভাষার একমাত্র সম্বল ৷"


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও প্রবোধ বাবুর আলোচনা থেকে আমার লেখা "তানকা" এবং সেই তানকাকে একত্র করে আরো ৭ মাত্রার পদ যোগ করে যে "চোকা" গঠন করলাম তা প্রকৃষ্ট উদাহরণ হয় নি ৷ তাই তাঁদের আলোচনা মতো "তানকা" লিখতে চেষ্টা করছি ৷


                    ভালোবাসাতে—
                   কীযে বড় যাতনা
                    প্রেমিকে জানে,
                  গোপনে তারা কাঁদে,
                 লোকেরা দেখে হাসে ৷


তো "চোকা"র নিয়ম উপরে বলা হয়েছে কাজেই  সেটির উদাহরণের পুনরাবৃত্তি করছি না ৷


চোকার গঠন হবে— (৫+৭)xঅনির্দিষ্ট+৭ ৷


আশরাফুল ইসলাম
বড় ফেছি, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ, সিলেট ৷