আধুনিক মাত্রবৃত্ত বা নব্য-মাত্রাবৃত্ত বাংলা সাহিত্যের প্রধান কবি ছন্দোগুরু, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দান ৷ মাত্রাবৃত্তকে আমরা দুই ভাগে ভাগ করতে পারি ৷ ক) প্রত্ন-মাত্রাবৃত্ত  বা প্রাচীন মাত্রাবৃত্ত, খ) আধুনিক বা নব্য-মাত্রাবৃত্ত ৷ বাংলা ভাষার উচ্চারণে দীর্ঘস্বর নেই বললেই চলে তাই প্রত্ন-মাত্রাবৃত্তে সংস্কৃত ও প্রাকৃতের অনুসরণে লেখা হলে অনেকটা কৃত্রিম হয়ে ওঠে ৷ প্রত্নে রুদ্ধদল ও দীর্ঘস্বর দুই মাত্রা কিন্তু আধুনিক বা নব্য-মাত্রাবৃত্তে মুক্তদল সর্বত্র এক মাত্রা আর রুদ্ধদল দুই মাত্রা ৷ প্রত্ন-মাত্রাবৃত্তকে লঘু-গুরু রীতিও বলা হয় ৷ বাংলা কাব্যে এই আধুনিক মাত্রাবৃত্ত রবীন্দ্রনাথের দান ৷ শুধু তাই নয়, কবিগুরু বাংলা সাহিত্যে যুক্তবর্ণের ব্যবহারের যে লাতিত্য, মাধুর্য এবং কৌশল দিয়েছেন বিশেষ করে মাত্রাবৃত্তে তা ছান্দসিক মাত্রই জ্ঞাত ৷


                              —আশরাফুল ইসলাম